fbpx
কলকাতাদেশহেডলাইন

নবান্ন দখলের তালিকা চূড়ান্ত করবেন শাহ!

পঞ্চপান্ডবের রিপোর্টের দ ইকে তাকিয়ে আছেন আমিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একুশের মহারণে গেরুয়া জার্সিতে কারা ভোটের ময়দানে নামবেন তা নিয়ে এখন থেকেই উন্মাদনা তৈরি হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। তথ্যাভিঞ্জ মহল মনে করছেন একুশের লড়াইয়ের রাশ রয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে। আরও স্পষ্টভাবে বললে ‘ পঞ্চ পাণ্ডবের’ হাতে। জল্পনা একুশের লড়াইয়ের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে এঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই। আর সেই রিপোর্টে অনুযায়ী পাহাড় থেকে সাগর— বাংলার সব বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

প্রসঙ্গত গত লোকসভা নির্বাচনেও অমিত শাহ নিজে বাংলার প্রার্থী বাছাই করেছিলেন। তাতে ফলও পেয়েছিল বিজেপি। ১৮টি আসনে জয় বাংলায় বিজেপি-র অভূতপূর্ব সাফল্য হিসেবেই পরিগণিত হয়েছিল। তা ছাড়াও কয়েকটি আসনে হারের ব্যবধান ছিল খুবই কম। এ বার‌ বিধানসভা নির্বাচনেও সেই ‘পরীক্ষিত’ পথেই হাঁটতে চাইছেন অমিত। তবে নিশ্চিত ভাবেই সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তবে বিজেপির ‘ চাণক্য’ বাংলার নাড়ি নক্ষত্র অনেক ভালো জানেন। বাংলার রাজনৈতিক মহল মনে করছে একুশের যুদ্ধে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবেন অমিত শাহ।

নীলবাড়ি দখলের লক্ষ্যে মরিয়া গেরুয়া শিবির। সেই কারণেই বাংলাকে ৫ টি ভেঙে তাঁর ‘আস্থাভাজন’ ভিনরাজ্যের পাঁচ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন অমিত। বিজেপি এ বার ক্ষমতায় আসতে পারে ধরে নিয়ে অনেকেই প্রার্থী হতে চাইছেন। সব আসনেই আগ্রহীদের তালিকা বড়। সূত্রের খবর,এ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক শক্তির পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে আসন অনুযায়ী স্থানীয় ইস্যু, আবেগ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুরনো না নতুন,তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কার কতোটা জয়ের সম্ভাবনা, সেই বিষয়টি। সেক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের সুপারিশও ভাল ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত ১৮, ১৯, ২০ তারিখ হরিশ দ্বিবেদী ছাড়া বাকিরা নিজের নিজের জোনের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হরিশের পরিবর্তে উত্তর বঙ্গে বৈঠক করেছেন শাহ ঘনিষ্ঠ এ রাজ্যের নয়া কেন্দ্রীয় সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য। এঁদের প্রাথমিক রিপোর্ট শাহর কাছে জমাও পড়েছে। এ প্রসঙ্গে জনৈক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, রিপোর্ট দেওয়ার আগে শুধু রাজ্য বা জেলা নেতাদের কথার উপরে ভরসা না করে নীচু স্তরের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। কোন বুথে কতটা শক্তি, তা নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের দেওয়া পরিসংখ্যানের উপরেই শুধু নির্ভর না করে ‘গ্রাউন্ড রিয়েলিটি’ বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে ভোটের আগে ‘খামতি’ দূর করা যায়।

আরও পড়ুন: রাজ্যে আলুর দাম বাড়িয়ে সেই টাকায় ভোট করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস: সায়ন্তন বসু

সূত্রের খবর, শেষ বঙ্গ সফরে অমিত শাহ শুধুই মমতা-বিরোধিতা নয়, বরং বিজেপির পক্ষে ভোট করানোর জন্য মানুষের কাছে দলের গঠনমূলক নীতির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জনমুখী কেন্দ্রীয় প্রকল্প মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। সেই রূপরেখা তৈরির জন্য নির্বাচনের অনেক আগেই শহরের একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার রাতে বসল বিজেপির ইস্তাহার বিষয়ক কমিটি। ওই বৈঠকে ছিলেন ইস্তাহার বিষয়ক কমিটির সুভাষ সরকার, রন্তিদেব সেনগুপ্ত, অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় ও অসীম ঘোষ। হাজির হন ১৪ জন সাংসদ। রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় নেতৃত্বে বৈঠক হয়। বৈঠকে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নথিবদ্ধ করা হয়েছে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের অভাব-অভিযোগ।রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ডাক দিয়েছেন, সবাই মিলে লড়ব, সোনার বাংলা গড়ব। সংবিধান দিবসে নতুন কর্মসূচির সূচনা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘আমরা সবাই সাংসদ’। ‘আমাদের দিলীপদা’ ওয়েবসাইটে সরাসরি সমস্যার কথা বলতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

Related Articles

Back to top button
Close