fbpx
কলকাতাখেলাবিনোদনহেডলাইন

শ্রীরামকৃষ্ণ, পিকে, উত্তমকুমার থেকে দিলীপ রায়, সুচিত্রা মিত্র শিক্ষকধারা প্রবহমান

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: ক্যালেন্ডারের পাতায় কোনো কোনো দিন থাকে যা বছরের ৩৬৪ দিনের থেকে আলাদা। মেজাজে, গুরুত্বে, ঐতিহ্যে। তেমনই একটি দিন শিক্ষক দিবস। ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণের ,জন্মদিন ১৯৬৭ সাল থেকে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে।

সময়, যুগ বদলেছে, কিন্তু ছাত্রধারার পাশাপাশি শিক্ষকধারা প্রবহমান। শিক্ষক দিবসে বাংলার তিন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব স্মরণ করলেন তাঁদের শিক্ষকদের, যাঁরা তাঁদের পথ দেখিয়েছেন। জনপ্রিয়তম সাহিত্যিক শঙ্কর ( মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়) মনে করেন তাঁর জীবনের চলার পথে আলোকবর্তিকা শ্রীরামকৃষ্ণ। যদিও তাঁর স্কুল জীবনের এক মাস্টারমশাই, কলেজ জীবনের এক অধ্যাপকের অবদান স্বীকার করেন। কিন্তু জীবনের চলার পথে তাঁর শিক্ষক পরমপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ। ‘ মহানগর’, ‘ চৌরঙ্গী’র স্রস্টাই বলেন, ‘ জীবন সমুদ্রের লাইট হাউস শ্রীরামকৃষ্ণ। যত মত তত পথের দ্রষ্টা দেখিয়েছেন চলার পথে মনুষ্যত্ব আর ঈশ্বরে নিবেদিত প্রাণ হলে জীবন কত মধুর হতে পারে। অবশ্য এক জীবনে তাঁকে বোঝা, তাঁর দর্শন অনুভব করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমি জীবনে যে দর্শন, নীতি নিয়ে এগিয়েছি, সেই পথের দিশারী শ্রী রামকৃষ্ণ। তাই তিনিই আমার শিক্ষক, কতটুকু গ্রহণ করতে পেরেছি সে অন্য প্রশ্ন।’

তাঁকে বলা হয় ভারতের বেকেনবাওয়ার। গৌতম সরকার , দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা হাফ। তাঁর জীবনের শিক্ষক প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, পি.কে নামেই ভারতীয় ফুটবল চেনে। গৌতম সরকার মনে করেন তাঁর খেলোয়াড় জীবনের শিক্ষক পি.কে। তিনি বলেন, ‘ ১৯৬৭ তে বরদলৈ ট্রফিতে ইস্টার্ন রেলের হয়ে খেলার সুযোগ পাই। তখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি। তখন প্রদীপদা আমাকে উদ্দীপ্ত করে বলেছিলেন’ এই যে বাবা, এই বয়সে খেলতে যাচ্ছ, ভালো করে খেলো। আমার মনে আছে ওই টুর্নামেন্টে আমি একটা গোল করেছিলাম। এরপর খিদিরপুর হয়ে আমি ৭২ এ ইস্টবেঙ্গলের আসি। কোচ হিসাবে প্রদীপদাকে পাই। ইস্টার্ন রেলে প্রদীপ দাকে খেলোয়াড় ও কোচ হিসাবে পেয়েছিলাম। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের প্রদীপদার কোচিং স্টাইল একেবারে অন্যরকম, ‘ হেল অ্যান্ড হেভেন’ পার্থক্য যাকে বলে। তখন ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠে আমার লড়াই মোহন সিং, পিন্টু চৌধুরীর সঙ্গে। ওরা তখন ইণ্ডিয়া খেলে ফেলেছে। কিন্তু প্রদীপদা ভরসা দিয়েছিলেন। আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, আমি পারবো।’

একটু থেমে বললেন, ‘ মনে পড়ছে ১৯৮০র মোহনবাগান মহামেডান ম্যাচ। মহামেডান ১ গোলে জিতছে। পেনাল্টি বক্সের বাইরে ফ্রিকিক পেলাম। খেলা শেষ হতে ২৭ সেকেন্ড বাকি। আমি ফ্রিকিকে গোল করেছিলাম। প্রদীপদা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্রিকিক নেওয়াতেন। মনে আছে কসমস ম্যাচে পেলেকে মার্ক করার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছিলেন প্রদীপদা। খেলোয়াড় হিসেবে যে স্বীকৃতি পেয়েছি তার জন্য আমি প্রদীপদার কাছে ঋণী। উনি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।

আরও পড়ুন: কুমারী পুজোয় এবছর দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে বেলুড় মঠের দরজা!

বাংলা ছবির বিশিষ্ট অভিনেত্রী শকুন্তলা বড়ুয়া অবশ্য তাঁর জীবনের শিক্ষক হিসাবে একজনকে বেছে নিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘ অভিনেত্রী হিসেবেই আমার খ্যাতি ঠিকই , কিন্তু গানও আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি গায়িকা হতে চেয়েছিলাম, ঘটনাচক্রে অভিনয় জগতে চলে আসি। রবীন্দ্র সংগীত, অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্র গীতির বেসিক রেকর্ড আছে আমার। আর গানের জগতে আমার শিক্ষক হিসেবে আমি স্বীকৃতি দেবো সুচিত্রা মিত্রকে। আমি ওঁর প্রিয় ছাত্রী ছিলাম। আমার প্রথম রবীন্দ্র সংগীতের রেকর্ড বেরোয় সিবিএস থেকে। আমার ট্রেনার ছিলেন সুচিত্রা দি। এছাড়া আমি রজনীকান্ত সেনের নাতি ( বড় মেয়ের ছেলে) দিলীপ রায়ের কাছে  রজনীকান্ত, দ্বিজেন্দ্রগীতি, অতুলপ্রসাদের গান শিখেছি। কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়ের কাছেও তালিম নিয়েছি। এঁদের সবাইকেই আমি গানের শিক্ষক হিসাবে মানি।’

আর অভিনয় জগতে তাঁর শিক্ষক উত্তমকুমার। জীবনের প্রথম তিনটি ছবিই তাঁর বিপরীতে। শকুন্তলা বড়ুয়া বলেন, ‘ একজন নবাগতাকে কিভাবে সহযোগিতা করেছেন, শ্যুটিংয়ের মধ্যে শিখিয়েছেন ভাবা যায় না। প্রথম ছবি সুনয়নীর প্রথম শটে ফিসফিসিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন ক পা হেঁটে কোনদিকে কতোটা মুখ ঘুরিয়ে ডায়লগ বলবো। প্রথম শট ওকে, যার পুরো কৃতিত্ব মহানায়কের। আর একজনের কথা বলবো যিনি আমাকে ইণ্ডাস্ট্রিতে এনেছিলেন সুখেন দাস।’ কালের নিয়মে শিক্ষকরা চলে যান, বহতা নদির মতো রয়ে যায় তাঁদের শিক্ষাধারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close