fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া নয় এবার পোস্টার লাগাব দেওয়ালে: বিজেপি মহিলা মোর্চা সহ-সভাপতি সংঘমিত্রা চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্লক করছে তাই দেওয়ালে পোস্টার মেরেছি।’ তোপ দাগলেন বিজেপি মহিলা মোর্চা সহ-সভাপতি সংঘমিত্রা চৌধুরী। রবিবার যুগশঙ্খকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এভাবেই বুঝিয়ে দিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দমিয়ে রাখা যাবে না রাজ্য বিজেপিকে। রেশন সহ একাধিক দুর্নীতি নিয়ে এদিন রাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন সংঘমিত্রা।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্নীতিতে সরব হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির কর্মীদের অ্যাকাউন্ট। আর তাই প্রতিবাদে সরব হয় এদিন দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে প্রতিটি দেওয়ালে দেওয়ালে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা তুলে ধরে লাগানো হয় পোস্টার। এ সময় ছাপাখানা বন্ধ থাকায় নিজেদের বাড়ির কার্ট্রিজ ব্যবহার করে পোস্টার ছাপানো হয়। অনেক পোস্টার আবার হাতেও লেখা হয়। আর সেগুলিকে দেওয়ালে দেওয়ালে লাগিয়ে প্রতিবাদ দেখানো হয়।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি মহিলা মোর্চা সহ-সভাপতি সংঘমিত্রা বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি চলছে। কখনও করোনায় মৃত বা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে। আবার কখনো রাতের অন্ধকারে মৃতদেহ লোপাট করে। আবার কখনও রেশন নিয়ে চলছে ব্যাপক দুর্নীতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা শাসক দল তৃণমূলের দুর্নীতির কথা তুলে ধরি। সে কারণেই কার্যত ব্লক করা হয়েছে বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলিকে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা প্রতিবাদে সরব হয়ে আজ দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে শাসকের দুর্নীতির কথা পোস্টারে লিখে দেওয়ালে দেওয়ালে আটকে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ মানুষের কাছে শাসকের দুর্নীতির কথা তুলে ধরার জন্য আমাদের কোনওভাবে আটকানো যাবে না। সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে আমরা দেওয়ালে পোস্টার আটকাব। আর সেটাই আজ করেছি। মানুষের জানার প্রয়োজন আছে এই সরকার মানুষের জন্য কি করছে। আর কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত। করোনার মত ভাইরাসের সংক্রমণের সময়ও নিজেদের দুর্নীতি ঠেকাতে পারছে না এই সরকার। তাই সব কিছু উপেক্ষা করেই তড়িঘড়ি ভিন রাজ্য থেকে ডেকে আনা হল রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরকে। এই সরকার কি সত্যিই রাজনৈতিক বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। যে বাইরে থেকে ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে প্রশান্ত কিশোরকে ডেকে আনতে হল পরিস্থিতি সামাল দিতে। শাসক দল তৃণমূল এত টাকা পাচ্ছে কোথা থেকে? তাও মানুষকে জানানো উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের এই অতিমারীর সময়তেও ক্লাবগুলোকে লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। আমরা জানতে চাই এ কাদের টাকা? কেনই বা দেওয়া হচ্ছে? যেখানে সাধারণ মানুষ খেতে পারছে না সেখানে এই টাকা দেওয়ার অর্থ কি? আমরা জানতে পেরেছি আরামবাগের বেশ কয়েকটি ক্লাবে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। একদিকে ক্লাবকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে আর একদিকে রাজ্যজুড়ে চলছে ভয়ানক রেশন দুর্নীতি। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী চাল ডাল আটা দেওয়ার কথা রেশন দোকানগুলিতে। কিন্তু চাল পাওয়া গেলেও ডাল এবং আটা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।’

লকডাউন পর্বে এদিন বিজেপি মহিলা মোর্চা সহ-সভাপতি সংঘমিত্রা চৌধুরী নিজের ঘরে বসেই প্রতীকি প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। লকডাউন অবস্থায় এটাই রাজ্য বিজেপির প্রথম প্রতিবাদ। পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে রজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মী-নেতা নেত্রীরা নিজের বাড়িতে বসেই এই প্রতীকি প্রতিবাদে সামিল হন। এদিন প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বরা।

 

Related Articles

Back to top button
Close