fbpx
দেশবিনোদনহেডলাইন

বিদ্যা কসম শকুন্তলাদেবীজি

মনীষা ভট্টাচার্য: ১০০+১০০-১০০x১০০/১০০ =? খুব সহজ, একটু ভাবুন। আচ্ছা আরেকটা দিচ্ছি । ৮৮৮-এর মাঝে কি কি চিহ্ন বসালে উত্তর ৬ হবে ? কষুন উত্তরটা আর আনন্দে মনে মনে ভাবুন আপনিও সে হতে পারেন। এরকমই নানা সংখ্যার যোগ বিয়োগ গুন ভাগে ছোট থেকেই সংসার সামলেছে সে। নাচ, গান, নাটক এসবের জন্য মানুষ মঞ্চে ওঠে, কিন্তু সে সংখ্যা নিয়ে খেলতে মঞ্চে উঠেছে সারা জীবন। শকুন্তলা দেবী, হিউম্যান কম্পিউটর।

ভিন্ন বয়সের শকুন্তলা

যত বড় সংখ্যাই দেওয়াই হোক না কেন, সে এক নিমেষে সঠিক উত্তর দিয়ে দিতে পারে। এই জন্যই তাঁর নাম ওঠে গিনিস বুকে। কিন্তু তাঁর এই ক্ষমতা দেশে-বিদেশে প্রথমে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে সবাই দেখেছে। কেন? কারণ তিনি মেয়ে। যদিও পরে সমাদর জুটেছে বিস্তর। তারই মাঝে প্রেম এসেছে, বিয়ে হয়েছে, সন্তান এসেছে, জীবন পাল্টেছে। কিন্তু মানসিক শান্তি কতটা পেয়েছেন? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর উইকিপিডিয়া নয়, একমাত্র তিনিই দিতে পারতেন। অর্থ, নাম, যশ, খ্যাতি সবই ছিল, কিন্তু মাঝে মাঝেই মানুষের যে একটা আটপৌরে জীবন আছে তা তাঁকে ক্ষত বিক্ষত করেছে। কখনও মনে হয়েছে তিনি তাঁর মাকে বুঝতে পারেননি, আবার কখনও তিনি যেন মা হয়ে উঠতে পারেন নি-এই দ্বন্দ্ব জীবনের শেষে এসে ভেঙেছে, তাও বেশ নাটকীয় ভাবে।

আরও পড়ুন:করোনা মোকাবিলায় ভারতের সাফল্য, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ১০৫ বছরের বৃদ্ধা

অনু মেননের ‘শকুন্তলা দেবী’ বায়োপিক, তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে শকুন্তলা দেবীর জীবনের অনেকটাই ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। গণিতজ্ঞ শকুন্তলা আর মা শকুন্তলা এই দুই সত্ত্বার টানাপড়েন পর্দায় অনেকটাই মেলোড্রামাটিক। তবে শেষে মেয়ে অনুপমার চোখে শকুন্তলা নিছক গণিতজ্ঞ কিংবা আর পাঁচজন মা নন, হয়ে উঠেছেন এক নারী। সেই পরিচয়টাই বোধহয় কাঙ্খিত ছিল তাঁরও। কাঙ্খিত ছিল কারণ তিনি ছকে বাধা জীবন কাটাতে চাননি, কাটান নিও। চেয়েছিলেন তাঁর মতো নিজের মাও প্রশ্ন তুলুক তাঁর বাবার মুখের ওপর।

আগার ক্যালকাটা মে তুমহে রোক লিয়া তো…

১৯৩৪ সাল থেকে শুরু এ ছবি। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের স্থান পাল্টেছে আর তারই সঙ্গে পাল্টেছে চরিত্রদের পোশাক, ব্যবহৃত জিনিসপত্র। বিদ্যা বালানের অভিনয় দেখতে দেখতে মনে হয়েছে দর্শক সত্যি শকুন্তলা দেবীকেই দেখছেন। চরিত্রটা যে খুব এনজয় করে করেছেন তা তাঁর অভিনয়ে স্পষ্ট। জীবনের উত্থান-পতন সব রঙই সুন্দর ফুটেছে।

আরও পড়ুন:স্থিতিশীল ফুয়াদ হালিম, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন সিপিএম নেতা

মা-মেয়ে বুঝতে চাওয়া দুজনকে

শকুন্তলার দুষ্মন্ত পরিতোষ ব্যানার্জি অর্থাৎ যীশু সেনগুপ্তর যতটুকু স্ক্রিন প্রেজেন্স তাতে ভালোই লাগে। সচিন-জিগারের মিউজিক মনে থাকার মতো নয়। কিছু সিচুয়েশনকে তুলে ধরতে, অ্যাম্বিয়েন্সকে প্রতিষ্ঠা দিতে মিউজিকের যতটুকু প্রয়োজন হয়, তাই রয়েছে এই ছবিতে। সান্যা মালহোত্রা অনুপমার চরিত্রে যথেষ্ট স্বতঃফূর্ত। ছবিতে অমিত সাধও নজরে পড়বেন তাঁর অভিনয় গুণে।

ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আমিত সাধ, সান্যা মালহোত্রা ও প্রকাশ বেলওয়াদি

সমালোচনার উর্দ্ধে গিয়ে একদম শেষে এসে একটাই প্রশ্ন, এ ছবি দেখার পর ঠিক কী মনে হল? হিউম্যান কম্পিউটরের জীবন দেখলাম নাকি তাঁর কীর্তি? নাকি দুইয়ের মিশেলে ভুলে যাওয়া সেই নারীকে ফিরে পেলাম? ভাবুন। উত্তর বোধহয় আলাদা আলাদা হবে। বাই দ্যা ওয়ে, শুরুর উত্তর দুটো হল ১০০ এবং কিউব রুট ৮+কিউব রুট ৮+কিউব রুট ৮=৬।

Related Articles

Back to top button
Close