fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গাছ থেকে আম পাড়া এবং প্যাকেজিং নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ মালদায়

মিল্টন পাল, মালদা: মরশুমের শুরুতে পরপর শিলাবৃষ্টি, আমফান ঝড়ে ক্ষতির মুখে মালদার আম চাষ। গাছ থেকে আম পাড়া এবং প্যাকেজিং করার ক্ষেত্রে চাষিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করল সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট ফর সাবট্রপিক্যাল হর্টিকালচার (সিআইএসএইচ) সংস্থার কর্তারা। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিদের নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে গাছ থেকে আম পাড়া, এবং তার পরিষ্কার করার প্রক্রিয়াকরণ।

পাশাপাশি শুরু হয়েছে বিশেষ উপায়ে প্যাকেটজাত করার প্রশিক্ষণ।  যার ফলে রফতানির ক্ষেত্রে আমের টেকসই অনেকটাই ভালো থাকবে।

আরও পড়ুন:করোনার জেরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ালো হাইকোর্ট

বুধবার পুরাতন মালদা ব্লকের সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় সিআইএসএইচ দফতরের আধিকারিকরা আমের বাগানগুলির তদারকি করেন। সেখানে কি পদ্ধতিতে গাছ থেকে আম পাড়া হচ্ছে, তাও বিশেষভাবে খতিয়ে দেখেন। সঠিকভাবে আম পাড়ার ক্ষেত্রে কতটা সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এলাকার আমচাষিদের সঙ্গে কথা বলেন সিআইএসএইচ দফতরের বিশেষজ্ঞ আধিকারিকেরা।

এরপর সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাদিরপুর শান্তিপুর, ডিসকোমোর এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন আরতে আমের প্যাকেটজাত করার পদ্ধতি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেন। কিভাবে আমের প্যাকেজিং করা হচ্ছে এবং সেই প্যাকেজিং করার ক্ষেত্রে আম কতদিন বাক্সবন্দি থাকবে তা নিয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেন সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তারা।

আরও পড়ুন: পৃথিবীতেই ‘মঙ্গলগ্রহ’ বানাচ্ছে দুবাই!

ওই সংস্থার কর্তাদের  সামনে পেয়ে আমিচাষিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আমচাষিদের বক্তব্য, দায়সারা ভাবে কেউ ফরমালিন ব্যবহার করে, আবার কেউ কার্বাইড ব্যবহার করে আম রফতানির করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যেহেতু লকডাউনে গাড়ি মেলা ভার। তাই আরতে বাক্সবন্দি আম মজুত থেকে পচে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তড়িঘড়ি গাছ থেকে আম পেড়ে সেগুলি বাইরে রফতানি করার কাজের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারিভাবে যে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির এবং পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে আমি চাষিদের ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা করে দিবে।

সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ সাবট্রপিক্যাল হার্টিকালচারের এক সিনিয়ার আধিকারিক ডা: দীপক নায়েক বলেন, মালদার আমের সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে রয়েছে। কিন্তু এই আম এখন গাছ থেকে পাড়ার কাজ চলছে এবং প্যাকেজিং করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে কাজ করলে হবে না। তাতে আম নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকে কার্বাইড দিয়ে আমের প্যাকেজিং করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটা মোটেই সঠিক কাজ নয়। সঠিক পদ্ধতিতে গাছ থেকে যদি টুসি দিয়ে আম পারা যায়, তাহলে সেই আম প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে সহজে হবে।  পাকা আমের প্রক্রিয়াকরণ ও প্যাকেজিং বিষয়ে আম ব্যবসায়ী এবং  চাষিদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক মানের বাক্সে কিভাবে আম প্যাকেট বন্দি করা উচিত , তাও হাতে-কলমে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উদ্যানপালন দফতরের মালদার উপ-অধিকর্তা রাহুল চক্রবর্তী বলেন, তাড়াহুড়ো করে গাছ থেকে আম পাড়েন বহু চাষিরা। ঠিক সেই তাড়াহুড়োর মধ্যেই রফতানির ক্ষেত্রে প্যাকেজিং করার কাজ করেন অনেকেই। বাক্সবন্দি করার ক্ষেত্র সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার। সেই দিক থেকে প্রশিক্ষণ পেলে অনেকে উপকৃত হবে চাষিরা।

 

Related Articles

Back to top button
Close