fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মারধোর করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে জামাইকে প্রাণে মারার অভিযোগ শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,  বর্ধমান:  শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধোর করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে জামাইকে প্রাণে মারার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার বিকালে জামাই শাহাজান সেখ (৩৭)এর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম থানায় উক্তা গ্রামে। বীরভূম জেলার বোলপুর থানার ঘিদহ এলাকায় শাহাজানের শ্বশুরবাড়ি। সোমবার বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে মৃত ব্যক্তির দেহের ময়নাতদন্ত হয়। মৃতের পরিবার ঘটনা সবিস্তার উল্লেখ করে বোলপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করেছেন। দোষীদের শাস্তির দাবিতে মৃতের পরিবার পরিজন ও প্রতিবেশীরা সোমবার দুপুরে বর্ধমান বোলপুর জাতীয় সড়কে গোবিন্দপুর মরে পথ অবরোধ করে

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে,বছর সাত আগে উক্তা গ্রামের যুবক শাহাজান সেখের  সঙ্গে বিয়ে হয় বোলপুর থানার ঘিদহ এলাকার তরুণী ফারহানা বেগমের।  তাঁদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর পর অপর এক পুরুষের সঙ্গে ফারহানার  বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।  শাহাজান  তা জানতে পারার পর ফারহানার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়। দু’জনেই  আলাদা থাকতে শুরু করেন। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

[আরও পড়ুন- লকডাউনে বাংলাদেশে আটকে অসুস্থ বৃদ্ধা, মাকে বাড়িতে ফেরাতে বিভিন্ন দফতরে ছুটছে ছেলে]

মৃতের ভাই বাবর আলি এদিন বলেন, মেয়ে কান্নাকাটি করছে বলে জানিয়ে  দিনকয়েক আগে  ফারহানা ফোন করে শাহাজানকে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে পাঠায়। মেয়ের মায়ায় শাহাজান বোলপুরে শ্বশুরবাড়িতে যায়। বাবর বলেন, এরপর থেকে তাঁরা শাহাজানের সঙ্গে আর কোনওভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি। তাঁরা  বোলপুর থানায় গিয়ে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। তারইমধ্যে গত বুধবার শাহাজান তাঁদের এক আত্মীয়কে ফোন করে।

তাঁকে শাহাজান জানায় যে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে মারধোর করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে  বাথরুমে আটকে রেখেছে। বাবর আলি জানান যে, এই খবর পেয়েই পরিবাবার লোকজন সবাই শাহাজানের শ্বশুর বাড়িতে যান। সেখান থেকে শাহাজানকে উদ্ধার করে তাঁরা বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই দিনই ফারহানা সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বোলপুর থানায় এফ আই আর দায়ের করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁরা  বৃহঃস্পতিবার সাহাজানকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনেন।  পরে তাঁকে বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। কিন্তু ষেখানেও শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি না হওয়ায় তাঁরা রবিবার ফের তাঁকে বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি করেন। রবিবার বিকালে সেখানেই সাহাজান মারা যান। এদিন

বর্ধমান হাসপাতালে হাজির থাকা মৃতের জামাইবাবু সেখ উজ্জ্বল বলেন, ‘এক্স রে রিপোর্টে দেখা গেছে সাহাজানের পাঁজরের হাড় ভাঙ্গা রয়েছে। তার থেকে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে শাহাজানকে ব্যাপক মারধোর করার পর  তাঁর মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া  হয়েছিল। তার জেরেই শাহাজানের মৃত্যু হয়েছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close