fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গবাংলাদেশহেডলাইন

সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের উপকূলে, মোকাবিলায় তৈরি কন্ট্রোল রুম, প্রস্তুত ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র

ভারী বর্ষণে বন্ধ বিদ্যুৎ সহ ইন্টারনেট পরিষেবা, হাসপাতালে ব্যাহত জরুরি অস্ত্রোপচার

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্ক:  বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আতঙ্কে কাঁপছে বাংলাদেশ।  মঙ্গলবার এই ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল হওয়ার কথা বরিশালে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ১০০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি সহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কলকাতায় সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে সেইভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা নেই। তবে দমকা হাওয়া বইবে। ২৩ তারিখ রাত থেকে এই দুর্যোগ শুরু হয়ে ২৫ তারিখ সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেই আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর। সুন্দরবন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের  বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলের এই ঝড় মোকাবিলায় সর্বত্র ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আজ সোমবার বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করেছে। দুর্যোগ  ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকেরা সংকেত প্রচার এবং উপকূলবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে সরিয়ে আনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। সকাল থেকে টানা মাঝারি বর্ষণে বিভাগের অনেক জেলা ও উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বরিশালেও সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ফোন, ইন্টারনেট যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগীদের  অস্ত্রোপচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে বিকেলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়, বরিশাল জেলায় ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী (শুকনা খাবার, সুপেয় পানি), মোমবাতি, ওষুধপত্রের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন-সরঞ্জামাদিসহ প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সব স্থানে মাইকিং ও আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দেশের উপকূলের ১৫টি জেলার নদীবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ উপকূলে আঘাত হেনেছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ভোলা, বরিশাল ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ৯ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করবে। সে পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ফরিদপুরে গাছ উপড়ে পড়ে দুটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক দুটি হচ্ছে ঢাকা–খুলনা ও ঢাকা–বরিশাল। দুটি মহাসড়কের ৮০ কিলোমিটার অংশে অন্তত ২৫টি স্থানে গাছ উপড়ে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে আটটার পর ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এবং ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের অন্তত ৮০ কিলোমিটার পথে গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ফরিদপুর থেকে গোপালগঞ্জ পথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

পুলিশ বলছে, ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের তালমা পুকুরিয়া এবং ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মাঝরা, মাঝিগাতী, রিসাতলা, জয় বাংলা, কাইলার মোড়, মনসুরাবাদসহ অন্তত ২৫টি জায়গায়  গাছ উপড়ে পড়েছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close