fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শিকেয় উঠেছে সামাজিক দূরত্ব, করোনা আবহ ও মহানন্দা প্লাবনে খোলা আকাশের নীচেই ঠাসাঠাসি করে আশ্রয় সর্বহারাদের

মিল্টন পাল,মালদা:  বর্ষার শুরুতে মালদা জেলার ফুলহার গঙ্গা মহানন্দা ফুঁসছে। ইতিমধ্যে মহানন্দার জল বাড়ায় মালদা শহরের সংলগ্ন কয়েকটি ওয়ার্ডের নদী তীরবর্তী বস্তি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই প্লাবিত এলাকার শতাধিক বাসিন্দাদের খোলা আকাশের নিচেই এখন ঠাসাঠাসি করে আশ্রয় নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ । যার কারণে করোণা সংক্রামণ পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।

ইংরেজবাজার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মহানন্দা নদী পাড়ের বসতি সংলগ্ন এলাকা জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে একশোরও বেশি পরিবার। নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে খোলা মাঠের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদা শহরের ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের। ওইসব ওয়ার্ডের মহানন্দা নদী সংলগ্ন বস্তি এলাকায় জল ঢুকে প্রচুর ঘরবাড়ি ডুবে গিয়েছে । দিনমজুর পরিবারগুলি এখন ঘর বাড়ির আসবাবপত্র সরিয়ে ফাঁকা মাঠেই আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছেন। যার ফলে করোনা সংক্রমণ নতুন করে ছড়ানোর আশঙ্কা করছে পুরসভা এবং প্রশাসন কর্তৃপক্ষ । এই পরিস্থিতিতে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে আশ্রয়ের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুরসভা এবং প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।

বুধবার সকালে ইংরেজবাজার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর থেকে শুরু করে কলোনি পর্যন্ত সমস্ত বস্তি এলাকায় মহানন্দা নদীর জল ঢুকে পড়েছে। ১০০ টি’র বেশি পরিবার জলমগ্ন হয়ে পড়ায়, নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন। ওইসব পরিবারের লোকেরি দিনমজুর এবং পরিচারিকার কাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে দারিদ্র্সীমার নিচে থাকার কারণেই তাঁরা এখন আশেপাশের খোলা মাঠেই আশ্রয় নিয়েছেন । কলোনি এলাকার মহানন্দা নদী পাড়ের বাসিন্দা দেবী সাহা বলেন,বাড়িতে নদীর জল ঢুকেছে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। আসবাবপত্র নিয়ে এখন খোলা মাঠেই পলিথিনের নীচে কোনরকমে বসবাস শুরু করেছি। নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কারণেই এখন মাঠে অনেকেই গাদাগাদি করে থাকছেন। এই অবস্থায় পুরসভা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে সচেতনতার বার্তা নিয়ে বেড়মজুর যুবকদল

১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ দাস বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যেই এখন স্থানীয় এলাকার নদীপাড়ের বাসিন্দাদের ঘরবাড়িতে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমান পুরসভা কর্তৃপক্ষকে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় কোনোও উদ্যোগ নিচ্ছে না। আমরা চাই প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক পুরসভা এবং প্রশাসন।

ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য বাবলা সরকার বলেন,  মহানন্দা নদী সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডের জলমগ্ন হওয়ার খবর শুনেছি । ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের আশেপাশে সরকারি স্কুলগুলিতে থাকার ব্যবস্থার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরসভার পক্ষ থেকেও ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সেচ দপ্তরের মহানন্দা ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদী পাড়ের অসংরক্ষিত জায়গায় বেআইনিভাবে মানুষ বসবাস করছে। ফি বছর নদীর জল বাড়লেই ওইসব এলাকা প্লাবিত হয়।  এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু করার নেই। মহানন্দা ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বদিরুদ্দীন শেখ জানান,নদীর জল বাড়ছে। তবে এখনো পর্যন্ত বন্যার কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয় নি। অসংরক্ষিত এলাকায় জল প্রতি বছর ঢোকে। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। মহানন্দা নদীর জল বাড়ছে। ঘটনার ওপর আমরা নজর রাখছি।

Related Articles

Back to top button
Close