fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাহেডলাইন

বদলির সুযোগ দিতে হবে ‘সিঙ্গল টিচার’দেরও, স্কুলগুলিকে নির্দেশ রাজ্যের

নিজস্ব প্রতিনিধি: শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বহু দিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, তাঁদের বদলির আবেদন অনেক সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখেন না। এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। এবার থেকে  ‘সিঙ্গল টিচার’রা বদলির আবেদন করলেও প্রধান শিক্ষক বা পরিচালন সমিতি তাঁদের আটকাতে পারবেন না। বুধবার এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। ‘উৎসশ্রী’ প্রকল্পে ১ আগস্ট থেকে রাজ্যের স্কুল শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পোর্টালে আবেদন করা যাবে বদলি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। বহু শিক্ষকের অভিযোগ, বদলিতে তাঁদের স্কুল এনওসি দিচ্ছে না। যদিও অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলগুলির বক্তব্য, নির্দিষ্ট বিষয়ে একজন শিক্ষককে (সিঙ্গল টিচার) ছেড়ে দিলে ওই বিষয়ে পড়াবেন কে? সেই কারণেই বদলি হতে ইচ্ছুক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ অর্থাৎ এনওসি দেওয়া হয় না। তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার স্কুলশিক্ষা দফতর জানিয়েছে, বিষয়টি নির্দিষ্ট জেলার স্কুল পরিদর্শককে জানালে ওই স্কুলে নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক পাঠানো হবে।

বদলিতে অনেক সময়  এনওসি না পেয়ে বছরের পর বছর বাড়ি থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এদিনের নির্দেশিকায় তা পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কথায়, “আবেদনের এক মাসের মধ্যে সব খতিয়ে দেখে ট্রান্সফার অর্ডার ইস্যু হবে। প্রধান শিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষ কাউকে জোর করে আটকে রাখতে পারবেন না।”

তবে শিক্ষামন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশের পরেও তা কার্যকর হচ্ছিল না। এদিনের নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত জেলা স্কুল পরিদর্শককে (ডিআই) পাঠানো হয়েছে। ডিআই’রা প্রধান শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেবেন। ‘উৎসশ্রী’ পোর্টালে শিক্ষিক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি বদলির আবেদন জানাচ্ছেন শিক্ষাকর্মীরাও।

মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে আবেদন করলে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ও অন্যান্য কাগজ লাগবে। চল্লিশ শতাংশের বেশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে রিনিউ করা প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করতে হবে। জটিল অসুখ বা কোনও শিক্ষিকার বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুও বদলির আবেদনে গ্রাহ্য হবে। একই স্কুলে পাঁচ বছর কর্মরত যে কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির আবেদন করতে পারবেন। পাঁচ বছরের মধ্যে ট্রান্সফার নিলে আবেদন করা যাবে না। সাত বছরের মধ্যে বদলির আদেশ প্রত্যাখ্যান করলেও আবেদন করা যাবে না।

কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা সাসপেন্ড থাকলেও আবেদন করতে পারবেন না। বিভাগীয় তদন্ত বা বিদ্যালয় সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা  চললেও আবেদন গ্রাহ্য হবে না। যদিও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ অভিযোগ করছেন, যাবতীয় শর্ত পূরণ করার পরেও আবেদন অনেক সময় গৃহীত হয় না। তার ভিত্তিতে স্কুলশিক্ষা দফতর জানিয়েছে, কোনও অভিযোগ থাকলে তা ই-মেল করে জানানো যাবে।

Related Articles

Back to top button
Close