fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

শেখ হাসিনার মন্ত্রী-নেতাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়: রাণা দাশগুপ্ত

হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ, ঢাকা অভিমুখে লং মার্চের হুঁশিয়ারি

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: হিন্দুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের বিচারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না হিন্দুনেতারা। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে হিন্দুদের শীর্ষনেতা রাণা দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরকারের কোনও কোনও মন্ত্রী-নেতাকে আমাদের আর বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। কারণ তারা যা বলেন তা করেন না, যা করেন তা বলেন না।’

শনিবার সকালে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান কর্মসূচীতে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এদিন বাংলাদেশজুড়ে হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংগঠনটি।

রাণা দাশগুপ্ত বলেন, হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষায় আপনি  (শেখ হাসিনা) অনেকবার অনেক ভূমিকা রেখেছেন। উপর থেকে জল ফেলেছেন কিন্তু সেই জল নিচের দিকে দেখা আমরা পাইনি। কারণ আপনার দলের ভেতর দল আছে, আপনার প্রশাসনে পাকিস্তান আছে।

তিনি বলেন, ‘যে অত্যাচার নির্যাতনের কথা বলেছি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার চাই, তদন্ত চাই। যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে কঠোর শাস্তি দিক- এটি চাই। মিথ্যা অভিযোগে যারা গ্রেফতার তাদের কারাগার থেকে মুক্তি চাই। যারা হ্যাকার তাদের শাস্তির আওতায় আনা চাই। যদি যদি সরকার দাবি না মানে কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচী ঘোষণা করব। প্রয়োজনে লং মার্চের মতো কর্মসূচী দিব। পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাব।’

রাণা বাবু বলে, ‘দুঃখের সঙ্গে বলছি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনি আমাদের ঘনিষ্টজন। আপনার কাছে বছরে চার থেকে ছয়বার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংকট নিয়ে কথা বলি। আজকে যখন আপনি বলেন, বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। তাহলে হেফাজতে ইসলামের নেতাও কী বাড়িয়ে বলছেন?’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাধ্য হয়ে দেশের সকল সংখ্যালঘু সংগঠন বাধ্য হয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে। আমরা কখনও চাইনি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এদেশের সংখ্যালঘুরা সমঅধিকারের জন্য লড়াই করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে হুমকি দিয়েছে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে হিন্দু শূন্য করতে চায়। আজকে গোটা বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সংখ্যালঘু হতে পারে। গোটা বিশ্বে তারা সংখ্যালঘু নয়। একদেশের সংখ্যালঘুদের দুর্বল করে সমৃ্দ্ধি যেমন সম্ভব নয় আবার বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের দুর্বল করে অন্য দেশের সংখ্যালঘুরাও দুর্বল হবে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।

হিন্দু ঐক্য পরিষদের নেতা বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন হামলা নির্যাতন চালিয়ে সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করবেন আজকের সমাবেশ বলে দিচ্ছে যখনই হামলা নির্যাতন হবে তার প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াব। আমরা সাম্প্রদায়িকতাকে পরাভূত করে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে চাই।’

ঢাকার শাহবাগের সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, “আজকে গুটিকয়েক সাম্প্রদায়িক কারবারি দেশে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে । কারা এসব করছে সকলে জানেন। তারা এসব করছে এ সরকারকে ডোবানোর জন্য। সরকার যদি দেশের জঙ্গিবাদকে স্তব্ধ করে দিতে পারে তাহলে এই গুটিকয়েক লোক কেন অপকর্ম করতে সাহস পাবে? আমরা কি কেবল তাকিয়ে থাকব দাঁড়িয়ে থাকব?’

আরও পড়ুন: নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বাইডেনকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘যারা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য সরকারকে উৎখাত করা। সরকারকে বলছি, দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষবেন না। যখনই সুযোগ পাবে তখনই ছোবল দেবে। আমরা এই বাংলাকে কোনওভাবেই ইসলামিক রিপাবলিক রাষ্ট্র বা তালিবানি রাষ্ট্র করতে দেব না।’

Related Articles

Back to top button
Close