fbpx
কলকাতাদেশহেডলাইন

কেন্দ্রীয় সরকার সজাগ নাহলে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে: ইয়েচুরি

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকার এখনও যদি সজাগ না হয়, তাহলে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে দাবি করলেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

 

করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দিল্লি, কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বুধবার লেনিনের জন্ম সার্ধশতবর্ষ পালন করে সিপিএম। এই উপলক্ষে এক বার্তায় করোনা পরিস্থিতিতে দাড়িয়েও লেনিন যে কতটা প্রাসঙ্গিক তা তুলে ধরার চেষ্টা করে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করেছিলেন লেনিন। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে তাঁর অবদান এবং বর্তমানে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা যথেষ্ট। করোনা মহামারির প্রকোপে গোটা বিশ্ব আজ সংকটের মুখে। অর্থনীতি ধাক্কা খেয়েছে বিশ্বজুড়ে। পুঁজিবাদের ব্যবস্থা থেকে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সংকটে যখন বিশ্ব দিশাহীন তখন আগের শতাব্দীতে ঠিক এমনই একটি ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছিলেন লেনিন। এই অবস্থায় লেনিনের মতাদর্শ নির্ভর করেই এগিয়ে যেতে হবে সমগ্র পৃথিবীকে। তাহলেই ফের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াবে বিশ্বের অর্থনীতি।’

 

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতির সংকটের প্রভাব পড়েছে ভারতেও। তাই ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে ও ঘুরে দাঁড়াতে লেনিনের দেখানো পথই যে একমাত্র পথ সে কথা উল্লেখ করে ইয়েচুরি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক-কৃষক ঐক্য মজবুত করতে হবে। প্যারি কমিউন শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে না পারার অন্যতম কারণ কৃষক সমাজের বড় অংশকে সঙ্গে রাখতে পারেনি শ্রমিক শ্রেণী। এই দুই শ্রেণীই সমাজের প্রধান চালিকাশক্তি। আর মহামারীতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামীণ, সর্বহারা মানুষ। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি কোরোনার পরিস্থিতিতে এই দুই শ্রেণির জীবনযাত্রা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।’

 

এর পরেই করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার এখনও যদি সজাগ না হয়, তাহলে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাফল্য আসবে যদি রাজ্যগুলিকে এই ভাইরাস মোকাবিলার সমস্ত উপকরণ তুলে দেওয়া যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত কাল বিলম্ব না করে সেই পদক্ষেপ নেওয়া। অথচ সেই সব না করে ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। যেখানে মানুষের খাদ্যের এবং চিকিৎসার প্রয়োজন, সেখানে হত্যা করা হচ্ছে কোন ভিন ধর্মের মানুষকে। দেশের সরকার দিশাহীন ভাবে চলছে। দেশের অর্থনীতি এবং মানুষের প্রতি কোন নজর নেই। কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। এ দেশের অবস্থা সংকটজনক।’

 

এদিকে এদিন সকালে লকডাউনকে মান্যতা দিয়েই ধর্মতলায় লেনিন মূর্তিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ। সেখানে লেনিনকে আজও প্রাসঙ্গিক বলে দাবি করে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘লেনিন মানে শুধু ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি আর ওভারকোট নয়। লংমার্চে হাঁটা যে মানুষ অধিকার বুঝে নিতে চান, তিনিও লেনিন।’
এরপরেই করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রমাণ করতে হয় না। অথচ কেরল রাজ্য এখন কোরোনা মুক্তের পথে। এদিকে এরাজ্যে করোনার পরীক্ষার জন্য সরঞ্জাম পাওয়া যায় না। অথচ সরকার কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করছে কীভাবে করোনাকে নির্মূল করা যায়।’

 

করোনা উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বজুড়ে পাশাপাশি ভারতেও বামপন্থীরাই যে সামনে থেকে লড়ছেন সেই দাবি করে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘ করোনা মোকাবিলায় পিপিই আর ভেন্টিলেশন চালাবার প্রশিক্ষণ আছে এমন সৈনিকদের সারা বিশ্বজুড়ে পাঠাচ্ছে কিউবা। ক্ষুদ্র দেশ ভিয়েতনাম চাল বিলি করার এটিএম বানিয়েছে। ভারতে একটাও ভোট পান না যাঁরা, তাঁরা রোজ নিরন্ন মানুষের মুখে ভাতের জোগান দিয়ে চলেছেন। রক্তদান করে চলেছেন। এটাই ছিল লেনিনের আদর্শ।’

Related Articles

Back to top button
Close