fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শিলিগুড়িতে করোনা আক্রান্ত আরও ২, অযথা আতঙ্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে শহরে

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: বুধবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি পুরসভার দুটি ওয়ার্ডে আরও দুজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিলল। পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদের একজন সাত নম্বর এবং আরেকজন আট নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

করোনা আক্রান্তের খবর আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক গ্রাস করেছে। আট নম্বর ওয়ার্ডের আক্রান্ত ব্যক্তি বাইরে থেকে এসে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সাত নম্বর ওয়ার্ডের আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর চলছে। সন্ধ্যার মধ্যেই গোটা এলাকাকে জীবানুমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্তের পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে কতজন এদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আট নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা বর্তমান ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর খুশবু মিত্তাল জানান, তার ওয়ার্ডের আক্রান্ত ব্যক্তি সম্প্রতি নেপালের কাঠমান্ডু থেকে দাদার বাড়িতে এসেছিলেন মায়ের সঙ্গে দেখা করতে।

এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি শহরে বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের থেকে করোনার সংক্রমনের ব্যাপারে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। এতে বাইরে থেকে কেউ এলে প্রতিবেশী তো বটেই কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাড়ির লোকেরাও তাদের ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেন না। আবার কোনও ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন জানার পর সেই ব্যক্তি ও তার পরিবার অনেক ক্ষেত্রে অমানবিকতার শিকার হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে, অযথা আতঙ্কে করোনা আতঙ্ক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সঙ্গে অমানবিক আচরণ না করার জন্য। কিন্তু সেই আবেদনে সব সময় কাজ হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। শহরের চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছেন করোনার সংক্রমণের ক্ষেত্রে আইসিএমআর-র যে গাইডলাইন রয়েছে তা মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করা দরকার।আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে বা কাছে গেলেই করোনা সংক্রমিত হয় না। করোনা সংক্রমিত হতে গেলে কি কি ঘটনা ঘটতে হবে সেই বিষয়গুলি সহজভাবে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক আকারে পৌঁছে দিতে হবে।

শহরের বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে হাই রিস্ক এবং লো রিস্ক বলে দুটি দিক উল্লেখ রয়েছে। লো রিস্কের মধ্যে যারা পড়বেন তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতেই হবে তার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কাজেই করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে কতখানি সময় তিনি ছিলেন, কতটা দূরত্ব বজায় ছিল, নিরাপদ মাস্ক, ফেস শিল্ড দুজনেই বা একজনে ব্যবহার করেছেন কি না এই দিক গুলির উপর বিবেচনা করেই হাই রিস্ক ও লো রিস্ক নির্ধারণ করা হয়। চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন এই দিকগুলি স্বচ্ছভাবে প্রচার করা দরকার। তাহলে করোনা ও কোয়ারেন্টাইন নিয়ে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক দূর হবে।

Related Articles

Back to top button
Close