fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া মসজিদ নিয়ে তুরস্ক-গ্রিসের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

আংকারা, (সংবাদ সংস্থা): তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া মসজিদের ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। একইসঙ্গে, কূটনৈতিক টানাপোড়ন চূড়ান্ত বোঝাপড়া বা এক হাত দেখে নেওয়ার পর্যায়ে চলে গেছে।

 

উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত আয়া সোফিয়া মসজিদে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠানকে ঘিরে। কেননা এথেন্স দাবি করেছে, “এটি একটি প্রাচীন জাদুঘর এবং এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা বিষয়ক ইউনিসেফের নীতিমালার লঙ্ঘন।” কিন্তু, এরপরেই তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রণালয় গ্রিসের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা অভিযোগ করেছে, “এথেন্সে অনেক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে।” অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, “তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারোর নেই।”

 

উল্লেখ্য, খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীদের মধ্যে একমাত্র গ্রিসই তুরস্কের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনায় সম্মুখ সমরে অবস্থান করছে। বহু বিষয়ে গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। কিন্তু এবার ধারণা করা হচ্ছে, গ্রিস সরকার ঐতিহাসিক অয়া সোফিয়া মসজিদ বিতর্ককে টেনে এনে এবং এই ইস্যুতে অভিযোগ উত্থাপন করে তুরস্কের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ ও বিদ্বেষ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে।

[আরও পড়ুন- করোনা রুখতে ব্যর্থ, WHO’র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ট্রাম্পের]

অয়া সোফিয়া মসজিদ নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ হচ্ছে, এটিকে মসজিদ বলা হবে নাকি জাদুঘর বলা হবে তা নিয়ে। কারণ, এক সময় এই স্থাপনাটি খ্রিস্টানদের উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত। তথ্য বলছে, চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে তারা আয়া সোফিয়াকে অর্থডক্স গির্জা থেকে ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল। এই নিয়ে খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ও দখল-পাল্টা দখলের ঘটনার পর ১৪৫৩ সালে ওসমানিয়া শাসনামলে এটিকে মসজিদে পরিণত করা হয়। এরপর তুরস্কের  প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক এই মসজিদে নামাজ নিষিদ্ধ করেন এবং আয়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘরে পরিণত করেন। কিন্তু, বর্তমানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ওই স্থাপনা তথা জাদুঘরকে ফের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করার পদক্ষেপ নেওয়ায় বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তবে,  এপ্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেছেন, “আয়া সোফিয়া মসজিদের ব্যাপারে তুরস্কের বিরুদ্ধে গ্রিসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ তুরস্কের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।”

 

অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে পাশ্চাত্যের সঙ্গে সংকট চলার মুহূর্তে তুরস্ক সরকার আয়া সোফিয়া মসজিদের ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে মূলত অভ্যন্তরীণ কিছু সংকট সমাধান ও জনমত ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। কারণ, অতীতেও দেখা গেছে বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়কে কেন্দ্র করে তুরস্ক সরকার ইউরোপের কাছ থেকে ছাড় আদায় বা দর কষাকষির চেষ্টা করে থাকে। অন্যদিকে, গ্রিসও তুরস্কের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উত্থাপন করে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সমগ্র ইউরোপকে টেনে আনার চেষ্টা করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close