fbpx
কলকাতাহেডলাইন

গণতন্ত্রের লজ্জা, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চাইলে ওঁর সম্মানই বাড়বে, তোপ ধনকরের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: নাড্ডার কনভয়ে হামলা ইস্যুতে বিধানসভা ভোটের আগে আবারও রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে। কনভয়ে হামলা নিয়ে কেন্দ্রকে রিপোর্ট দিয়েছেন আগেই। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ‘ আমি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীরও সাংবিধানিক কর্তব্য রয়েছে। ওঁকে সংবিধান মেনে চলতেই হবে। আপনি সংবিধান থেকে সরলে আমার দায়িত্ব শুরু হবে।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠান রাজ্যপাল। সেই মতো সন্ধ্যা ৬টায় রাজভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র।কিন্তু মুখ্যসচিব এবং ডিজি ডায়মন্ড হারবারের ঘটনা নিয়ে তাঁকে কোনও তথ্যই দেননি বলে অভিযোগ করেন ধনকর। সেই নিয়ে কেন্দ্রকে রিপোর্ট দেওয়ার পর শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি থেকে দুর্নীতি, সব কিছুতেই রাজ্য সরকারের প্রশ্রয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাজভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে গণতন্ত্রের লজ্জা বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চাইলে তাঁর সম্মান বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার নাড্ডার কনভয়ে হামলা নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি যখন দিল্লি যাই, তখন ওরা আমার সঙ্গে কী করে? যখনই আমরা দিল্লি যাই, তখনই ওরা আমাদের ঘেরাও করে। বিজেপির র‍্যালিতে এমনিতে লোক হয় না। তাই মিডিয়ার লাইমলাইট ঘোরানোর জন্য এই কাজ করেছে। সবটাই নাটক।’

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করে রাজ্যপাল এদিন বলেন, ‘আমি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীরও সাংবিধানিক দায়িত্ব আছে। একজন দায়িত্বশীল মুখ্যমন্ত্রী কী করে এমন মন্তব্য করতে পারেন? কালকের হামলা গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জা। অবিলম্বে মন্তব্য প্রত্যাহার করুন মুখ্যমন্ত্রী। উনি ক্ষমা চাইলে ওঁর সম্মানই বাড়বে।’ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে নাড্ডার বার্তা, ‘ দয়া করে আগুন নিয়ে খেলবেন না। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে সতর্ক করা সত্ত্বেও রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। মুখ্যসচিব, ডিজিপিকে বলেছি এ এমন ঘটনা ঠিক নয়। মানবাধিকার দিবসে কী হল রাজ্যে।।ডায়মণ্ডহারবারের ঘটনা সংবিধানের পক্ষে অবমাননাকর।’

আরও  পড়ুন: মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় মূল চক্রী নাসির মণ্ডলকে গ্রেফতার করল সিআইডি

এই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে ও তোপ দেগে বলেন, ‘: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের আচরণ সংবিধানের পক্ষে অবমাননাকর।’ আমলাদের উদ্দেশ্যেও তোপ দেগেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘ রাজ্যের উপদেষ্টার কাজটা কী? অবসরের পরেও কেন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে? এডিজি আইনশৃঙ্খলা নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত।’ রাজ্যপাল বলেছেন, ‘ বিরোধীরা প্রতিবাদের জায়গাই পাচ্ছে না। নৃশংসভাবে বিরোধীদের কার্যকলাপ দমন করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট পাঠিয়েছি।’

এদিন রাজ্যপাল একটি টুইটও করেন। টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমি চিন্তিত। শাসকদলের হার্মাদরা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়ের হামলা করেছে।’ রাজ্যের পুলিশকে রাজনৈতিক পুলিশ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রসঙ্গত জেপি নাড্ডার রাজ্য সফরে বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার-কাণ্ড ঘটে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিরাকোলে নাড্ডার কনভয়ে বেপরোয়া হামলা চলে। একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর হয়। চোট পেয়েছেন বিজেপি নেতা আমি সাংবিধানিক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায় থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা-কর্মী। গাড়ির কাচ ভেঙে আহত হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী। হামলার দায় শাসক তৃণমূলের কাঁধেই চাপিয়েছে গেরুয়া শিবির। যদিও বিজেপির অভিযোগ নস্যাৎ করেছে তৃণমূল।

Related Articles

Back to top button
Close