fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

দুই বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুর কিনারার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ সৌমিত্র খাঁ ও নিশীথ প্রামানিক

পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার আবেদন দুই নেতার

ইন্দ্রানী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের দুই বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুর কিনারা করার জন্য সিবিআই তদন্ত এবং পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর দ্বারস্থ হলেন বঙ্গ বিজেপির পক্ষে যুব সভাপতি সৌমিত্র খাঁ এবং কুচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পশ্চিমবঙ্গের করো না পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

বৃহস্পতিবার মথুরাপুর লোকসভার অন্তর্ভুক্ত,132- সাগর বিধান সভার অন্তরগত সাগর মণ্ডল-1এর ঘোড়ামারা গ্রাম পঞ্চায়েতের 2-নং বুথের সম্পাদক গৌতম পাত্র এবং পূর্ব মেদিনীপুর রামনগরের বুথ সভাপতি বিজেপি কর্মী পূর্ণ চন্দ্র দাসের মৃত্যু যে আসলে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলের পরিকল্পিত খুন এই অভিযোগ নিয়ে বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে দুই সাংসদের প্রতিনিধিদল দেখা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাথে। পরে  যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে যুব সভাপতি সৌমিত্র খান বলেন, আমাদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। তিনি সবটাই জানেন । বাংলার বর্তমানে শাসন ব্যবস্থা যে কিভাবে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করছে সেটা সবটাই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আছে। একের পর এক বিজেপি কর্মী খুনের প্রতিবাদে আমরা আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বারস্থ হয়েছি। কারণ বাংলায় বিরোধী রাজনীতি করার কোনো পরিবেশ নেই। যারাই বিরোধিতা করবে তাদেরই হয় খুন হতে হবে না হলে মিথ্যে মামলায় জেলে পচতে হবে। তাই আমরা  বাংলায় সুষ্ঠু গণতন্ত্র ব্যবস্থা সু প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে প্রত্যেকটি খুনের  জন্য সিবিআই তদন্তের দাবির সাথে সাথে বাংলায় অবিলম্বে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার আবেদন জানাচ্ছি।
কারণ বাংলার যুবকদের উপরে যে নির্মমতা দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক কথায় বীভৎস এবং মারাত্মক। সেই কারণে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নির্দেশমতো আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্ত হয়েছি তিনি আমাদের এই বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক বলেন বাংলায় বর্তমানে জঙ্গলের রাজত্ব চলছে। প্রায় প্রতিদিনই বাংলায় কোথাও না কোথাও নারীরা ধর্ষিত হচ্ছেন ।আবার সেই ধর্ষণের অপরাধে তার পরিবার তার বাবা ভাই এদেরকে জেলে আটকে রাখছে পুলিশ। এ কোন বাংলায় আমরা বাস করছি? সংসদ থেকে শুরু করে বুথ কর্মী পর্যন্ত কারোর শাসকদলের বিরোধিতা করার অধিকার নেই। আর এইসব করতে গিয়ে বাংলার শাসন ব্যবস্থা -শিক্ষা ব্যবস্থা- স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে ।প্রতিদিনই  হসপিটালে চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তায় বা হাসপাতালের সামনে  মাটিতে মারা যাচ্ছেন করোনা সংক্রমিত রোগীরা । করো না রোগীকে পাঁচ কিলোমিটার ১০ কিলোমিটার দূরে হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চার্জ করছে  হাজার হাজার টাকা ।নীল-সাদা রংয়ের সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের নামে যে হাসপাতালগুলো এই সরকার খাড়া করেছে সেখানেই কোন সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। যখন সারা দেশ লকডাউন করে করোনা সংক্রমণকে আটকানোর চেষ্টা করলো তখন সারা বাংলার লোক স্বাভাবিক জীবন যাপন করলো। আর এখন যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে তখন একটা অদ্ভুত রকমের লকডাউন করে করোনাভাইরাস কে সামলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই আমরা পশ্চিমবঙ্গের বেহাল শাসন ব্যবস্থার সাথে সাথে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেউ উন্নয়নের জন্য অমিত শাহজীর কাছে আবেদন জানিয়েছি ।কারণ তিনি যেভাবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দিল্লির মারাত্মক  করোনা পরিস্থিতি সামলেছেন তাকেই মডেল করে পশ্চিমবঙ্গে ও যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা হয় সেই ব্যাপারে তার হস্তক্ষেপ আমরা দাবি করেছি।

Related Articles

Back to top button
Close