fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ফেরত সাত শ্রমিকের করোনা পজিটিভ

মিল্টন পাল,মালদা:- রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগে মালদায় ভিন রাজ্য ফেরত সাত শ্রমিকের করোনা পজেটিভ। সম্প্রতি আজমের থেকে শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার পর মালদায় করোনা পজেটিভ সাত জনের মধ্যে ধরা পড়ল বলে প্রশাসনের একটি সূত্রে এমনই খবর পাওয়া গিয়েছে। চাঁচোল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার আজমের ফেরত ৯৩ জন পরিযায়ী শ্রমিক এবং তীর্থযাত্রীদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাতেই শুক্রবার রাতে প্রথম দফায় চারজনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। শনিবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার ওই একই গ্রামের আরও তিনজনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। এনিয়ে মালদায় এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১০  বলে প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে এমনই খবর পাওয়া গিয়েছে।

এদিকে গত ৬ মে আজমের থেকে ২৭৯ জন দিনমজুর এবং তীর্থযাত্রীরা মালদায় ফিরেছিলেন। তাদের মালদা শহরের গৌড়কন্যা বাস টার্মিনাসে শারীরিক পরীক্ষা সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওইদিন পুলিশ , প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা তদারকিতে ছিলেন। তাদেরও এবার সোয়াব পরীক্ষার করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

এছাড়াও যে ক’জন সাংবাদিক ওইদিন খবর সংগ্রহের জন্য মালদা সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাসে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদেরও টেস্ট করা হতে পারে বলে প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে মালদায় মানিকচকে দুইজন  এবং রতুয়া থানা এলাকায় একজনের লালারসের সংগ্রহ করার পর করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছিল। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ভিন রাজ্য ফেরত এখনও পর্যন্ত শুধু হরিশ্চন্দ্রপুর সাতজনের করোনা পজেটিভ মিলেছে বলে একটি সূত্রে খবর।

এই ঘটনায় টনক নড়িয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ, প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য কর্তাদের ওইদিন আজমের ফেরত শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে যারা প্রশাসন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা সহযোগিতা করেছিলেন এমনই কুড়িজন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।

প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের করোনায় আক্রান্তদের বিস্তারিত বিবরণ এখনও পাওয়া যায়নি।

মালদা জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে এদের চিহ্নিত করে তাঁদের কোভিড হাসপাতালে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সামিম শেখ জানান, রাজ্য সরকার শ্রমিকদের নিয়ে এসে সরকারি কোয়ারেন্টাইনে না রেখে হোম কোরেন্টাইনে রাখায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এদিন থেকে আমরা মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করছি। যাতে মানুষ সচেতন হয়। না হলে মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। দ্রুত এবার প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।

এদিকে, মানিকচক ও রতুয়াকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, তার বাইরে হরিশ্চন্দ্রপুরে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য কর্তারা। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য দফতরের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় নতুন করে করোনা পজিটিভ পাওয়া যাওয়াতে এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা গিয়েছে। এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক ও রাজ্যে বসবাসকারীদের অবাধে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় ঢোকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ওপর চরম ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর।

Related Articles

Back to top button
Close