fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিঃসঙ্গতা কাটাতে ছত্রিশের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেন বাহাত্তরের বৃদ্ধ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বয়স তো শুধু সংখ্যা মাত্র, বয়স যাই হোক না কেন, বিয়ে হল সবসময়ের জন্য বন্ধু পাওয়ার একটা পন্থা।বিয়ে মানেই শারীরিক চাহিদা পূরণ করা নয়, বিয়ে হচ্ছে একটা ভালোবাসার অটুট বন্ধন।বিয়ে হচ্ছে একটি সেতু যা  দুটি ভিন্ন মানুষকে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব-বিশ্বাস-ভালোবাসার বন্ধনে আস্টেপিস্টে বেঁধে রাখে। নিঃশর্ত এক বন্ধুকে পাশে পাওয়া। দু’টো মানুষে সুখ-দুঃখ, দোষ-গুনকে পরস্পরের করে নেওয়া।  বিয়ে মানে প্রখর গ্রীষ্মের বন্ধকে ছায়া দেওয়া আবার প্রয়োজনে বন্ধুর ছায়াতে কাটিয়ে দেওয়া। আর এই সেতুর ওপর ভর করেই বাহাত্তরের সঙ্গে গাঁটছড়া ছত্রিশের। অনেকে নানা কুমন্তব্য করেছেন। তবে তাঁর সিদ্ধান্ত বদলায়নি। নিঃসঙ্গতা কাটাতে ৭২ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন শ্রীরামপুরের বড়বাগানের বাসিন্দা, কলেজ শিক্ষক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ।

প্রেমের সম্পর্কে বাঁধা পড়ে বিয়ে নয়। বরং রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে, দেখে শুনে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন দু’জনে। আইনি বিয়ে আগেই হয়ে গিয়েছিল। গত সোমবার সামাজিক বিয়ে সারলেন বছর বাহাত্তরের শ্রীরামপুরের বড়বাগানের বাসিন্দা পেশায় কলেজ শিক্ষক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বয়স যে কোনও সমস্যাই নয়, তা প্রমাণ করলেন ওই বৃদ্ধ। সমাজের বাঁকা কথাকে হজম করে নিজেদের ইচ্ছাপূরণ হওয়ায় বেজায় খুশি নবদম্পতি। কয়েক মাস আগে তিনি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপ‌ন দেন। বিজ্ঞাপ‌নের সূত্রে রিষড়ার বাসিন্দা ইরা রায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়। গত ২৭ জুলাই রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন। সোমবার সমরেন্দ্রবাবুর ফ্ল্যাটে সামাজিক বিয়ে হল। পুরুষ পুরোহিত নন, সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ করে বিয়ে দিলেন কবি মীনা রায়। সমরেন্দ্রবাবু বাইশ বছর রিষড়ার বিধানচন্দ্র কলেজে বাংলা পড়িয়েছেন। ২০০৮ সালে অবসর নেন। তার পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি পূর্ব বর্ধমানের কালনায় বেসরকারি বিএড কলেজের অধ্যক্ষ। স্ত্রী মারা গেছেন। মেয়ে বিদেশে থাকেন। ফলে তাঁকে একাই থাকতে হত।

দ্বিতীয়বার কেন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন সমরেন্দ্রবাবু? তিনি বলেন, “বয়স বাড়ছে। তাই অনেক বেশি নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে। হোম ডেলিভারির মাধ্যমে খাবার আনাতাম। লকডাউনের সময় খাবার পাইনি দু’দিন। এই সময় আমার কাছের মানুষ একজন পাশে থাকা খুব প্রয়োজন। তাই দ্বিতীয়বার বিয়ের সিদ্ধান্ত।” সদ্য বিবাহিত ইরা রায়ের অবশ্য বিয়েতেই আপত্তি ছিল। তিনি কোনওদিন বিয়ে করবেন না বলেই স্থির করেছিলেন। কিন্তু পরিজনদের জোরাজুরিতে ধনুকভাঙা পণ ত্যাগ করেন। তারপর স্থির করেন সমরেন্দ্রবাবুর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবেন। সেই অনুযায়ী বিয়েও সেরে ফেলেন দু’জনে। সাতপাকে বাঁধা পড়ে নবদম্পতি বেশ খুশি। তবে দ্বিতীয়বার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সমরেন্দ্রবাবু অনেকেরই বাঁকা কথা শুনতে হয়। তাই তাঁর একটাই আক্ষেপ সমাজ এখনও এগোয়নি। একজন স্বাধীন মানুষ কী করবেন আর কোনটা করবেন না, তা নিয়ে সকলে কেন এত মাতামাতি করে সে উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন: নীরবতার ক্যাম্পাসে লাগবে সুরের ছোঁয়া, ফের বাজবে কমিউনিটি রেডিওর তরঙ্গ, ৯০.৮ গিগাহার্জে ভাসবে যাদবপুর

অন্যদিক জানা গেল ইরার বয়স মাত্র ৩৬ বছর। তার বাবা মারা গিয়েছেন। মা-মেয়ের অনটনের সংসার। কলকাতায় একটি সংস্থায় কাজ করলেও বছর খানেক আগে সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যায়। ইরা বলেন, ”ভেবেছিলাম, বিয়ে করব না। এক আত্মীয় কাগজে বিজ্ঞাপনের কথা জানান। সব দেখে মনে হল, সুযোগ এসেছে, দেখি। এমন শিক্ষিত, রুচিশীল, মানুষই চেয়েছিলাম। আমি খুশি।” অনেকেই তাদের এই বিয়ে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। তবে অনেকে আবার অভিনন্দন ও জানাচ্ছেন। বেশ কিছু জন তার বিয়ে নিয়ে বেশ উচ্ছসিত। তারা বলেন যে বয়স্কদের এই একাকীত্ব সমস্যা অন্য বয়সের মানুষরা বুঝবেনা । অনেকেই এটাকে খারাপ চোখে দেখেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, মানুষ পাল্টাচ্ছে নিজের ধারণা কে। অনেকের উদাহরণ আমরা পাই এই ব্যাপারে। সমরেন্দ্র বাবুর এই সিদ্ধান্ত আরো এই নজির হয়ে থাকবে। পরে অনেকেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করবেন না।

বয়স্কদের মন, তাঁদের নিঃসঙ্গতা কাটানো নিয়ে কাজ করছেন অমিতাভ দে সরকার। সমরেন্দ্রবাবুর বিয়ের খবর শুনে তিনি উচ্ছ্বসিত। তাঁর কথায়, ”বয়স্কদের সমস্যা, একাকীত্ব বোঝার মানসিকতা আমাদের নেই। অনেকে এর ভুল ব্যাখ্যা করেন। তবে এই মানসিকতা বদলাচ্ছে। একাকীত্ব কাটাতে বয়স্ক মানুষজন নিজেদের মনের মতো সঙ্গী খুঁজছেন। এ ভাবে কেউ যদি ভাল থাকেন, জীবনে বাঁচার রসদ পান, তাতে অন্যদের আপত্তি কোথায়! এতে তো খুশি হওয়ারই কথা।”

 

 

Related Articles

Back to top button
Close