fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

করোনা রোগীদের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দেওয়া নবান্নের অডিট কমিটির ডেট সার্টিফিকেট-এর যৌক্তিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি রাজ্যের দ্বিচারিতা নিয়ে সরব হন। এর আগে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও একি বিষয় প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। এবার সেই অভিযোগ প্রদেশ কংগ্রেসের গলাতেও।

এ প্রসঙ্গে সোমেন বলেন, ‘যে হাসপাতালে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হচ্ছে, সেই হাসপাতালের ডাক্তাররা রোগীর দেহে ভাইরাস-এর অস্তিত্ব বুঝেই তো চিকিৎসা করেন। অর্থাৎ তাঁদের সিদ্ধান্তই তো চূড়ান্ত হওয়া উচিত। ডেথ সার্টিফিকেট তো সেই চিকিৎসকই দেবেন, তবে নবান্নের অডিট কমিটির ছাড়পত্রের প্রয়োজন কি? তবে কি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য চাপার যে অভিযোগ উঠছে সেটা কি সত্যি?’

সোমেন মিত্রের কথায় স্পষ্ট এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য একমাত্র চিকিৎসকই শেষ ভরসা।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, যারা প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে করোনা রোগীর চিকৎসা করছেন তাঁদের উপরে এই অডিট কমিটি চাপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত অপমানজনক এবং চাপের।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এখন আবার করোনা হাসপাতালের অব্যবস্থার ভিডিও বাইরে আসায় হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং রোগীর পরিজনদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হল।

স্বাস্থ্যদফতরের এই নির্দেশের পরে তথ্য চাপার অভিযোগ আরও জোরালো হল না কি ?’
পাশাপাশি এদিন তিনি রাজ্যের গণবণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন সোমেন মিত্র। তিনি বলেন, ‘রেশন এবং আইসিডিএস-এর দূর্নীতি এখন রাজ্য জুড়েই চলছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে এই প্রসঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে। তার পরেও এই দূর্নীতি চলছেই, ফলে গরিব মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। দূর্নীতি মুক্ত খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখতে প্রতিটি রেশনিং এলাকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি সর্বদলীয় পর্যবেক্ষণ কমিটি করার প্রস্তাব রাখছি।’

এছাড়া এ রাজ্যে লকডাউন পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যে কেন্দ্রীয় দল এসেছে তাদের রাজ্যের সরকার যেভাবে বাধা দিচ্ছে তা নিয়েও এদিন সোমেন মিত্র প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ধারা এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বলে এই রাজ্যে যে কেন্দ্রীয় দল এসেছে তাঁদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা যেমন সাংবিধানিক অধিকার দেখাচ্ছেন, সেরকম ভাবে দায়িত্বও পালন করুন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মতো খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ কেজি চাল এবং ১ কেজি ডাল যাতে গরিব মানুষ পায় তার ব্যবস্থা করে দায়িত্ব পালন করুক।’

একই সঙ্গে তিনি এদিন চিকিৎসক নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছে আবেদন জানান, ‘অনেক ডাক্তার, নার্স , স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে করোনা ভাইরাস পজিটিভ হওয়ায়, সংক্রমণের ভয়ে একের পর এক হাসপাতাল বন্ধ হচ্ছে। তাহলে হার্ট , কিডনি , ক্যানসার রোগিদের কি চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে ? অনেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগও বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের অনুরোধ এই সব পরিষেবা বজায় রাখুন। দরকারে রাজস্থান সরকারের মত জরুরি পরিষেবার জন্য মোবাইল ভ্যানের ব্যবস্থা করুন।’

Related Articles

Back to top button
Close