fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

একগুচ্ছ নিয়ম মেনে আড়াই মাস পরে খুলে যাচ্ছে শপিং মল, হোটেল, রেস্তোরাঁ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  ‘আনলক-১’ পর্বে প্রায় আড়াই মাস পরে খুলে যাচ্ছে শপিং মল, হোটেল, রেস্তোরাঁ। তবে কনটেনমেন্ট জোনে কোনও হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল কিছুই খুলবে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছে মন্ত্রক। তার বাইরের বাফার জোন কিংবা গ্রিন জোনে খুলতে পারবে এগুলি। সেগুলির জন্যই বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়। তাতে অনেক বিধি নিষেধ লাগু করা হয়েছে।

আসুন দেখে নিই কী সেই নির্দেশিকা।

  • হোটেল ও রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে,

১। বেশি করে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ বসে খাওয়া কম, বাড়ি নিয়ে যাওয়া বেশি হবে। যদি রেস্তোরাঁর তরফে ডেলিভারি করা হয়, তাহলে ডেলিভারি যিনি করবেন, তিনি খাবারের প্যাকেট ক্রেতার দরজায় রেখে আসবেন। সরাসরি হাতে দেবেন না।

২। রেস্তোরাঁয় যত আসন, তার ৫০ শতাংশ সংখ্যক মানুষ বসে খেতে পারবেন একসঙ্গে। যে কোনও রেস্তোরাঁয় ঢোকার সময়ে হাত জীবাণুমুক্ত করা এবং থার্মাল স্ক্রিনিং করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৩। করোনার কোনও রকম উপসর্গ না থাকলে তবেই কাজ করতে বা খেতে আসা যাবে রেস্তোরাঁয়।

৪। মাস্ক পরে থাকলে তবেই রেস্তোরাঁয় ঢুকতে দেওয়া হবে। রেস্তোরাঁর ভেতরেও মাস্ক পরে থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্বের বিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য কর্তৃপক্ষকে কর্মীর ব্যবস্থা করতে হবে।

৫। রেস্তোরাঁর বিভিন্ন জায়গায় কোভিড ১৯ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম ও গাইডলাইন লেখা পোস্টার, ছবি সেঁটে রাখতে হবে, যাতে সকলেই দেখতে পান।

৬। যে সমস্ত রেস্তোরাঁ কর্মীর কোভিড ঝুঁকি বেশি, যেমন বয়স্ক বা অন্তঃসত্ত্বা কেউ, বা কেউ কোনও চিকিৎসার আওতায় আছেন– তাঁদের পক্ষে যতটা সম্ভব বাড়ি থেকে কাজ করা, ততটাই করতে হবে।

৭। পার্কিং লটে এবং রেস্তোরাঁর সামনের চত্বরে ভিড় সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরস্পরের সঙ্গে অন্তত ছ’ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পার্কিংয়ে যে কর্মী থাকবেন তাঁকে মাস্ক ও গ্লাভস পরে থাকতে হবে। গাড়ির দরজা, চাবি– এসব ব্যবহারের সময় স্যানিটাইজ় করতে হবে নিয়ম মেনে।

৮। ঢোকা এবং বেরোনোর আলাদা গেটের ব্যবস্থা করতে পারলে ভাল হয়।

৯।মেনুকার্ডগুলি ডিসপোজেবেল করতে হবে। অর্থাৎ একজন দেখার পরে যাতে ফেলে দেওয়া যায়। কাপড়ের ন্যাপকিনের বদলে পেপার ন্যাপকিন রাখতে হবে। বুঁফে সার্ভিস চললে সেখানেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ক্রস ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা রাখতে হবে রেস্তোরাঁয়। এসি চালাতে হবে ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উষ্ণতায়। বড় জমায়েত কোনও ভাবেই করা যাবে না। প্রয়োজনে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে চালু হল ‘৫ কোটি ম্যানগ্রোভ রোপন’ প্রকল্প

১০। নির্দিষ্ট সময় অন্তর হাত ধোয়ার বেসিন, শৌচালয়– সব স্যানিটাইজ করতে হবে।

১১। অনলাইনে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

১২। প্রত্যেক ক্রেতা খেয়ে ওঠার পরে টেবিল স্যানিটাইজ় করতে হবে।

১৩। কিচেনেও সামাজিক দূরত্বের বিধি ও স্যানিটাইজেশনের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

১৪। বাচ্চাদের খেলার জন্য কোনও জায়গা খোলা রাখা যাবে না।

  • শপিং মলের ক্ষেত্রে

১। শপিং মলের গেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হবে। যে সব ক্রেতার শরীরে কোনও উপসর্গ থাকবে না কেবল তাঁদের মলে ঢুকতে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ কারও শরীরে জ্বর, বা সর্দি-কাশি থাকলে তাঁকে কোনওভাবেই মলে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

