fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হাতকে জীবাণু মুক্ত রাখতে দুর্গাপুরের সি.এম.ই.আর.আই. স্পর্শহীন সাবান ও জল ছড়ানোর এক বিশেষ যন্ত্র উদ্ভাবন করল

দুর্গাপুর, সংবাদ সংস্থা: কোভিড-১৯ জীবাণুটি অপ্রত্যাশিত হারে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে নাগরিক সমাজের প্রত্যেকের কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-বর্ণিত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধিগুলি কঠোরভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী হয়ে উঠেছে। সারাদিন একাধিক বস্তুর সংস্পর্শে আসার দরুন আমাদের হাত কোভিড-১৯-এর মতো মারণ জীবাণু বহনের ক্ষেত্রে সব থেকে সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই সাধারণ ভাবে হাত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি, প্রত্যেক ব্যক্তির বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতি-নির্দেশিকাগুলি মেনে চলা আবশ্যক, কারণ সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে হাত জীবাণুমুক্ত রাখা যায়।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পর্ষদের অধীন দুর্গাপুর-স্থিত সি.এম.ই.আর.আই.-সি.এস.আই.আর. প্রতিষ্ঠানটি হাত জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য স্পর্শহীন সাবান তথা জল ছেটানোর বিশেষ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। এই যন্ত্রটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যখনই আমাদের হাত যন্ত্রের কাছাকাছি আসবে তখনই স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে সাবান ও জল একসঙ্গে বেরিয়ে আসবে। যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসা সাবান ও জলের সংমিশ্রণে তৈরি তরল পদার্থটি ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে একাধিকবার বেরিয়ে আসবে।

এ প্রসঙ্গে দুর্গাপুরের এই প্রতিষ্ঠানটির নির্দেশক তথা অধ্যাপক ডঃ হরিশ হিরানী জানিয়েছেন, যন্ত্র থেকে ২০ সেকেন্ড সময়ের ব্যবধানে বেরিয়ে আসা তরল এই পদার্থটি হাতকে জীবাণুমুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। যন্ত্রটিতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদর্শ স্বাস্থ্যবিধির মান অনুযায়ী, অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত সাবান ও জল দিয়ে ঘষার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা করে দেয়। গবেষণা এবং আর্থিক চাহিদার বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে এই প্রযুক্তটি আবিস্কার করা হয়েছে, যাতে যন্ত্রটি সকলের কাছে সহজলভ্য হয়ে ওঠে। স্পর্শহীন সাবান তথা জল ছেটানোর এই যন্ত্রটি বিভিন্ন জায়গায় যেমন হাসপাতাল, শপিংমল, ব্যাঙ্ক, স্টেডিয়াম, মার্কেট কমপ্লেক্স প্রভৃতি জায়গায় ব্যবহার করা যাবে।

এই অভিনব যন্ত্রের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট নিম্নরূপ –

  • সহজে বহনযোগ্য
  • স্পর্শ ছাড়াই সাবান ও জল বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা
  • সাবান ও জল বেরিয়ে আসার জন্য একটি মাত্রই কল
  • একক আই.আর সেন্সর অর্থাৎ সংবেদনশীল স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
  • যন্ত্রে বসানো জলের ট্যাঙ্কের (তরল সাবান সহ) ধারন ক্ষমতা ২৫০ মিলিলিটার (এই ধারন ক্ষমতা এক লিটার পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে)
  • দুর্গাপুরের সি.এম.ই.আই.আর. প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকটি অভিনব উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল –
  • অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার –

  • অ্যালকোহল-ভিত্তিক তরল হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৭৫ শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে, যা জলের ব্যবহার ছাড়াই অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দমনে সক্ষম। তরল এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতকে যেমন জীবাণুমুক্ত রাখে তেমনি হাতের শুষ্কতাও বজায় রাখে।
  • হাত পরিষ্কার রাখার জন্য মৌলিক তরল সাবান –

  • ব্যয় সাশ্রয়ী,।

  • যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তরল সাবান।

এই সাবানে পাম অয়েল, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড, সোডিয়াম সালফেট, গ্লিসারিন, বোরিক অ্যাসিড, অন্যান্য আবশ্যিক তেল, রং এবং ডিস্টিল্ড ওয়াটার রয়েছে।

দুর্গাপুরের এই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জেলার রাজবাঁধে ইন্ডিয়ান অয়েলের যে টার্মিনাল রয়েছে, সেই টার্মিনালের চিফ ম্যানেজারের হাতে একটি বহনযোগ্য স্পর্শ ছাড়া সাবান তথা জল ছেটানোর যন্ত্র এবং ৫০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close