fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

১০ কোটির ভিক্ষা চান না মতুয়ারা

রক্তিম দাশ, কলকাতা: একুশের ভোটের আগে মতুয়াদের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা নেহাতই রাজনৈতিক চমক। এমনটাই মনে করেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে কটাক্ষ করে বৃহস্পতিবার বনগাঁর এই বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘দিদির ১০ কোটি টাকার ভিক্ষা মতুয়ারা চান না। পারলে ওনি সিএএ-র সমর্থন করে তাকে দ্রুত লাগু করার ঘোষণা দিন।’ বুধবারই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী ঘস্না করেন, রাজ্যের মতুয়াদের উন্নয়নে একটি পৃথক পর্ষদ গঠন করা হবে। ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করেন।  গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, একুশের ভোটে অন্যতম ফ্যাক্টর হতে চলেছে মতুয়া সম্প্রদায়। কিন্তু সিএএ ইস্যুতে মতুয়াদের একটা বড় অংশই তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে। তাই এই ভোটব্যাংকে ধস আটকাতে একুশের নির্বাচনের আগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন মমতা।

 

পরিসংখ্যান বলছে, সমগ্র বাংলায় ৭০ টির অধিক বিধানসভা আসনে মতুয়া সমাজ নির্নায়ক শক্তি রূপে বরাবরই কাজ করে এসেছে। ২০১১-র বিধানসভা থেকে এই ভোট ব্যাংক শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আগত মতুয়াদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে গত ২০১৮-র লোকসভায় এই ভোট ব্যাংক প্রায় সবটাই চলে যায় বিজেপির দখলে। মতুয়া অধ্যুষিত দুটি লোকসভা কেন্দ্র বনগাঁ ও রানাঘাট তৃণমূলের হাত থেকে কেড়ে নেয় গেরুয়া শিবির। মতুয়াদের উন্নয়ণের একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েও এই ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে পারেনি তৃণমূল। বনগাঁ লোকসভায় ঠাকুরবাড়ি প্রতিনিধি তৃণমূলের সাংসদ থাকা মমতাবালা ঠাকুর হেরে যান তাঁর দেওর মমতা সরকারের প্রাক্তনমন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছেলে শান্তনু ঠাকুরের কাছে। এই পরাজয়ের পর থেকেই ঠাকুরবাড়ির রাজনীতিতে পটপরিবর্তন দেখা দেয়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনি বিল পাশ হওয়ার পরও এখন তা আইন রূপে লাগু না হওয়ার কারণে মতুয়াদের একাংশের ক্ষোভ বাড়ছে বিজেপির প্রতি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসন্ন বিধানসভা ভোটে মতুয়া ভোট ব্যাংককে পুনরায় নিজেদের দিকে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া তৃণমূল শিবির। তাই তৃণমূলনেত্রী মতুয়াদের উন্নয়ণে কল্পতরু হয়েছেন। মতুয়াদের শ্রদ্ধেয় বড়মা প্রয়াত বীনাপানি দেবির আবেগকেও তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বড়মার চিকিৎসার জন্য তৃণমূল সরকার কি করেছে তা মনে করিয়ে দিয়েছেন মতুয়াদের মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তাঁর সাফ কথা,‘ মুখ্যমন্ত্রী কি বলতে চাইছেন? আগে ওনি সিএএ-কে প্রকাশ্যে সমর্থন করে মতুয়া সহ ওপার থেকে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্বে দিতে মোদি সরকারকে বলুন। ভোট এলেই এসব প্রতিশ্রুতির ঘোষণা হয়। মতুয়ারা ১০ কোটি টাকা ভিক্ষে চাননা। তাঁরা নাগরিকত্ব চাই। আর আমদের উন্নয়ণ এতদিন হয়নি কেন? রাজ্য সরকার যখন ব্যর্থ তখন মতুয়াদের হাতে নিজেদের উন্নয়ণের ভার দেওয়া হোক। মতুয়ারা ভোটের আগে এসব চমক মানবে না।’

বড়মার চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শান্তনুবাবু। তিনি বলেন,‘ ওনি বড়মা চিকিৎসা করিয়েছেন ভাল কথা। তার পাশাপাশি ঠাকুরবাড়িতে রাজনীতি ঢুকিয়ে সর্বনাশ করেছেন। মতুয়াদের বিভক্ত করেছেন।  বড়মার মৃত্যু,কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের মৃত্যু সন্দেহজনক! এনিয়ে আমরা একদিন বিচার করবই। আমি আগেও বলেছি। মতুয়া ভোট নিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ। এটা সব রাজনৈতিকদলকেই বুঝতে হবে।’

মতুয়া ধর্মের প্রর্বতক হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে বিশ্ববিদ্যালয় হল না কেন তা নিয়ে সরব হয়েছেন অলইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক ডা.সুখেন গাইন। তিনি বলেন,‘ ২০১৮ এর ১৫ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন চাঁদপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে। এর আগে একই জায়গায় বাম আমলে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুও ঘোষণা করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের। শিলান্যাস হল কিন্তু দু’বছর হল বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি। মতুয়া-নমশুদ্রের জন্য উন্নয়ণ পর্ষদ আগেই হয়েছিল। আবার কেন? এসব ঘোষণাই হয় ভোটের জন্য। ভোটের পর সবাই ভুলে যায়।’

এদিকে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাজারহাটে মতুয়া মহাসংঘের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সহসভাপতি নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে মধাহ্ন ভোজন সারবেন কলকাতা সফরে আসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই অঞ্চলের একটি মতুয়া মন্দিরেও পুজা দেবেন তিনি। এই সময় তাঁর সঙ্গে থাকবেন শান্তনু ঠাকুর। সিএএ আইন লাগু করা নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মোদি সরকার এবং বিজেপির প্রতি মতুয়াদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানাবেন শান্তনু। দ্রুত এই আইন লাগু করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চাপ দেবেন মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি। এমনটাই ঠাকুরবাড়ি সূত্রের খবর।

Related Articles

Back to top button
Close