fbpx
কলকাতাহেডলাইন

শুভেন্দু রয়েছেন দলেই, থাকবেন বৈঠকের পর দাবি মমতা-সৌগতর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  ভোটের আগে কার্যত ‘বিদ্রোহ’ দলের মধ্যে। অস্বস্তি বাড়িয়ে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলে থাকলেও একের পর এক পদ থেকে ইস্তফা তাঁর। দলের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ তৈরি হলেও কেউ প্রকাশ্যে কারোর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেননি। একসময় শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ‘বিশ্বস্ত’ সৈনিকও ছিলেন। এবার তাঁর ‘মানভঞ্জন’-এ আসরে নামেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে সরাসরি কথা বললেন শুভেন্দুর সঙ্গে। তাহলে তাতেই কি শুভেন্দুর ‘অভিমান’ গলে জল হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলল? অন্যদিকে জট কাটাতে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে উত্তর কলকাতায় প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌগত রায়, প্রশান্ত কিশোর, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুভেন্দু ঘনিষ্ঠের মতে, ৫ কিংবা ৬ তারিখের মধ্যেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে বুধবার থেকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ঐক্যবদ্ধ ছবি তুলে ধরার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইউনাইটেড তৃণমূল ব্যাজ ফেসবুকে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি না হলেও বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপ থেকে আগামী ৭ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় শুভেন্দুর উপস্থিতি নিয়ে পোস্টার তৈরি করে ছাড়া হচ্ছে।

প্রকাশ্যে কোনওদিন না বললেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ‘মধুর’ ছিল না শুভেন্দুর। বিশেষত বিভিন্ন মহল থেকে কানাঘুষো শোনা যেত, বরাবরই মমতাকে সামনে রেখে দল করেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। সেই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারের বৈঠকে ছিলেন তিন ‘যুযুধান প্রতিপক্ষ’। এছাড়াও ছিলেন উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সৌগত রায়। দমদমের সাংসদের এক বন্ধুর উত্তর কলকাতার বাড়িতে সেই বৈঠক হয়।বৈঠক চলাকালীন ফোনে শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলেন মমতা। নন্দীগ্রামের বিধায়ককে ‘মিলেমিশে’ দলে কাজ করার আহ্বান জানিান তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন কথাও হয়নি বলে সূত্রের খবর।

বুধবার একাধিক সংবাদ মাধ্যমে সৌগত দাবি করেছেন, শুভেন্দু তৃণমূলেই থাকছেন। গোড়া থেকেই শুভেন্দুর সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিলেন সৌগত। দু’বার তাঁর সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। বুধবার তিনি বলেন, ”শুভেন্দু-অভিষেক মুখোমুখি বসতেই সমস্যা মিটে গেল। আমরা কেউ নই।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ”শুভেন্দু-অভিষেকের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত মান-অভিমান ছিল না। সাংগঠনিক কিছু বিষয় নিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য ছিল। সেগুলো মিটে গিয়েছে।”

আরও পড়ুন: বিজেপির নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যে মামলা … কল্যাণী মহকুমা আদালতে ৩৩ জন’ই জামিন পেলেন

শুভেন্দু মন্ত্রিত্ব ছাড়তেই উচ্ছ্বসিত বিজেপি শিবির তাঁকে দলে আহ্বান জানিয়ে রেখেছিল। এ বিষয়ে সৌগত বুধবার বলেন, ”বিজেপির মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা হতাশ। হাত তুলে আহ্বান জানিয়েছিল। ওর সঙ্গে কথা না বলেই স্বাগত জানাতে শুরু করে দিয়েছিল।”

তবে শুভেন্দু নিজে কী ভাবছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি কী সিদ্ধান্ত নিলেন তা এখনও পরিষ্কার হয়নি। তবে ৭ ডিসেম্বর, সোমবার তিনি যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সভামঞ্চে থাকেন, তাহলে তা হবে তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু যদি তিনি সেদিন না থাকেন, তাহলে তা হবে অত্যন্ত চিন্তার। কারণ, মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে সভা করতে গেলে শুভেন্দুর সহায়তা অবশ্যই প্রয়োজনীয়, মত শুভেন্দুর অনুগামীদের।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close