fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাজ্যব্যাপী ইউনিয়ন গঠনের দাবিতে সোচ্চার গৃহপরিচারিকাদের একটি অংশ

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস, রানাঘাট: এবার রাজ্যব্যাপী ইউনিয়ন গঠনের দাবিতে সোচ্চার হল গৃহপরিচারিকাদের একাংশ। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়া জরুরি এবং এই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখেই রাজ্যের অসংগঠিত গৃহপরিচারিকাদের একটি অংশ শেষপর্যন্ত সংগঠন তৈরির পথেই হাঁটছেন।আন্দোলনের মঞ্চ তৈরি করে দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে এগোতে চান রাজ্যের গৃহপরিচারিকাদের একটি বৃহৎ অংশ। প্রথমে ছোট ছোট গ্রুপ করে অঞ্চল কিংবা পৌরসভার ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি, এরপর থানা ও জেলা কমিটি এবং পরবর্তীতে অবশ্যই রাজ্য কমিটি এই ভাবেই সংগঠনের রূপরেখা তৈরি করতে চান রেখা দেবীরা।

 

রানাঘাট সিদ্ধান্ত পাড়ার জনৈকা গৃহপরিচারিকা রেখা চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আমরা সমাজের একটি বিরাট অংশ যারা বিভিন্ন পরিবারে গৃহপরিচারিকার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। আমরা গৃহকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছি। তাই দাবি-দাওয়া আদায়ের ক্ষেত্রে এখন প্রয়োজন হয়ে উঠেছে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার। তাই এর একটাই পথ সংগঠন তৈরি করা। এই সমস্যা শুধু তাদের একার নয়। তারই সূত্র ধরে কথা বলার সুযোগ হল কল্যাণী বি ব্লকের আরও এক পরিচারিকা অন্বেষা সাহার সঙ্গে। তাঁর অভিযোগ আরও মারাত্মক। লকডাউনের ফলে এখন বাইরে বের হওয়া নিষেধ। কিন্তু এর মধ্যেই মালিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে মাস মাইনে আনতে গিয়েছিলাম। আগের মাসের কুড়ি তারিখ পর্যন্ত কাজ করেছিলাম। তারপর লকডাউন এর ফলে আর কাজে যাওয়া হয়নি তাই মালিক পুরো মাসের মাইনে না দিয়ে কুড়ি তারিখ পর্যন্ত মাইনে দিয়ে দেন। আমি বললাম মাইনে কাটলেন কেন? মালিক উত্তরে জানালেন, কাজে আসোনি তাই মাইনে কেটেছি। আমি ওনাকে বলেছিলাম আপনি তো চাকরি করেন এই লকডাউনের ফলে আপনিও তো অফিসে যেতে পারেননি?

আপনার তো মাইনে হয়েছে, কর্তৃপক্ষ কি আপনার বেতন কেটেছে? কোনো উত্তর দেননি ভদ্রলোক। আইন কি দুজনের জন্য দু’রকম! উনি যদি অফিসে না গিয়ে পুরো টাকা পেতে পারেন তাহলে আমরা কেন পুরো টাকা পাবো না? আমাদের এই সঙ্গত দাবি আদায়ের  জন্য যদি ইউনিয়ন করতে হয়, প্রয়োজনে আমরা করতে রাজি। কোন রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট হতে চান? এই প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান,  ব্যক্তিগতভাবে বিজেপির সমর্থক। কিন্তু সংগঠন করার ক্ষেত্রে কিভাবে এগোবো এই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইতি মধ্যেই কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, কল্যাণী, চাকদাহ, শান্তিপুর প্রভৃতি এলাকার এই পেশায় যুক্ত মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন রেখা দেবীরা।

Related Articles

Back to top button
Close