fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কাটমানি চাওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই মেন্টর পদ থেকে ইস্তফা শুভাশিস পালের, আইওয়াশ বললেন বিজেপি সংসদ

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৬জুলাই: বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের মেন্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শুভাশিস পাল। একই সাথে ভাইরাল ভিডিও ক্লিপিং এডিট করা হয়েছে সেই দাবিও তুলে আইনের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুকে লাইভ করে এই বার্তা জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের মেন্টর শুভাশিস পাল। নিজের ইস্তফাপত্র এদিন ইমেইল করে পিএনআরডি দফতরে পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি। শুক্রবার জেলাশাসককেও পাঠাবেন ওই ইস্তফা পত্র। একই সাথে ভাইরাল হওয়া ভিডিও যদি ভুয়ো প্রমাণিত হয় তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শুভাশিসবাবু। এ বিষয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

যদিও এদিনের ঘটনাকে আই ওয়াশ বলেই দাবি করেছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন সোনা পাল তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছে। তৃণমূল থেকে তো সরে যাননি। এরপর আবার যে পদে আসবে সে একই কাজ করবে। এছাড়াও দুর্নীতিতে যুক্ত যেসব ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে ওই ভিডিওতে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুকান্তবাবু।

উল্লেখ্য, সরকারী প্রতিটি জনমুখী কাজে ঠিকাদার সংস্থার গুলির কাছ থেকে কাটমানি তোলার অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের মেন্টরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বালুরঘাটে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করে দুটি ভিডিও ক্লিপিং প্রকাশ্যে এনে এমনই দাবি করেছিলেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। বিজেপির প্রকাশিত ওই ভিডিওতে নির্মল বাংলা মিশন প্রকল্পের শৌচালয় তৈরিতে শতাংশ হারে কাটমানি আদায়ের দাবি জানিয়েছেন শুভাশিষ ওরফে সোনা পাল। শুধু তাই নয়, এর পিছনে তার উপর তলার সমস্ত লোকজন, বিডিও সহ সকলকেই আলাদাভাবে টাকা দিতে হয় বলেও উল্লেখ করেছেন সোনা।

যদিও প্রথম থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা সোনা। তিনি বলেন যে ভিডিও ক্লিপিং প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে কোথাও কাটমানির কথা উল্লেখ নেই। নোংরা রাজনীতি করছেন বিজেপি। এদিন ওই ভিডিও সত্যতা যাচাইয়ে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সোনা পাল।

এদিন ভিডিওবার্তায় তিনি জানিয়েছেন, তার মনে হয়েছে কোনও পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ফলে তিনি পদে থাকলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে সেই লক্ষ্যেই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি অর্পিতা ঘোষ জানিয়েছেন, তৃণমূল কখনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। একটা অভিযোগ উঠেছিল যে কারণেই তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ ভুল প্রমাণ করলে পুনরায় ভালো জায়গা দেওয়া হবে। তবে মিথ্যাবাদী বিজেপির কোনও কথা তারা শুনবেন না।

Related Articles

Back to top button
Close