fbpx
দেশহেডলাইন

যোগীর শাসনে উত্তরপ্রদেশে ‘বোনেরা নিরাপদ নয়’, রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়ে তোপ মায়াবতীর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: হাথরস থেকে বলরামপুর— একের পর এক ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশে সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। মুখ্যমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ, তাই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়ে বিএসপি নেত্রীর তোপ, ”যোগীকে গোরক্ষপুরে পাঠিয়ে দিন।” যোগীর শাসনে উত্তরপ্রদেশে ‘বোনেরা নিরাপদ নয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন দলিত নেত্রী মায়াবতী।

‘রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষা দিতে না পারলে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত যোগী আদিত্যনাথের”। হাথরসে দলিত তরুণীর উপর পাশবিক নির্যাতন প্রসঙ্গে এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতী। কুর্সি ছেড়ে ফের গোরক্ষনাথ মঠের দায়িত্বে ফিরে যাওয়া উচিত যোগী আদিত্যনাথের, এমনই মনে করেন বসপা নেত্রী।

অভিযোগ তরুণীর মৃত্যুর পরে তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে না দিয়ে দেহ দাহ করে দেয় যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পুলিশ। যোগী প্রশাসনের পুলিশের ভূমিকায় দেশের সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বসপা নেত্রী মায়বতী হাথরসের তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করেছেন।তিনি বলেন, ”রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষা দিতে না পারলে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত যোগী আদিত্যনাথের”।

মঙ্গলবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে হাথরসের দলিত মহিলার মৃত্যুর পরেই দেশ জুড়ে এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চরমে উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে যোগী রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। হাথরসের ওই ঘটনার পরে ফের উত্তপ্রদেশেরই বলরামপুরে প্রায় একই রকম ভাবে এক তরুণীকে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে। একের পর এই ধরনের ঘটনায় শুধু রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন নয়, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুললেন বিএসপি নেত্রী।

হাথরসের ঘটনা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড়। তার মধ্যেও ফের বলরামপুরের ঘটনা কী ভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মায়াবতী। একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাত্‍কারে তিনি বলেছেন, ”হাথরসের ঘটনার পর ভেবেছিলাম, মহিলাদের উপর অত্যাচার-ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কিন্তু তার পরেও একই রকম ভাবে দলিত ছাত্রীর উপর একই রকম নির্যাতন করা হল। রাজ্যে বিজেপির শাসনে অপরাধী, মাফিয়া, ধর্ষকরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” যোগীকে ফের গোরক্ষনাথ মঠের দায়িত্ব নিতে পরামর্শ দিয়েছেন মায়াবতী। এপ্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে জড়িয়ে তিনি বলেন, ”আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করছি, তাঁকে তাঁর জায়গায় পাঠান- গোরক্ষনাথ মঠ। যদি তিনি সেই মন্দির পছন্দ না করেন, তবে তাঁকে রাম মন্দির তৈরির দায়িত্ব দেওয়া উচিত।”

আরও পড়ুন: নয়া কৃষিবিল, পক্ষ-প্রতিপক্ষ তরজা এবং বিশ্লেষণ

সমস্ত ধরনের অপরাধমূলক কাজকর্ম বেড়ে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মা-বোনেরা নিরাপদ নয়। বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায়ের তরুণী-যুবতীদের একদমই নিরাপত্তা নেই।”সমাজের সব স্তরের মানুষ এই সরকারের কাজকর্মে বীতশ্রদ্ধ। এর জন্য দায়ী কে? মায়াবতীর সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগীকে। তাঁকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, ”কেন্দ্রকে বলতে চাই, উত্তরপ্রদেশ সরকারের ঘুম ভাঙছে না। যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। হয়তো আরএসএস-এর চাপে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে, কিন্তু যোগী সরকার চালাতে অক্ষম। ওঁকে গোরক্ষপুর পাঠিয়ে অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করুন, নয়তো রাজ্য়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করুন।”

উত্তরপ্রদেশের হাথরসের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ১৯ বছরের তরুণীর উপর অকথ্য অথ্যাচার চালিয়েছে উচ্চ বর্ণের কয়েকজন যুবক। নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে মাঠে ঘাস কাটছিলেন ওই তরুণী। মাঠে কাজ করছিলেন মা-মেয়ে। জানা গিয়েছে, ঘাস কাটতে কাটতে মায়ের থেকে কিছুটা দূরে চলে যায় ওই তরুণী। কিছু সময় পর মাঠে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে তাঁর খোঁজ শুরু করেন ওই তরুণীর মা এবং পরিবারের লোকেরা।

এরপর কিছুটা দূরে দোপাট্টা জড়ানো অবস্থায় বাজরা খেতের মধ্যে মেয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পান পরিবারের লোকেরা। তরুণীর পরিবারের দাবি, মোট চার থেকে পাঁচ জন উচ্চবর্ণের যুবক তাঁদের মেয়েকে টেনে হিঁচড়ে বাজরা খেতের মধ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। নির্যাতনের পরিমাণ এতটাই বেশী ছিল যে, ওই তরুণীর ঘাড়ের হাড় এবং শিরদাঁড়া ভেঙে গিয়েছিলো। পঙ্গু অবস্থায় খেতের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন তরুণী। শেষমেশ একটানা ১৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তরুণীর।

Related Articles

Back to top button
Close