fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাতের অন্ধকারে বীজ ধানের বস্তা পাচার, অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে

নিজস্ব প্রতিনিধি ,ঝাড়গ্রাম: রাতের অন্ধকারে ট্রলি,পিকআপ ভ্যানে করে বীজ ধানের বস্তা পাচারের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আর এই বীজ ধান পাচারের সময় বাধা দিলে গেলে বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। মারধরের ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে বেলিয়াবেড়া থানায় চব্বিশ জনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে ঝাড়্গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর দুই ব্লকের পেটবিন্ধী এলাকায়। আর এই ঘটনার পরেই গোপীবল্লভপুর দুই ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি কালীপদ শূরের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করছে বিজেপি।

যদিও ওই অভিযোগ সম্পুর্ন অস্বীকার করেছেন কলীপদ শূর। বিজেপির অভিযোগ বেলিয়াবেড়া থানার পেটবিন্দি অঞ্চলের পেটবিন্দি গ্রামের আইসিডিএস কেন্দ্রে প্রায় দেড়শো বস্তা চাষের বীজ ধানের বস্তা রাতের অন্ধকারে ট্রলি,পিকআপ ভ্যানে করে পাচার করছিল নিজেদের কর্মীদের বাড়িতে।রাত প্রায় আটটা নাগাদ বিষয়টি নজরে আসে এলাকার বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। বিজেপির অভিযোগ ধানের বস্তা গুলি পাচারের বাধা দিলে উল্টে তাদের মারধর করা হয়।তাদের অভিযোগ রাতেই তারা স্থানীয় একটি মোড়ের কাছ থেকে ট্রলি করে ধান পাচারের সময় ধরে এবং ওই অঞ্চলের এক তৃণমূলের কর্মীর বাড়িতেও ধান পচার করে ঢোকানো হয়েছিল।আর এই ঘটনা ঘিরে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত আশান্তী চরমে ছিল।বেলেবেড়া থানার পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

পুলিশ জানিয়েছে একটি ট্রলি থেকে উনিশ বস্তা এবং স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ি থেকে ষলো বস্তা ধানের বস্তা সিজ করে নিয়ে যায় পুলিশ।অন্যদিকে এদিন শনিবার বেলেবেড়া বিজেপি মন্ডলের পক্ষ থেকে পেটবিন্দি দলীয় অফিস থেকে পঞ্চায়েত অফিস পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল বার করা হয়।বিজেপির বেলেবেড়া মন্ডলের সভাপতি শমিত পাত্র বলেন “ ব্লকের কৃষি অফিস থেকে ধানের কিট গুলি এসেছিল এলাকার কৃষকদের জন্য।যাতে তারা ধান চাষ করতে পারনে।সেই ধান আইসিডিএস কেন্দ্রে ছিল।কিন্তু তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি কালীপদ শূরের নেতৃত্বে তৃণমূলের লোকজন রাতের অন্ধকারে সেই ধান পাচার করে নিজের কর্মীদের বাড়িতে মজুত করার জন্য পাঠাচ্ছিল।এলাকার কৃষকদের বঞ্চিত করে নিজেদের পেটোয়া লোকজনদের দেওয়ার তালে ছিল।সেই জন্য এলাকার তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ধান মজুত করা হয়েছিল।আমাদের মারধর করা হয় প্রতিবাদ করলে।

আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদের নাবালিকা ছাত্রীকে উদ্ধার করলো মালদার চাঁচোল থানার পুলিশ

আমরা যারা মারধর করছে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।এদিন শনিবার প্রতিবাদ মিছিল বার করেছি।”এই বিষয়ে গোপীবল্লভপুর দুই পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি,ব্লক কর্যকারি সভাপতি কালীপদ শূর অভিযোগ পুরো অস্বীকার করে জানান “পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ,কৃষি কর্মধ্যক্ষ ,ব্লক কৃষি অধিকর্তার সিদ্ধান্তক্রমে ফিল্ট ভিজিটের পর চাষিদের নাম তালিকা প্রস্তত করে তবে ধান পাঠানো হয়েছিল।ব্লক কৃষি অধিকর্তা ধান পিঠিয়েছিলেন।সেই ধান আইসিডিএস সেন্টারে রাখা ছিল।কৃষকরা কাজ শেষে সন্ধার মুখে সেই ধান বিজ নিয়ে যাচ্ছিলেন।এটা পঞ্চায়েতের ধান নয়।বিজেপি চক্রান্ত করছে।তদন্তের দাবি করছি।তদন্তে যদি প্রমান হয় ধান পাচার করা হচ্ছিল তবে আমি শুধু দল নয় রাজনীতি থেকে চিরজীবনের মতো নির্বাসক নেব।বিজেপি এতদিন এলাকায় সন্ত্রাশ চালিয়েছে।ওদের পঞ্চায়েত সদস্যরা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে।তাই এখন ষড়যন্ত্র করছে।”

Related Articles

Back to top button
Close