২। মুখে মাস্ক পরা থাকলে বা মুখ কাপড় দিয়ে ভাল করে ঢাকা থাকলে তবেই মলে ঢুকতে দেওয়া যাবে। মলের ভিতরে কেউ যতক্ষণ থাকবেন, ততক্ষণই মাস্ক পরে থাকতে হবে।

৩। কোভিড প্রতিরোধের জন্য মানুষকে সতর্ক করার জন্য মলের ভিতরে ও বাইরে প্রচার চালাতে হবে।

৪। মলে একসঙ্গে অনেক ক্রেতা না ঢুকিয়ে, সংখ্যা বেঁধে দেওয়া ভাল।

৫। পুরো মলে যাতে সামাজিক সুরক্ষা বজায় থাকে, তা দেখতে হবে। প্রয়োজনে কর্মী নিয়োগ করতে হবে।  যে সব কর্মীর শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে, কিংবা যে কর্মীদের বয়স বেশি বা গর্ভবতী মহিলা কর্মীদের সরাসরি কাজে না রাখাই ভাল।

৬।মলের বাইরে ও পার্কিং লটে যথাযথ ভাবে ভিড় সামলাবার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে, সেই কাজে নিযুক্ত কর্মীদের মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরে থাকতে হবে। এছাড়া, স্টিয়ারিং, গিয়ার, গাড়ির দরজা, হ্যান্ডেল সবই জীবানুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৭। মলের মধ্যে সমস্ত দোকান ও ক্যাফেটেরিয়াকে সামাজিক দূরত্বের শর্ত মেনে কাজ করতে হবে।

৮। মলের মধ্যে কোনও দোকানের বাইরে ক্রেতাদের লাইন দিতে হলে সোশাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলতে হবে।

৯।ক্রেতা, কর্মী ও পণ্য সরবরাহকারীদের জন্য আলাদা আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ চিহ্নিত করে দিতে পারলে ভাল হয়।

১০। শপিং মলের কোনও কর্মী হোম ডেলিভারি দিতে যাওয়ার আগে তাঁর থার্মাল স্ক্রিনিং করতে হবে।

১১। বসার ব্যবস্থা থাকলে সেখানেও সোশাল ডিস্টেন্সিং মানতে হবে। বড় জমায়েত কোথাও করা যাবে না। লিফটে একসঙ্গে বেশি লোককে উঠতে দেওয়া যাবে না। লিফট জীবানুমুক্ত রাখতে হবে। এসকেলেটরে একধাপ অন্তর দাঁড়ানো ভাল।

১২। শপিং মলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলে তাপমাত্রা ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হবে। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে।

১৩। মলের মধ্যে সর্বদাই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। নিয়ম করে স্যানিটাইজ করতে হবে। বিশেষ করে খেয়াল রাখতে হবে শৌচাগার ও পানীয় জলের জায়গা।

আরও পড়ুন: প্রতিমার বায়না নিতে ভরসা পাচ্ছেন না চিনফেরত চায়না পাল

১৪। দরজার নব, লিফটের বাটন, এসেকেলটরের হ্যান্ডরেল, বেঞ্চ, ওয়াশরুম ইত্যাদি যে সব স্থানে মানুষ বেশি করে স্পর্শ করে, সেই জায়গাগুলি ১ শতাংশ হাইপোক্লোরাইট দিয়ে নিয়মিত জীবানুমুক্ত করতে হবে।

১৫। ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস ফেলার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে।

১৬। ফুড কোর্টে রেস্তোরাঁ কিংবা হোটেলের যে নিয়ম তা সবই মানতে হবে। উপরন্তু সেখানকার আসন সংখ্যার অর্ধেকেই ক্রেতাদের বসাতে হবে। বাকি আসন ফাঁকা থাকবে।

১৭। বাচ্চাদের জন্য গেমিং জোন ও প্লে এরিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।

১৮। মলের মধ্যে সিনেমা হল বন্ধ থাকবে।

১৯। মলের মধ্যে কোনও কর্মীর শরীরে যদি কোভিডের উপসর্গ দেখা দেয় বা পজিটিভ কেস পাওয়া যায়, তা হলে তাঁকে তৎক্ষণাৎ মলের মধ্যে একটি পৃথক ঘরে রাখতে হবে। এবং দ্রুত কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খবর দিতে হবে।

২০। কোনও ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেলে তাঁর কনট্যাক্ট ট্রেসিং করতে হবে এবং সম্পূর্ণ মল বন্ধ রেখে স্যানিটাইজ করতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close