fbpx
দেশহেডলাইন

দিল্লি আদালতের মধ্যেই শুটআউট, মৃত তিন গ্যাংস্টার

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত , নয়া দিল্লি; একেবারে ফিল্মি কায়দায় দিল্লির রোহিণী জেলা আদালতের ভিতরেই শুটআউট! শুক্রবার দুপুরে কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দ্র গোগীকে আদালত কক্ষে গুলি করে হত্যা করে তার বিরুদ্ধ গোষ্ঠী। সেইসঙ্গে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে দুই দুষ্কৃতী। প্রায় কুড়ি রাউন্ড গুলির লড়াই চলে উভয়পক্ষের মধ্যে। বিচারকের থেকে মাত্র এক মিটার দূরে ছিল দুষ্কৃতীরা। মারাত্মক এই ঘটনায় আতঙ্কের পাশাপাশি উঠে আসছে অনেক প্রশ্ন। এই ঘটনায় কোর্টের ভিতরে নিরাপত্তার গাফিলতি প্রকট হল। সেইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, দুই দুষ্কৃতীকে পায়ে বা কোমরের নিচে গুলি না করে সরাসরি শরীরের উপরিভাগে গুলি করে পুলিশ হত্যা করল কেন?দুপুর তখন দেড়টা। মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগের মামলা তখন চলছে। এরপর ২০৭ নম্বর রুমে বিচারক গগন দীপ সিংয়ের এজলাসে হাজির করা হয় পঞ্চাশটি জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত জিতেন্দ্র গোগীকে। জিতেন্দ্রকে ধরার জন্য দিল্লি এবং হরিয়ানা পুলিশ যথাক্রমে চার লক্ষ এবং দুই লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। একাধিক খুনের আসামি জিতেন্দ্রকে কয়েক দিন আগে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। জিতেন্দ্রর সঙ্গে ছিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের বেশ কয়েকজন অফিসার। পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যেই জিতেন্দ্রকে হাজির করা হয় কোর্ট রুমে। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিল আইনজীবীর পোশাকে দুই দুষ্কৃতী । তাদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ।জিতেন্দ্র উইটনেস বক্সে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল থেকে তারা এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে জিতেন্দ্র। দুষ্কৃতীরা চেষ্টা করেছিল গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যাওয়ার। ঠিক তখনই প্রত্যাঘাত হানে দিল্লি পুলিশ। স্পেশাল সেলের আধিকারিকরা গুলি করে হত্যা করে  দুই দুষ্কৃতীকে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন মহিলা আইনজীবী। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে কোর্ট রুমের ভিতর প্রায় কুড়ি রাউন্ড গুলি চলে। রোহিণী জেলা আদালতের ২০৭ নম্বর ঘরে ঘটে যাওয়া এই তিনটি হত্যা নিয়ে বর্তমানে সরগরম রাজধানী।

পুলিশের পক্ষ থেকে দিল্লি পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্থানা জানিয়েছেন ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্ত করা হবে। কে বা কারা এই ঘটনার  সঙ্গে যুক্ত সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই মৃতদেহগুলিকে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে দিল্লি পুলিশের ফরেনসিক টিম। পুলিশের ধারণা জিতেন্দ্রর বিপক্ষ গোষ্ঠী টিল্লু গ‍্যাংয়ের দুষ্কৃতীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালতের ভিতরে দুষ্কৃতীদের গুলি করে মারার জন্য প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে তারা। তাদের বক্তব্য বিশেষ পরিস্থিতিতে গুলি চালাতে হলে নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ গুলি চালাবে কোমরের নিচে। কিন্তু স্পেশাল সেলের অফিসাররা সরাসরি মাথায় বা বুকে গুলি চালালেন কেন, তার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁরা। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সেই মুহূর্তে যদি দুই দুষ্কৃতীকে এনকাউন্টার করা না হতো তাহলে আরও বহু মানুষের হতাহত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কারণ দুষ্কৃতীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই গুলি লেগে আরও বহু আইনজীবী বা সাধারণ মানুষের আহত হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হত। সেই কারণে পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের বক্তব্যকে সমর্থন করছেন আদালতের সমস্ত আইনজীবী। নির্ভয়া কাণ্ডে বিরোধী পক্ষের আইনজীবী কে পি সিং জানান, “২০৯ নম্বর ঘরে আমার একটি মামলা ছিল। হঠাৎই গুলির শব্দ শুনি আমরা। ১৮ থেকে কুড়ি রাউন্ড গুলি চালানো হয়। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম আদালতে বোধহয় আতঙ্কবাদী হামলা চালানো হয়েছে। পরে জানতে পারি ২০৭ নম্বর ঘরে বিচারকের সামনে গুলির লড়াই চলে দুষ্কৃতী এবং পুলিশের মধ্যে। আমার প্রশ্ন, কীভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে দুই দুষ্কৃতী হাতিয়ার নিয়ে পৌঁছে গেল আদালতকক্ষের মধ্যে?  যদি পুলিশের যুক্তি আমরা মেনে নিই যে জিতেন্দ্রর সঙ্গে পুলিশের স্পেশাল টিম ছিল, তাহলে পুলিশ আগে থেকেই একটা ধারণা করেছিল এই ধরনের কোনও ঘটনা হতে পারে। তাহলে আগে থেকেই আদালত চত্বরে সুরক্ষার ব্যাপারে সতর্ক হয়নি কেন দিল্লি পুলিশ? আমাদের আইনজীবীদের বা বিচারকদের কি প্রাণের কোনও মূল্য নেই?”

একই প্রশ্ন তুললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী অঞ্জন দত্ত। অঞ্জনবাবুর সাফ কথা, “এই ঘটনা সম্পূর্ণভাবে ইন্টেলিজেন্স ফেলের পরিচয়। তবে কোর্টের ভিতরে সেই  সময় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তখন পুলিশের একমাত্র কর্তব্য ছিল কোর্টের ভিতরে থাকা বিচারক, আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষদের জীবন বাঁচানো। তাই ওই মুহূর্তে পুলিশের যেটা সঠিক মনে হয়েছে সেটাই তারা করেছে। কিন্তু দুষ্কৃতীরা যদি এভাবে অস্ত্র নিয়ে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কোর্টের ভিতরে পৌঁছে যেতে পারে, তাহলে সবার সুরক্ষা কোথায়? এক মারাত্মক দুষ্কৃতীকে যেদিন কোর্টে হাজির করা হবে, সেদিন পুলিশি পাহারায় এত ঢিলেঢালা থাকবে কেন? কীভাবে আইনজীবীর পোশাকে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা পৌঁছে যাবে আদালত কক্ষ পর্যন্ত?” এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close