fbpx
গুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু রহস্য আজও অধরা

অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ ১৯৫৩ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জম্মু-কাশ্মীরে যাবেন বলেস্থির করেন। এর কারণ বুঝতে গেলে জম্মু-কাশ্মীরের সেই সময়েরপরিস্থিতি ও ইতিহাসটা একটু বুঝতে হবে। ১৯৪৭-এ দেশভাগের সময়ঠিক হয় যে দেশীয় রাজ্যগুলি চাইলে ভারত বা পাকিস্তান যে কোনএকটি দেশে যোগ দিতে পারে বা স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে পারে।তখনকার কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ঠিক করেন যে, তিনি পাকিস্তান বাভারত কোনপক্ষেই যোগ না দিয়ে কাশ্মীরে রাজতান্ত্রিক শাসনই বজায়রাখবেন। এমতাবস্থায় ১৯৪৭-এর অক্টোবরে পাকিস্তানি সেনা বিভিন্নবর্বর উপজাতি গোষ্ঠীকে নিয়ে কাশ্মীর আক্রমণ করে। তারা কাশ্মীরেব্যাপক হত্যালীলা ও গণধর্ষণ চালাতে চালাতে এগোতে থাকে। ফলেহরি সিং বাধ্য হন ভারতের সাহায্য চাইতে।

 

 

ভারত সরকার জানায় ‘Instrument of Accession’-এ স্বাক্ষর করে কাশ্মীরের ভারতভুক্তিমানলে তবেই ভারতীয় বাহিনী
পাঠান সম্ভব। হরি সিং তাই করেন।এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে প্রবেশ করে এবং অসম্ভববীরত্বের সাক্ষী রেখে কাশ্মীরের বড় অংশকে পাক-দখলদার মুক্ত করতে করতে এগোতে থাকে। এরকম সময় হঠাৎ নেহরু একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে রাষ্ট্রপুঞ্জে চলে যান কাশ্মীরকে নিয়ে, ফলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যের একটি ব্যাপার আন্তর্জাতিক বিষয়ে পরিণত হয়। ফলে কাশ্মীরের একটি বড় অংশ পাকিস্তান দখল করে বসে থাকেএবং ভারতীয় বাহিনীর সৈনিকদের এই আত্মবলিদান ব্যর্থ হয়ে যায়এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশ্মীর সমস্যার সৃষ্টি হয় নেহরুর অকালপরিণামদর্শী এই সিদ্ধান্তের জন্য।

 

 

কাশ্মীর উপত্যকার সুন্নী মুসলিমদের একটি অংশের নেতা শেখআবদুল্লার সঙ্গে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহরুর একটা সখ্য গড়েওঠে। এই শেখ আবদুল্লার আব্দারে নেহরু সংবিধানে ৩৭০ ধারাটিঢোকাতে তৎপর হন। এই ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরে থাকবে পৃথকসংবিধান, পৃথক পতাকা। ভারতবর্ষের অন্যান্য অংশের মানুষ এখানেজমি কিনে থাকতে পর্যন্ত পারবে না। তখনও বাবাসাহেব আম্বেদকরেরনেতৃত্বে সংবিধান সভা সংবিধান রচনার কাজ করছে। আম্বেদকরদেশের অখণ্ডতা-বিরোধী, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী এই কালা কানুনসংবিধানে প্রবেশ
করাতে পরিষ্কার অস্বীকার করেন।

 

 

লেখকের মতামত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত 

Related Articles

Back to top button
Close