fbpx
কলকাতাহেডলাইন

তৃণমূলের প্রথম সমন্বয় কমিটির বৈঠকে জল্পনা উসকে নেই শুভেন্দু

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস দলের একনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সৈনিক তথা প্রথম সারির একজন ডাকসাইটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সাংগঠনিক রদবদল পর প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকে গরহাজির রইলেন শুভেন্দু। শনিবার তৃণমূল ভবনে করোনা আবহের মধ্যে মুখোমুখি প্রথমবার আয়োজিত হয় সমন্বয় কমিটির বৈঠক। আর সেই বৈঠকেই শুভেন্দু ছাড়াও আরও তিন নেতা অনুপস্থিত ছিলেন দেবু টুডু, মৃগাঙ্ক মাহাতো, হিতেন বর্মন।
এঁদের মধ্যে বর্ধমানের নেতা দেবু টুডু নিজে করোনা আক্রান্ত। তাই তাঁর বৈঠকে যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। বাকি তিনজন নিজেদের এলাকায় সংগঠনের কাজে ব্যস্ত, তাই আসতে পারেননি বলে জানিয়েছেন সমন্বয় কমিটির অন্যতম প্রধান তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে হিতেন বর্মন বা মৃগাঙ্ক মাহাতোর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর অনুপস্থিতিকে এক করে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যতই শাক দিয়ে মাছ ঢাকা হোক না কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
একই সঙ্গে নতুন জেলা সভাপতিদের দলের তরফে দেওয়া হয় কড়া নির্দেশ। সূত্রের খবর, সেখানে বেশ কিছু বিষয় সংগঠনের নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং যুব তৃণমূল সভাপতি তথা স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, বৈঠকে আগাগোড়া মৌন হয়ে বসেছিলেন রাজনৈতিক পরামর্শ দাতা প্রশান্ত কিশোর। তার কারণ নতুন কমিটির দিকনির্দেশ করার আগে বুঝে নিতে চাইলেন বর্তমান পরিস্থিতি। সেই বুঝে তিনি দলের পরবর্তী রণনীতি ঠিক করবেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, জেলা সভাপতিরা সংগঠনের কোনও পদ থেকে এক তরফা কাউকে বাদ দিতে পারবেন না। তাঁকে জেলার চেয়ারম্যান ও কোঅর্ডিনেটরের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে হবে। তার পর রাজ্য স্তরের সমন্বয় কমিটির মত নিয়ে যে কোন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এতদিন কংগ্রেস ঘরানায় জেলা সভাপতিদের হাতে কমিটি তৈরির ক্ষমতা থাকে। কিন্তু এবার এই ক্ষমতা কিছুটা হলেও খর্ব হল। কারণ একুশের নির্বাচনের লড়াই তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে এক সঙ্গে নিয়ে চলতে বলেছিলেন। কিন্তু নতুন সভাপতি নিয়োগের পর স্বভাবতই প্রকৃতি ব্লকে ব্লকে নতুন সভাপতি নিয়োগ করার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছিল। সেই সম্ভাবনাকেই সমূলে বিনাশ করল তৃণমূলের সমন্বয় কমিটি। বুঝিয়ে দেওয়া হল, ভোটের আগে কাউকেই বাদ দেওয়া যাবে না। সবাইকে নিয়েই চলতে হবে।এবারের সাংগঠনিক রদবদলে যে সব জেলায় সভাপতি বদল হয়েছে সেখানে পূর্বতন সভাপতিকে ‘চেয়ারম্যান’ পদ দেওয়া হয়েছে। দলের একাংশের মতে চেয়ারম্যান পদ হল শুধু চেয়ার অলংকৃত করে রাখার জন্য। সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে, এমন বহু জায়গায় তাঁদের অনুগামী ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু এদিন বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, জেলা সভাপতিদের সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের কনফিডেন্সে নিয়েই চলতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close