fbpx
অসমখেলাফুটবলহেডলাইন

তরুণ সদস্যের অভাবে ভুগছে শিলচরের তরুণ সংঘ

তাজ উদ্দিন, শিলচর:  দেশ স্বাধীন হওয়ার এক বছর আগে ১৯৪৬ সালে গঠিত হয় শিলচরের অন্যতম পুরনো ক্লাব তরুণ সংঘ। কলেজ রোড এলাকায় তুষার কান্তি মজুমদারের বাড়িতে ক্লাব গঠনের প্রথম বৈঠক হয়েছিল। সেই সময় চন্দন চক্রবর্তী সহ বেশ কয়েকজন এই ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেন। যদিও অনেকের নামে আজ বিস্মৃতির আড়ালে চলে গেছে। ক্লাবের সবচেয়ে পুরনো নথি বলতে এ মুহূর্তে রয়েছে ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় আর্মি রিলিফ ফান্ডে ৩৩ টাকা দান করার রসিদ। সেই সময় ক্লাবের সচিব ছিলেন সুবোধ দেবরায়।

মূলত খেলাধুলাকে সামনে রেখেই তরুণ সংঘ গঠিত হয়েছিল। এছাড়া সেই সময়ে পাড়া ভিত্তিক সরস্বতী পুজো জনপ্রিয় ছিল। ক্লাবগুলি তাদের প্রতিমা নিয়ে হাতে টানা গাড়ি কিংবা গরুর গাড়িতে করে শহর পরিক্রমা করত। তরুণ সংঘের ছেলেরাও এরকম উদ্যোগে প্রথম সারিতে ছিল।

আসা যাক খেলাধুলা প্রসঙ্গে। আরও পাঁচটা ক্লাবের মতই তরুণ সংঘের খেলাধু্লো শুরু হয়েছিল ফুটবল দিয়ে। এলাকায় প্রচুর ফুটবলার ছিলেন। এদের মধ্যে শিশুতোষ বসাক ছিলেন অন্যতম পরিচিত মুখ। এখনও ক্লাবটি শিলচর ডি এস এ-র ফুটবল লিগে নিয়মিত অংশ নিয়ে থাকে। ২০১২ সালে তারা সুপার ডিভিশন ফুটবলের প্রথম মরশুমে অন্যতম দল ছিল। কিন্তু সেখান থেকে অবনমন ঘটে। এমনকি এ ডিভিশনেও বেশিদিন থাকতে পারেনি। ২০১৮-১৯ মরশুমে বি ডিভিশন চাম্পিয়ন হয়ে আগামীতে এ ডিভিশনে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে।

ক্রিকেটে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছে তরুণ সংঘ। এর আগে একটা কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন। তরুণ সংঘ কিন্তু শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাফিলিয়েশন নেয় অনেক দেরিতে। ১৯৭০-র দশকের শেষের দিকে। ১৯৭৮ সালে তারা সন অব ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে বি ডিভিশন ক্রিকেটের ফাইনালে জিতে এ ডিভিশনে জায়গা করে নেয়। ওই ম্যাচটি তিন দিনে তিনবার আয়োজিত হয়েছিল। একদিন খেলা টাই হয়, একদিন বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। তৃতীয় দিনে নতুন ম্যাচে জয় পায় তরুণ সংঘ।

এ ডিভিশনে ওঠার পর ১৯৮১ থেকে ‘৮৪ পর্যন্ত পরপর চারবার চ্যাম্পিয়ন হয় তরুণ সংঘ। এরপর বিরতি দিয়ে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত আরও চারবার জেলার সেরা দল হিসেবে ক্রিকেট মরশুম শেষ করে তারা। এই ক্লাবের হয়ে অমল দাস, সুজয় দত্তরায়, অভিজিৎ রায় চৌধুরী, কৃষ্ণ বাহাদুর ছেত্রী, সুবীর দত্তরায়, অজয় কুমার রায়, প্রসেনজিৎ ধর, অভিজিৎ চৌধুরী, শুভাশিস পাল চৌধুরী, অমিতাভ দত্ত, রাজীব দাস, রতন ঘোষ, শিবাশিস দত্তগুপ্ত সহ অনেক ক্রিকেটার সুনামের সঙ্গে খেলেছেন।

১৯৮০-র শুরুর দিকে সুধেন্দু পাল তরুণ সংঘের সচিব হন। মূলত তিনিই ক্লাবের ক্রিকেটে জোর দিয়েছিলেন। সুধেন্দু বাবু বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অজয় কুমার রায় রয়েছেন সচিব পদে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে টিকরবস্তি-অম্বিকাপুর এলাকার এই ক্লাবটিকে সত্তরের দশকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন সচিব মিহিরলাল রায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

শিলচরের ক্রীড়াঙ্গনে তরুণ সংঘ টিকে আছে ঠিকই, কিন্তু ক্লাবে তরুণ সদস্য বলতে এখন আর কেউ নেই। তরুণরা এগিয়ে না এলে ক্লাবটির ভবিষ্যৎ কিন্তু অন্ধকারের দিকে চলে যাবে।

Related Articles

Back to top button
Close