fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সচেতনতার পরিচয় দিয়ে গ্রামে ফিরেও বাড়ি গেলেন না ছয় পরিযায়ী শ্রমিক

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: মহারাষ্ট্র থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে নিজেদের গ্রামে ফিরেছেন রায়গঞ্জ ব্লকের শীশগ্রামের ছয় পরিযায়ী শ্রমিক। কিন্তু করোনার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট না আসায় গ্রামে ঢুকেও বাড়িতে ফেরেননি তারা। এলাকার একটি ফাঁকা জায়গায় গাছতলায় আশ্রয় নিয়েছেন তারা। পরিবার ও গ্রামবাসীদের স্বার্থেই গাছতলাতেই ১৪ দিন থাকবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শীশগ্রামের ছয়জন বাসিন্দা মহারাষ্ট্রে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।লকডাউনের ফলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ হারায় তারা।দেখা দেয় আর্থিক সংকট। টান পড়ে খাবারেও। সরকারিভাবে তাদের সেখান থেকে আনার কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় চার দিন আগে বাস ভাড়া করে ওই কারখানায় যুক্ত ৬০ জন শ্রমিক বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

৬০ জনের মধ্যে ৬ জন রায়গঞ্জের, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপনের ৩০ জন আর বাকিরা মালদা জেলার গাজোলের। শনিবার রাতে গ্রামে পৌঁছালেও বাড়ি যাননি কেউ। গ্রামবাসীদের সহায়তায় এলাকার একটি ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন তারা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সেখানেই রান্না,খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন এই ছয় শ্রমিক।

বিকাশ সরকার নামে এক শ্রমিক বলেন,” অনেক কষ্ট করে বাড়ি ফিরেছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও রিপোর্ট না পাওয়ায় গ্রামের বাইরে গাছ তলাতেই থাকছি। পরিবার থেকে খাওয়ার দিয়ে যাচ্ছে। পরিবার ও গ্রামবাসীদের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রিপোর্ট ভালো হলে বাড়িতে ফিরে যাব।” গ্রামবাসীরা বলেন,” এতদিন পর গ্রামে ফিরেও এরা বাড়িতে যায়নি। যে সচেতনতার কাজ এরা করলেন তাতে আমরা খুশি। আমরা ওদের পাশে আছি। পরিযায়ী শ্রমিকদের এই সচেতন মানসিকতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানস ঘোষ।

তিনি বলেন,” এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের এই কাজ অন্যদেরকেও সচেতনতায় উদ্ধুদ্ধ করবে। আমরা পাশে আছি।

Related Articles

Back to top button
Close