fbpx
কলকাতাহেডলাইন

দূরত্ব ঘোচাতে মরিয়া তৃণমূল শুভেন্দুর সঙ্গে আজ ফের বৈঠকে সৌগত

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দূরত্ব কমাতে ফের সক্রিয় তৃণমূল। আজ ফের শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সাংসদ সৌগত রায়। তৃণমূল ভবনেই এই বৈঠক হতে চলেছে। এমনটাই জানা গিয়েছে। ভাইফোঁটার দিন নিউ টাউনে প্রথম বৈঠক হয় দুপক্ষের। সেখানে নিজের বক্তব্য সৌগতবাবুকে জানান শুভেন্দু। জানা গিয়েছে, শুভেন্দুর বক্তব্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানান সৌগত রায় তার পরই সোমবার ফের বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।

আজকের এই বৈঠক প্রসঙ্গে সৌগত রায় বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলার জন্য দল আমায় বলেছে। আমি চেষ্টা করছি ওর সঙ্গে কথা বলতে। ওর কিছু দাবি আছে। সেই নিয়ে আজ আলোচনা  হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, সৌগত রায়ের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে জেলা পর্যবেক্ষক পদ ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেছিলেন শুভেন্দু। সেই পদ ফেরানো সম্ভব কি না তাও এদিন জানানো হতে পারে তাঁকে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শুভেন্দুর রাজনৈতিক ভবিষ্যত কী হবে তা এদিন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, এদিন দুপুরে তৃণমূল ভবনে নিজেদের মধ্যে একদফা বৈঠক করেন দলীয় নেতৃত্ব। যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌগত রায়, সুব্রত বক্সী, পূর্ণেন্দু বসু, দোলা সেন প্রমুখ। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পিকেও। সূত্রের খবর, তৃণমূলের একাংশ মনে করছে যে, শুভেন্দুর পর্যবেক্ষক হওয়ার দাবির মধ্যে যুক্তি আছে। কারণ তাঁর অধীনে থাকা জেলাতে দল ভালো ফল করেছে। অন্যদিকে, দল শুভেন্দুর কোন কোন দাবিগুলো মেনে নিতে পারে বা মেনে নেবে, তার একটি তালিকাও নাকি বৈঠকের পর সৌগত রায়ের কাছে দিয়ে গিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।

নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈাতিক অবস্থান নিয়ে কিছুদিন ধরেই ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। রাজ্যের নানা জায়গায় তাঁর সমর্থনে পোস্টার পড়ছে।এমনকী অরাজনৈতিক একাধিক সভায় দলের নাম না করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু। তারপর থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তীব্র হয়। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই শুভেন্দু অধিকারীরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জোর ধাক্কা MIM’র, তৃণমূলে যোগদান আনোয়ার সহ এক ঝাঁক রাজ্য নেতার

তবে কয়েকদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের একটি সভায় শুভেন্দু ধোঁয়াশা রেখেই মন্তব্য করেন, ‘আমি এখনও দলের প্রাথমিক সদস্য। রাজ্য মন্ত্রিসভারও সদস্য। দলের নিয়ন্ত্রকরা আমাকে তাড়াননি। আমিও দল ছাড়িনি। মুখ্যমন্ত্রী আমায় মন্ত্রিসভা থেকে তাড়ািয়ে দেননি। আমিও ছাড়িনি। যে ক’টি পদে আছি, সবকটিতেই আমি নির্বাচিত। মন্ত্রিসভায় থেকে দলের বিরুদ্ধে আমি কথা বলব না।’

শুভেন্দু আরও বলেছিলেন, ‘দল করতে বিভিন্ন কারণে গেলে বিভেদ আসে। বিভেদ থেকে বিচ্ছেদও আসে। কিন্তু যতক্ষণ মন্ত্রিসভায় আছি বা দলে আছি, ততক্ষণ কোনও রাজনৈতিক কথা বলা যায় না। আমি সেটা বলতে পারি না।’ এরপরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুভেন্দু দলেই রয়েছেন। কিন্তু তার আগে ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের মত দলের নেতারা নাম না করেই শুভেন্দুকে কড়া আক্রমণ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সমঝোতা করতে প্রথমে তাঁর বাড়িতে যান তৃণমূলের ভোট-কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। তিনি কাঁথির অধিকারী বাড়িতে যখন যান, শুভেন্দু বাড়িতে ছিলেন না। তারপর সেখানে বসেই ফোনে কথা হয় শুভেন্দুর সঙ্গে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। এরপরই দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয় শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলার জন্য।

 

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close