fbpx
দেশহেডলাইন

‘কৃষকদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো ভয় পাচ্ছে বিরোধীরা’, কৃষি বিল নিয়ে কটাক্ষ মোদির

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: তীব্র বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যসভার পাশ হয়েছে কৃষি বিল টুইট করে কৃষকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশজুড়ে এই বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন কৃষকরা। সরব বিরোধীরাও। এমন পরিস্থিতিতে এই ‘ঐতিহাসিক’বিল নিয়ে সোমবার রীতিমতো জাতির উদ্দেশে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বিল যে কৃষিমাণ্ডি বিরোধী নয়, তাও এদিন স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। আবার এই বিলের বিরোধিতা করায় বিরোধীদেরও একহাত নিলেন মোদি। বললেন, “কৃষকদের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ফসকে যাওয়ার ভয়ে মিথ্যা বলে ভুল বোঝাচ্ছে বিরোধীরা”।

এদিন ভারচুয়ালভাবে বিহারে ঘর তক ফাইবার-সহ একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকেই ফের একবার এই বিল নিয়ে বক্তব্য রাখেন।প্রধানমন্ত্রী কথায়, “একুশ শতকে দাঁড়িয়ে কৃষকদের আয় বাড়াতে, তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে এই বিল অত্যন্ত সহায়ক। এই বিল আইনে পরিণত হতে দেশের যে কোনও প্রান্তে নিজেদের ফসল বিক্রি করতে পারবেন চাষিরা”। মোদির কথায়, ‘কৃষি ক্ষেত্রে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনে কিছু মানুষ ভয় পাচ্ছেন, ক্ষমতা হাতের বাইরে চলে যাবে। তাই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ইস্যুতে চাষিদের ভুল পথে চালিত করছে।’ বিহারে একটি জাতীয় সড়কের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় কৃষি বিল ইস্যুতে একথা বলেন মোদি।

কৃষি মণ্ডি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫-৬ বছরে, সরকার ক্রমাগত চেষ্টা করেছে কৃষি মণ্ডিকে আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক করার। তার জন্য কম্পিউটারাইজেশন করা হয়েছে মণ্ডিগুলির। যারা বলছে, কৃষি ক্ষেত্রে নয়া সংস্কারে কৃষি মণ্ডিগুলি বিপদের মুখে পড়বে, তারা কৃষকদের মিথ্যে কথা বলছে। কৃষকদের হাত বাঁধা। তাই কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নেয় কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষ। তাই এই বিল আনা জরুরি ছিল।’

আরও পড়ুন: আজ তিনদিনের সফরে রাজ্যে আসছেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত

বিরোধীদের দাবি, এই আইন কার্যকর হলে প্রতিবছর ন্যূনতম সহায়কমূল্য দিয়ে সরকার সরাসরি চাষিদের থেকে ফসল কেনার প্রথা লোপ পাবে। বেসরকারি হাতে চলে যাবে বাজার। ফলে বিপুল ক্ষতি হবে চাষিদের। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকার কৃষিমাণ্ডিগুলি গুরুত্ব হারাবে। এই অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “বিরোধীরা নিজেদের স্বার্থে ভুল বোঝাচ্ছে। কৃষিমাণ্ডি বন্ধ হবে না। বরং সরকার এটাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে। যাঁরা আজ প্রশ্ন তুলছেন তাঁরাই এতদিন ন্যূনতম সহায়কমূল্যের বিষয় চাষিদের ঠকিয়েছেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কৃষি দরদী”। একইসঙ্গে মোদির আশ্বাস, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বিনিময় সরকার যেমন ফসল কিনত তেমনই কিনবে।

প্রতিবাদে সরব চাষিরা জানাচ্ছেন, এই তিন বিলের ফলে দেশের কৃষিব্যবস্থা কর্পোরেটদের কুক্ষীগত হয়ে যাবে। আর্থিক ভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে চাষিরা। অল ইন্ডিয়া কিষান সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটির জাতীয় আহ্বায়ক ভিএম সিংয়ের কথায়, ‘আমরা দেশজুড়ে সব কৃষককে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ডাক দিয়েছি। সরকার দাবি করছে, এই বিলগুলির জন্য কৃষকরা খুশি, কিন্তু আসলে আমরা ভয়ে রয়েছি, এখন যাও বা একটু নূন্যতম সহায়ক মূল্য পাই, এ বার তাও জুটবে না। কৃষি ব্যবস্থাটাই কর্পোরেটদের হাতে চলে যাবে।’

Related Articles

Back to top button
Close