fbpx
দেশহেডলাইন

কেন্দ্রীয় সরকারের প্যাকেজ, উঠে যাওয়া ব্যাংকের পোস্ট-ডেট চেক-এর মতন: ইয়েচুরি

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি : লকডাউন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার চার দফায় যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তাকে, উঠে যাওয়া ব্যাংকের পোস্ট-ডেট চেক-এর সঙ্গে তুলনা করলেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

গত চারদিন ধরে দফায় দফায় ২০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি যে আর্থিক প্যাকেজ কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে তা পুঁজিপতিদের স্বার্থে বলে দাবি করে সোমবার এক বার্তায় ইয়েচুরি বলেন, ‘মোদি সরকারের ঘোষিত তথাকথিত প্যাকেজটির কঠোর বাস্তবতা হল যা কিছু ঘোষণা সবটাই ‘ক্রোনি’র জন্য, যোগ্যদের জন্য কিছুই নয়।’ এই প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রেরিত দূত স্টাফোর্ড ক্রিপসকে গান্ধীজীর বলা উক্তি টেনে তিনি বলেন, ‘মোদি সরকারের এই প্যাকেজ স্মরণ করিয়ে দেয় স্টাফোর্ড ক্রিপসকে গান্ধীজীর বলা, ”উঠে যাওয়া ব্যাংকের পোস্ট-ডেট চেক”-এর কথা।’

এর যুক্তি হিসাবে ইয়েচুরি বলেন, ‘গত ৫০ দিন ধরে বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকরা তাদের ঘরে পৌঁছানোর জন্য হাঁটাহাঁটি করে মর্মান্তিক মৃত্যু ও দুর্দশার মুখে পড়ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ক্ষুধার্ত। অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ হারাচ্ছেন। এই কদিনে চাকরি চলে যাওয়ার সংখ্যা ১৪ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। করোনা মোকাবিলায় যারা সামনের সারিতে দাড়িয়ে মরণপণ লড়াই করে চলেছেন, সেই সমস্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কোনও উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম এখনও দিতে পারেনি। এই সবের জন্য মোদি সরকার এককভাবে দায়ি। কারণ তিনি অপরিকল্পিত লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন। অপরিকল্পিত নীতি নিয়ে চলছেন। আর ৫০ দিন পর যখন মনে হল কিছু করার দরকার তখন চারদিন ধরে লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ কদিনে কেন্দ্রীয় সরকার যা ঘোষণা করেছে তাতে করোনায় সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণীর কোনও উপকার হবে না হবে পুঁজিপতিদের। করোনা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিদেশী ও দেশীয় কর্পোরেটদের কাছে লুটপাটের আরও সুযোগ করে দিয়েছেন মোদি এবং তাঁর সরকারের। কিন্তু করোনা সঙ্কট মোকাবেলা বা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য সরকার কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আত্ম নির্ভর ভারত’ ঘোষণাকেও এদিন কটাক্ষ করেন তিনি। ইয়েচুরি দাবি করেন, ‘আত্ম নির্ভরতা নয় আত্ম সর্বস্বতা বোঝেন উনি। আর বোঝেন রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বেসরকারিকরণ করার কথা। দেশীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। এসব না করে সরকার যদি সত্যিই আত্ম নির্ভর হতে চাইতো তাহলে রাষ্ট্রয়াত্ব সংস্থা বেসরকারিকরণ না করে, ভারতের বাজার বিদেশি পুঁজিপতিদের কাছে এভাবে খুলে না দিয়ে দেশিয় সম্পদ সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যবহারের চেষ্টা করতো।’

Related Articles

Back to top button
Close