fbpx
দেশহেডলাইন

ভোট দিতে পারবেন করোনা আক্রান্তরা, নয়া নির্দেশিকা জারি নির্বাচন কমিশনের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে বেড়েই চলেছে করোনার সংক্রমণ। করোনা সংক্রমণের এই সময়ে কীভাবে ভোটগ্রহণ! এনিয়ে বিতর্ক ছিলই। অক্টোবরের শেষে কিংবা নভেম্বরের প্রথমে বিহার বিধানসভায় ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই মহামারীর মধ্যেই সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচনের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করা হল। তাতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, করোনা আক্রান্ত এবং ৮০ বছরের উর্ধ্বে যাঁরা রয়েছেন তাঁরাও ভোটগ্রহণে অংশ নিতে পারবেন। তবে তাঁরা ভোট দেবেন পোস্টাল ব্যালট পেপারে। এছাড়া অনলাইন মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে গ্লাভস পরে ভোটদান– জারি করা হয়েছে আরও একাধিক নিয়ম। যা নির্বাচনের সময় মানতে হবে প্রত্যেককেই।এই গাইড লাইনই বলবত্‍ হবে দেশের সব বিধানসভা ও উপ নির্বাচনগুলিতে বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।

বিহারই প্রথম, যে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নিজেদের তৈরি গাইডলাইন বলবত্‍ করতে চলেছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আবহে নির্বাচন করানো একরকম চ্যালেঞ্জ ছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে। এখানে কড়া ভাবে মানা হবে কমিশন নির্দেশিত গাইড লাইন। ইভিএম-এ ভোট দেওয়ার আগে ভোটদাতাদের গ্লাভস দেওয়া হবে। ইভিএম যারা দেখভাল করবেন সেই ভোটকর্মীদেরও পর্যাপ্ত গ্লাভস দেওয়া হবে। দেওয়া হবে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। যেসব ভোটারের সাথে শিশু থাকবে তাদের ফেসিয়াল পিপিই কিট দিতে হবে। চেহারা চিহ্নিতকরণের সময় শুধু খুলতে হবে মাস্ক।

ভোটারদের চিহ্নিত করার জন্য ভোটদাতাকে বুথে মাস্ক নামিয়ে নিজের মুখ দেখাতে হবে। প্রতিটি ভোটদাতাকে পরীক্ষা করার জন্য থাকবে থার্মাল স্ক্যানার। বুথে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখতে হবে। ভোট কেন্দ্রে ১ হাজারের বেশি ভোটদাতা থাকতে পারবেন না। কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভোট দিতে দেওয়া যাবে না। কমিশন জানিয়েছে, দেহের তাপমাত্রা মাপবেন পোলিং বুথ কর্মী বা আশা কর্মীরা। গোটা পোলিং স্টেশনকে স্যানিটাইজ করতে হবে ভোটের আগের দিন।

যেসব ব্যক্তি এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরাসরিভাবে যুক্ত, তাদের আবশ্যিকভাবে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। ভোটাররা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন, সেই বিষয়টি নজরে রাখতে হবে কর্মীদের। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে মাস্ক পরে থাকতে হবে। ইলেকশন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিহারে ৬কোটি ৬২লক্ষ ৪৩ হাজার ১৯৩ জন নথিভুক্ত ভোটার রয়েছেন। এই বছর ১৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৭৬৭ জন ভোটারের নাম নতুন করে নথিভুক্ত হয়েছে। ২৪৩টি আসনের বিধানসভা ভোটে প্রত্যেক নথিভুক্ত ভোটারকে গ্লাভস দেওয়া হবে। ইভিএমে ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণের আগে সেই গ্লাভস পরতে হবে।

আরও পড়ুন: দেশবাসীকে গণেশ চতুর্থী শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, করোনা আক্রান্তরাও এবার আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, ৮০ বছরের উর্ধ্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরও ভোট দেওয়ায় বাধা রইল না। তবে এই দুই ক্ষেত্রেই ভোট দিতে হবে ব্যালট পেপারে। এবার থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে অনলাইনেও। তবে কোনও প্রার্থী যদি সশরীরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান, তাহলে তাঁর সঙ্গে কেবল দু’‌জন থাকতে পারবেন। নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত কাজের সময় উপস্থিত প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এছাড়া বাড়ি–বাড়ি প্রচারের ক্ষেত্রে পাঁচজনের বেশি যেতে পারবেন না। রোড–শোয়ের ক্ষেত্রে পাঁচটির বেশি গাড়ি থাকবে না। আর সমস্ত ক্ষেত্রেই মেনে চলতে সামাজিক দূরত্ববিধিও। শুধু তাই নয়, অমান্য করা যাবে না স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিধিনিষেধ।

টোকেন সরবরাহের জন্য একটি করে হেল্প ডেস্ক তৈরি করা হবে। যিনি আগে আসবেন, তিনি আগে টোকেন পাবেন, এই নীতিতে টোকেন দেওয়া হবে। বুথে কোনও ভাবেই যাতে ভীড় জমে না যায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। লাইন যেদিকে দাঁড়াবে, আগে থেকে জায়গা চিহ্নিতকরণ করা হবে। স্বেচ্ছাসেবকরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে সাহায্য করবেন ভোটারদের। পোলিং বুথ তৈরির জন্য বড় হলঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। পর্যাপ্ত গাড়ি পোলিং অফিসার ও নির্বাচনী আধিকারিকদের যাতায়াতের জন্য রাখতে হবে। কমিশন জানিয়েছে যদি কোনও নির্বাচনী আধিকারিকের দেহের তাপমাত্রা বেশি থাকে, তাদের তত্‍ক্ষণাত্‍ সেই প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আধিকারিক রাখা প্রয়োজন।

Related Articles

Back to top button
Close