fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ, শ্যামনগরে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা বৃদ্ধ দম্পতির

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: একমাত্র ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বৃদ্ধ মা বাবা রবিবার সকালে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য শ্যামনগরে। যদিও স্থানীয়দের তৎপরতায় জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেন  জনকেই । রবিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের ননা বাবার ঘাটে এই ঘটনা ঘটে । জানা গেছে বৃদ্ধ অসুস্থ ওই দম্পতির নাম বিশ্বনাথ দাস ও সবিত দাস। এদিন তারা সকালে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন কিন্তু স্থানীয়দের তৎপরতায়  জগদ্দল থানার পুলিশের সাহায্যের মাধ্যমে ওই দম্পতিকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

জানা গিয়েছে,  ওই বৃদ্ধ দম্পতির বাড়ি শ্যামনগর পীরতলা এলাকায় । বৃদ্ধ দম্পতির অভিযোগ, তাদের সংসারে বর্তমানে অবিবাহিত একমাত্র ছেলে বিপুল দাস তাদের উপর রোজই নির্মম অত্যাচার করে । রবিবার সেই অত্যাচার চরমে ওঠে । বৃদ্ধ অসুস্থ বাবা বিশ্বনাথ বাবু ও মা সবিতা দেবীকে রবিবার সকালে মেরে ঘাড় ধরে বাড়ি থেকে বের করে দেয় গুণধর বিপুল । নিজে কাঠের কাজ করলেও বৃদ্ধ দম্পতির থেকে টাকার চাহিদার শেষ ছিল না অত্যাচারী বিপুলের, তা নিয়েই নিত্যদিন বাবা, মা ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে অশান্তি চলছিল । বিশ্বনাথ বাবু ও সবিতা দেবীর আরেক মেয়েকে আগেই হুগলি জেলাতে বিয়ে দিয়েছেন তারা । মেয়েও খুব একটা বাপের বাড়ি আসে না অত্যাচারী দাদা বিপুলের ভয়ে । রবিবার যখন বিপুল তার মা বাবাকে ঘাড় ধরে বাড়ি থেকে বের করে  দেয়, তখন ওই বৃদ্ধ দম্পতি সিদ্ধান্ত নেয় তারা নিজেদের শেষ করে দেবে । তারপরই শ্যামনগর ননা বাবার ঘাটে গিয়ে তারা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ।

জানা গিয়েছে, বেসরকারি জুট মিলের অবসর প্রাপ্ত শ্রমিক বিশ্বনাথ বাবু। সামান্য পেনশন পান তিনি। বিশ্বনাথ বাবুর ছেলে বিপুল দাস কাঠ মিস্ত্রির কাজ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ বিশ্বনাথ বাবুর ছেলে বিপুল দাস প্রায়সই বাবা মাকে মারধোর করে।

পুলিশের তরফ থেকে বৃদ্ধ বাবা মা কে এবং প্রতিবেশীদেরকেও ফোন নম্বর দিয়ে আসেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসার, যাতে ওই বৃদ্ধ দম্পতির কোনো সমস্যা হলে প্রতিবেশীরা সব ঘটনা পুলিশকে দ্রুত জানাতে পারেন । এদিন জগদ্দল থানার পুলিশ বৃদ্ধ দম্পতিকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে আসলে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। তাদের এদিন বৃদ্ধ বিশ্বনাথ বাবু বলেন, “আমার ছেলে আমাদের ভীষন মারধর করে,মারতে মারতে মাটিতে শুইয়ে দেন। এই অত্যাচার কত সহ্য করা যায় । আজ সকালে ছেলে খেতে চাই ছিল। ওর মার খাবার দিতে একটু দেরি হচ্ছিল, ছেলে সেই অপরাধে আমাদের বেধরক মারধর করে। আর সহ্য না করতে পেরে আমরা গঙ্গায় ঝাঁপ দিতে গেছিলাম। টাকার জন্য অত্যাচার তো করেই ।”

যদিও তাদের এক মাত্র ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চান নি ওই বৃদ্ধ দম্পতি । জগদ্দল থানার পুলিশও বাবা মার এই আবেদন মেনে নিয়ে বিশ্বনাথ বাবুর ছেলেকে গ্রেপ্তার করেনি। এদিকে বৃদ্ধ বাবা মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার কথা জগদ্দল থানার পুলিশের কাছে স্বীকার করে নেন বিপুল দাস। সেই সঙ্গে  বিপুলকে দিয়ে মুচলেকা লিখিয়ে নেয় পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close