fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ছয়ের দশকের বাংলার দাপুটে ছাত্রনেতা সঙ্গীদের একা করে দিয়ে চলে গেলেন…

ছাত্র রাজনীতিতে তিন যুব নেতার দাপট, বিমান-সুভাষ-শ্যামল

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  সময় যত এগোচ্ছে কালের নিয়মে সঙ্গীদের একা করে দিয়ে চলে যাচ্ছেন রাজনীতির একের পর এক মহীরুহ। এক এক করে চলে যাচ্ছেন  ছয়ের দশকের বাংলার দাপুটে ছাত্র আন্দোলনের সমস্ত মুখ। সে সময় বাম ছাত্র রাজনীতিতে তিন যুব নেতার দাপট, বিমান-সুভাষ-শ্যামল। আর ডানপন্থী ছাত্র রাজনীতির রাশ ধরেছেন প্রিয়-সুব্রত-সোমেন। ছাত্র রাজনীতির আঙিনা পেরিয়ে সংসদীয় রাজনীতি।  সুভাষ চলে গিয়েছেন সবার আগে। সেই পথে পা বাড়িয়েছেন প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সিও। করোনা আবহে কলকাতা হারিয়েছে তাঁদের প্রিয় ছোড়দা-সোমেন মিত্রকেও। এবার করোনা কেড়ে নিল ছয়ের দশকের ছাত্র রাজনীতির আরেক দামাল নেতা শ্যামল চক্রবর্তীকেও। ছাত্র আন্দোলন এবং পরে মহিলা আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী কমরেড শিপ্রা ভৌমিকের সঙ্গে শ্যামল চক্রবর্তীর বিবাহ হয়। ১৯৮২ সালে শিপ্রা ভৌমিক প্রয়াত হন। তাঁদের একমাত্র সন্তান মেয়ে উষসী চক্রবর্তী পেশায় অভিনেত্রী।

যারা বাম রাজনীতির অলিন্দে ঘোরাফেরা করেন তাঁরা বলছেন, জঙ্গি রাজনীতির সঙ্গে তাত্বিকতার মিশেল ঘটিয়েছিলেন শ্যামলবাবু। যা বাম রাজনীতিতে বিরল। ছয়ের দশকের  ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে উত্থান হয়েছিল তাঁর। প্রমোদ দাসগুপ্তের কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। স্কুলে পড়ার সময়েই তিনি বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৭০ সালে এসএফআই গঠিত হলে তার রাজ্য নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে শিবপুর সম্মেলেনে তিনি এসএফআই-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে বারাকপুর রাজ্য সম্মেলন পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এসএফআই-র সর্বভারতীয় যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন।

আরও পড়ুন: শ্যমল চক্রবর্তী’র মৃত্যুতে শোকবার্তায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানর

এরপরই ধীরে ধীরে ছাত্র রাজনীতির গণ্ডি ছেড়ে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন ১৯৫৯ সালের শেষে। ১৯৭৮ সালে শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত রাজ্য সম্মেলন থেকে তিনি পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ সালের রাজ্য সম্মেলনের পর পার্টির রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হন। ২০০২ সালে হায়দরাবাদ পার্টি কংগ্রেসে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। পরিবহণ শিল্প, বিদ্যুত্‍ শিল্প-সহ কয়েকটি ক্ষেত্রে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমজীবীদের সংগঠনে নিয়ে আসার প্রশ্নে তিনি উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন।

অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন ১৯৫৯সালের শেষে। ১৯৭৮ সালে শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত রাজ্য সম্মেলন থেকে তিনি পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৫সালের রাজ্য সম্মেলনের পর পার্টির রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হন। ১৯৮২ সালের বিধানসভার সাধারণ নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য। রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী। ১৯৮৭ ও ১৯৯১ সালেও তিনি মানিকতলা থেকে বিধানসভায় জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও

মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের সিপি‌আই(এম) বিধায়ক সুহৃদ বসুমল্লিকের জীবনাবসান হলে ১৯৮১ সালে শ্যামল চক্রবর্তী এই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের  সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। জয়ী হতে পারেননি। ২০০২ সালে হায়দরাবাদ পার্টি কংগ্রেসে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। সাংসদ, রাজ্যসভা সদস্য হন ২০০৮ সালের ৩এপ্রিল। ছিলেন ২০১৪সালের ২এপ্রিল পর্যন্ত। সাংসদ হিসেবেও রাজ্যের স্বার্থে এবং দেশের শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রয়াত বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর প্রয়াণে শোক জ্ঞাপন সূর্যকান্ত-সুজনের

শ্রমিক আন্দোলন, পরিবহন শিল্প, বিদ্যুৎ শিল্প সহ কয়েকটি ক্ষেত্রে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমজীবীদের সংগঠনে নিয়ে আসার প্রশ্নে তিনি উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছিলেন। এই প্রশ্নে একটি প্রচার পুস্তিকাও তিনি লিখেছিলেন।

সুবক্তা ও সুলেখক  বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করতেন। অসংখ্য পুস্তক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ছাত্র আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন ‘৬০-৭০ ছাত্র আন্দোলন’ শীর্ষক বইয়ে। এটি প্রথম খণ্ড। দ্বিতীয় খণ্ড রচনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সংগ্রহ করছিলেন তথ্য। তাঁর লেখা বই গুলি, কাশ্মীর-অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত, ১৯৯৮; সমাজতন্ত্র কী এবং কেন, ১৯৭৮; তিন প্রসঙ্গ, ২০০১; গরু ও ত্রিশূল, ২০০১; আর্যরা কি ভারতের আদিম অধিবাসী, ২০০২; ঝড়ের খেয়া, ২০০৮; ভারতীয় সমাজের বিকাশের ধারা ইত্যাদি। এছাড়া কয়েকটি প্রচার পুস্তিকাও তিনি লিখেছেন: আনঅর্গানাইজড ওয়ার্কার ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল, ২০০৫; রিটেল ট্রেড, ২০০৭ ইত্যাদি। তিনি বেশ কিছুদিন পার্টির প্রকাশনা কেন্দ্র ন্যাশনাল বুক এজেন্সির  পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। এইকাজে তিনি যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close