fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কৃষি আইনের বিরোধিতা বার্ণপুরে শিখ সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: কৃষক বা কৃষি আইনের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিপিএমের নেতা ও কর্মীরা। আর সেই আন্দোলনে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে এই আন্দোলনের জেরে আটকে পড়েন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজি ও আসানসোল দূর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুকেশ জৈন। শুক্রবার আসানসোলের রানিগঞ্জে ঘটে এই ঘটনাটি। তবে আশ্চর্যজনক বিষয়টি হলো, জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারের গাড়ি দেখে বদলে যায় সুর। হচ্ছিল কৃষি আইনের বিরোধিতায় আন্দোলন। দেওয়া হচ্ছিল স্লোগান। কিন্তু সুর বদলে হয়ে গেল ” কয়লা চুরি বন্ধ করো। বন্ধ করো। বন্ধ করো। ”

রানিগঞ্জে একটি সরকারি জনসভায় যোগ দিতে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আসবেন। তার জন্য পরিদর্শনে রানিগঞ্জে যাচ্ছিলেন জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনার। সিপিএমের আন্দোলনে তারা আটকে পড়েন রাস্তায়। সেই সময় রানিগঞ্জের পাঞ্জাবীমোড়ে কেন্দ্রের কৃষি বিলে প্রতিবাদে প্রাক্তন সাংসদ তথা সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বংশগোপাল চৌধুরী ও বিধায়ক রুনু দত্তর নেতৃত্বে চলছিল আন্দোলন। তা চলাকালীন সেখানে চলে আসেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি ও পুলিশ কমিশনার সুকেশ জৈন। প্রায় ২৫ মিনিট তাদের গাড়ি সেখানে আটকে যায়। এরপরে পুলিশের তৎপরতায় আন্দোলনকারীদের হটিয়ে তাদেরকে রওনা করানো হয় গন্তব্যের দিকে। যে কারণে মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি দেখতে যেতে তাদের বেশকিছুটা সময় দেরি হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, পশ্চিম বর্ধমান জেলা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুর একটার সময় রানিগঞ্জের সিয়ারশোল রাজবাড়ি ময়দানে জেলা প্রশাসনের তরফে একটি সভা হবে।

আরও পড়ুন: ‘আর নেই দরকার দুয়ারে সরকার, এইবার দরকার বিজেপি সরকার’: শঙ্কুদেব পন্ডা

অন্যদিকে, এদিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আসানসোলে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হলেন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন। বার্নপুর গুরুদোয়ারা কমিটির পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভ করা হয়। বিক্ষোভকারীরা দাবি তোলেন, অবিলম্বে এই আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
আন্দোলনকারীর পক্ষে গুরুদ্বার প্রবন্ধন কমিটির সুরেন্দ্র সিং বলেন, কৃষি ও কৃষকের উপর যে মোদি সরকার কালা কানুন লাগু করেছেন তার প্রতিবাদ জানাতে আসানসোলের ভগৎ সিং মোড়ে জমায়েত হয়েছি। আমাদের অন্নদাতা কৃষকরা দিল্লির রাজপথে যে আন্দোলন করছেন তার সঙ্গে আমরা রয়েছি। আন্দোলনকারীর বলেন, এই আন্দোলনে জড়িতে কৃষকদের সঙ্গে খালিস্থানি এজেন্সির সঙ্গে জুড়ে যে মিথ্যাচার করা হয়েছে তার প্রতিবাদও আমরা করছি। এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা মনে করছি, এতে শিখ সম্প্রদায়কে বদনাম করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আগামী সোমবার জেলা জুড়ে শিখসম্প্রদায়ের মানুষরা রাস্তায় কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি ও ট্রাক্টর নিয়ে মহামিছিল করবেন৷ পরে তারা জেলাশাসককে স্মারকলিপিও জমা দেবেন।

Related Articles

Back to top button
Close