fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বঙ্গ-বিজেপির

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের ক্রমবর্দ্ধমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধনের সাথে দেখা করল বঙ্গ বিজেপির প্রতিনিধি দল। সেখানে তারা পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানান।
বঙ্গ বিজেপির পক্ষে যুব সভাপতি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিজেপির যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা সৌরভ সিকদার দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধনের সাথে। সেখানে তারা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একটি চিঠি তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে।
পরে যুগশঙ্খ কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারের সৌমিত্র খাঁ বলেন আমি পশ্চিমবঙ্গের একজন সাধারন মানুষ হিসাবে অত্যন্ত চিন্তিত ।যে রাজ্যে পুলিশ কর্মী থেকে শুরু করে জেলাশাসক প্রাক্তন বিচারপতি পর্যন্ত উচ্চ উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকরা বিনা চিকিৎসায় করণা সংক্রমণে মারা যায় সেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের অবস্থা কি সহজেই অনুমান করা যায় ।প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় মুখ্যমন্ত্রী 1 ঘন্টা লোক দেখানো সাংবাদিক বৈঠক করেন আর প্রতিদিনই রাজ্যের কোন না কোন প্রান্তে হাসপাতালের বেডে না পেয়ে মারা যাচ্ছেন একাধিক বঙ্গবাসী। ক্লাস টুয়েলভ এর ছাত্র শুভজিৎ থেকে শুরু করে ঠনঠনিয়া কালী বাড়ির অঞ্চলের বাসিন্দা প্রৌঢ়া লক্ষ্মী সাউ হাওড়ায় প্রাক্তন বিচারপতি চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালে দরজায় দরজায় ঘুরে মারা যাওয়া বাঙালির সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে ।করেন টাইন সেন্টার গুলোতে চিকিৎসার নামে চলছে প্রহসন। যখন সারা ভারতবর্ষে মানুষ লকডাউন মেনে চলছিলেন তখন পশ্চিমবঙ্গে সবাই মোটামুটি সাধারণ জীবন যাপন করেছেন। পুলিশ প্রথমে দু’চারদিন একটু কড়া হলেও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাদেরও হাত-পা বাঁধা হয়ে যায়।
আর এখন তো আরও অদ্ভুত সপ্তাহে যেকোনো দুদিন মাননীয়ার খেয়ালখুশিমতো ক্যালেন্ডার দেখে লকডাউন করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে ।যেখানে চিকিৎসকরা বলছেন ভাইরাসের সংক্রমনের চেন ভাঙার জন্য ন্যূনতম ৪৮ ঘন্টা ৭২ ঘন্টা একটানা লকডাউন এর প্রয়োজন সেখানে সপ্তাহে দুদিন আলাদা আলাদা লকডাউন করে পশ্চিমবঙ্গের কি সুবিধা উনি করতে চাইছেন আমরা বুঝতে পারছি না ।রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কেন্দ্রের কাছে টাকা ছাড়া আর কোন সহায়তা কখনো দাবি করা হয় না । আমি বুঝতে পারছি না যে রাজ্যে লোক সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৯ কোটির বেশি সেই রাজ্যে ভেন্টিলেটার মাত্র ৩৯৫ টি আর সংক্রমিত লোকের সংখ্যা প্রায় পঁচাত্তর হাজার।** আইসিসিইউ বেড সারা রাজ্যে আছে মাত্র ৯৪৮ টি। এখনো ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্য গুলির মত রাজ্যে রেপিড করো না টেস্টিং শুরু হয়নি ।শুধুমাত্র কলকাতায় ৫০ জনের টেস্টিং হয়েছে যার মধ্যে ১০ জন সংক্রমিত মানুষ খোঁজ পেয়েছে চিকিৎসকরা । যার মধ্যে আবার ৯ জন রোগী লক্ষণ হীন ।যা অনুপাত এর দিক থেকেও ভয়ঙ্কর। রাজ্যে যদি মারাত্মক হারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে পশ্চিমবঙ্গ চিকিৎসার অভাবে হাজারে হাজার এর লোক রাস্তায় পড়ে মারা যাবেন।
আমরা জানি দিল্লির অবস্থা একসময় মারাত্মক হয়েছিল দিল্লির প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল জুলাই মাসের শেষে দিল্লিতে ৫ লক্ষ লোক সংক্রমিত হবেন। তারা উপায় না দেখে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাতারাতি পাল্টে দেন দিল্লির পরিস্থিতি ।এখন দিল্লি প্রতিদিনের সংক্রমণ তালিকা ক্রমশ নিচের দিকে নামছে।
আমরা তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে পশ্চিমবঙ্গবাসীর হয়ে অনুরোধ জানালাম যাতে তারা পশ্চিমবঙ্গেও হস্তক্ষেপ করেন এবং রেপিড টেস্টিং ও অক্সিজেনের সুবিধাসহ প্রচুর হাসপাতালের বেড এর ব্যবস্থা করেন।

Related Articles

Back to top button
Close