fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ধরলা নদীর জল বেড়ে প্লাবিত সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রাম

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: ধরলা নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয়ে পড়ল সীমান্ত গ্রাম গীতালদহের জারিধরলা ও দরিবস। বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষা ভারতীয় এই দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ জল বন্দি হয়ে পড়েছে। গত দুইদিন থেকে একটানা বৃষ্টির ফলে ধরলা নদী প্লাবিত হয়ে দুই গ্রামে জল ঢুকে পড়ে। প্রতিবছর বর্ষায় সীমান্ত এই দুই গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে। এর ফলে সমস্যায় পড়তে হয় বাসিন্দাদের। গ্রাম দুটি প্লাবিত হয়ে পড়লেও সরকারি সাহায্য সেভাবে না মেলায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে প্লাবিত ওই দুই গ্রামের মানুষের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাশাপাশি বিএসএফের পক্ষ থেকেও এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ওই দুই গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে বিএসএফের স্পিড বোর্ড করে সেখানে ছুটে যান দিনহাটা ১ ব্লকের বিডিও সৌভিক চন্দ, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কতৃপক্ষ ছাড়াও বিএসএফ আধিকারিকরা। নদী পার হয়ে প্লাবিত ওই দুই গ্রামে গিয়ে কথা বলেন বাসিন্দাদের সাথে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
গীতালদহ দুই গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে একটানা বৃষ্টির পাশাপাশি নদীর জল ও বৃষ্টির জলে এই দুই গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অধিকাংশ বাড়িতেই ঘরে জল ঢুকে পড়ে। দুই গ্রামে বহু বাড়িতে জল ঢুকে পড়ায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ প্লাবিত হয়ে পড়ে। দুই গ্রাম জল প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।


দুই গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ায় বেশিরভাগ বাড়িতেই ঘরে জল যেমন ঢুকে পড়েছে তেমনি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষির উপরে নির্ভরশীল এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে গবাদিপশুকে নিয়েও। সীমান্তঘেঁষা জল প্লাবিত ওই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের আলাউদ্দিন মিয়া, রাজকান্ত বর্মন, দিলীপ বর্মন, কার্তিক বর্মণ, আক্কাস মিয়া, তৈশা বর্মন প্রমুখ বলেন তাদের দুঃখের সীমা নেই। প্রতিবছর বৃষ্টিতে ধরলা নদীতে জল বাড়ার পাশাপাশি প্লাবিত হয়ে পড়ে তাদের দুই গ্রাম। নদীতে জল বাড়ায় বন্ধ হয়ে যায় নৌকা চলাচল। ফলে নদী পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গীতালদহ বাজারের সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে বর্ষার এই সময়ে জলমগ্ন অবস্থায় কঠিন সমস্যায় পড়তে হয়। রান্না করে খাওয়ার জায়গাটুকু থাকেনা। অধিকাংশ বাড়িতেই জল ঢুকে পড়ায় রান্নাবাড়ি ও বন্ধ হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সংকট। এলাকার কোথাও কোথাও পানীয় জলের কল জলের নিচে থাকায় দূষিত হয়ে পড়েছে সেই জল বলেও স্থানীয়রা জানান।

গীতালদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সংশ্লিষ্ট গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মনসুর আলী মিঞা বলেন একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় দুইটি গ্রামে প্লাবিত হয়ে পড়ে। দুই গ্রামের প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ বসবাস করলেও মাঝখানে ৯২৭ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় কিছুটা উঁচু ঢাকায় সেখানকার হাজার দুয়েক মানুষ সাময়িক রক্ষা পেলেও বাকি দুই গ্রামের অধিকাংশ এলাকায় প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে ফসলের যেমন ক্ষতি হয়েছে তেমনি জলমগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গোটা ঘটনা ব্লক প্রশাসনকে জানান হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দিনহাটা এক ব্লকের বিডিও সৌভিক চন্দ বলেন নদীর জল ও বৃষ্টির জলে অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও ওই দুই গ্রামে জল দাঁড়িয়ে পড়ে। জল প্লাবিত এলাকার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিডিও জানান গ্রামের বাসিন্দাদের প্রয়োজনে পঞ্চ ধবোজি এলাকায় ফ্লাড সেন্টারে আসার জন্য বলা হয়েছে। অবস্থা এর চেয়ে ভয়ানক হলে তাদেরকে সেখানে সরিয়ে নিয়ে আসা হবে।পাশাপাশি বি এস এফের সাথে কথা বলে এলাকায় সতর্কতা বাড়ান হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close