fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দু’দুইটি শ্মশানে ঘুরেও মিলল না ঠাঁই, শেষে জওয়ানের শেষকৃত্য জঙ্গলে

বিজয় চন্দ্র বর্মন , মেখলিগঞ্জ: এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষ্য। করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়া সত্বেও গ্রামবাসীদের বাধাদানে ঘন্টার পর ঘন্টা শ্মশানে শ্মশানে ঘুরেও মিলল না ঠাঁই। অবশেষে প্রশাসনের সহযোগিতায় জামালদহের জঙ্গলে শেষ কৃত্য সম্পন্ন করা হল দিল্লি ফেরত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত মেখলিগঞ্জের জওয়ানের।

 

 

মঙ্গলবার বিকেল চারটে থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত মৃতদেহ নিয়ে এভাবেই হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল মৃতর পরিবারের বলে অভিযোগ। এমনকি জামালদহের কোনও শ্মশানেই দেহ দাহ করতে দেওয়া হয়নি বলে মৃতর পরিবারের অভিযোগ। পুলিশের হস্তক্ষেপেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন গ্রামবাসীরা। অবশেষে গভীররাতে জামালদহের জঙ্গলে দেহ দাহ করা হয়েছে। আর এরকমই অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকলো মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ।

 

 

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে কোচবিহার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। নাম রাজেন লস্কর (৫৮)। বাড়ি কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহে। মঙ্গলবার বিকেল চারটে নাগাদ মৃতদেহ এলাকায় পৌঁছায়। তারপর দেহ সুটুঙ্গা নদীর তীরের শ্মশান ঘাটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের লোকেরা। কিন্তু শ্মশানে পৌঁছানোর পথ বাঁশ বেঁধে বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এরপর বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে শিউলি নদীর তীরে দেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেখানেও স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়তে হয় তাদের। এমনকি সেখানে নিজের চা বাগান এলাকাতেও দেহ দাহ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানান পরিবারের লোকেরা।

 

 

এই নিয়ে পরিবারের লোকেদের সাথে স্থানীয় লোকজনদের গোন্ডগোল বাঁধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ। কিন্তু তাতেও স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকে। করোনা সংক্রমনের ভয়েই নাকি তারা দেহ দাহ করতে দেবে না এলাকায়।অথচ জেলা প্রশাসন থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওই ব্যাক্তি কোনওভাবেই করোনা সংক্রমিত ছিলেন না। তার করোনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। কোনওভাবেই মৃতদেহ থেকে করোনা সংক্রমনের সম্ভাবনা নেই। তিনি দীর্ঘদিন থেকে নিউমোনিয়ায় ভুগছেন। অন্যকারনে তার মৃত্যু হয়েছে এবং সেজন্যই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এলাকাবাসীর একাংশের এই অমানবিক আচরনে হতভম্ব মৃতর পরিবার। শেষ পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তায় জামালদহের বনাঞ্চলে দেহ দাহ করা হয়েছে। এলাকায় কিছু নামে বিজ্ঞ মানুষের অপপ্রচারে ও সচেতনতার অভাবে এরকম একটি অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকলো জামালদহ, এমনটাই মনে করেছেন অনেকে। একজন সেনা জওয়ান যে কিনা নিজেকে দেশ সেবায় নিয়োজিত করেছিল, তার মৃত্যুতে এলাকাবাসীর এরকম আচরন একেবারে উচিত হয়নি বলে মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।

Related Articles

Back to top button
Close