fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সুদীপ্ত সেনের চিঠির সত্যতা যাচাই করতে সিবিআইকে চিঠি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কিছুদিন আগেই তৃণমূলের বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতা মন্ত্রীর নাম করে জেল থেকে পাঠানো সারদা কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের চিঠি শোরগোল ফেলে দিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। সেখানে সুজন চক্রবর্তী, অধীর চৌধুরী, বিমান বসুর সঙ্গে নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীরও। বাকি তিন নেতা এই চিঠি নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও এবার এই চিঠির সত্যতা জানার জন্য সিবিআই ডিরেক্টরকে চিঠি লিখলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাকে রাজনৈতিকভাবে কালিমালিপ্ত করার জন্যই ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর।

সিবিআই ডিরেক্টর কে পাঠানো ওই চিঠিতে শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, সারদা চিটফান্ড কর্তা সুদীপ্তর ওই চিঠি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে আমার ইস্তফার পরেই ওই চিঠি লেখা এবং মিডিয়ার হাতে তা পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাপ্রবাহ দেখেই আমার মনে ঘোর সন্দেহ হচ্ছে। আমার সন্দেহ, অতি প্রভাবশালীদের সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষ যোগসাজশ করে জোর করে সুদীপ্ত সেনকে দিয়ে ওই চিঠি লিখিয়েছে। সুতরাং ওই চিঠি যেন যথাযথ ভাবে তদন্ত করে দেখা হয়।

প্রসঙ্গত, রাজ্য মন্ত্রিসভা তথা সরকারের সমস্ত পদ থেকে ২৭ নভেম্বর ইস্তফা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর কেউ বলেছেন তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন আবার কেউ বলেছেন তিনি পৃথক রাজনৈতিক দল তৈরি করছেন। তিনি জানিয়েছিলেন ৬ ডিসেম্বর তিনি সব বলবেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করে এখনো শুভেন্দু অধিকারী তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেননি। কিন্তু তার মধ্যেই সারদা কেলেঙ্কারিতে অন্যতম অভিযুক্ত তথা কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের একটি চিঠি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল।

১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা সুদীপ্ত সেনের সেই চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল, তিনি সুজন চক্রবর্তীকে ৯ কোটি টাকা, শুভেন্দু অধিকারীকে ৬ কোটি টাকা, অধীর চৌধুরীকে ৬ কোটি টাকা ও বিমান বসুকে ২ কোটি টাকা দিয়েছিলেন ।

শুধু তা নয় , সুদীপ্ত ওই তথাকথিত প্রিসনার্স পিটিশনের শেষে এও লিখেছিলেন যে, ‘ যাঁরা উচ্চ নৈতিক অবস্থান নিয়ে রয়েছেন, তারা আসলে মানুষকে ঠকিয়েছেন, এখন বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন’।

৯ ডিসেম্বর তারিখ শীর্ষক সিবিআই ডিরেক্টরকে লেখা শুভেন্দু অধিকারীর চিঠি এদিন হাতে এসেছে সংবাদ মাধ্যমের। সেই চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, হয় সুদীপ্ত সেনের উপর প্রভাব খাটিয়ে জোর করে লেখানো হয়েছে, নয়তো সুদীপ্ত আরও অনেক তথ্য চেপে বসে আছে। তাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা ওই চিঠির সব দিক যেন তদন্ত করে দেখা হয়। কারণ এই চিঠিতে তৃণমূলের নেতৃত্ব বলে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য শুভেন্দু অধিকারী যিনি এখন তৃণমূলে আছেন কি নেই তা স্পষ্ট নয়। তবে খুব স্বাভাবিকভাবেই এই চিঠি আগামী রাজনৈতিক পথে বাধা হতে পারে শুভেন্দু অধিকারীর। যেহেতু এই সারদা মামলার তদন্ত চলছে, কোন পরিস্থিতিতে এতদিন বাদে এই নিয়ে চিঠি দিলেন সুদীপ্ত সেন, বিধানসভা ভোটের আগে এ ধরনের নাম উল্লেখ করে চিঠি পাঠানো এক কোনো প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে কিনা, তা সিবিআই ডিরেক্টরকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

Related Articles

Back to top button
Close