fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

থেমে গেল রাজ্য সরকারের ‘প্রচেষ্টা’

কানাই সুত্রধর: গত ১০ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ফিনান্স ডিপার্টমেন্ট (অডিট ব্রাঞ্চ) এক বিজ্ঞপ্তি (1572-F(Y)) র মাধ্যমে অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য ‘প্রচেষ্টা’ নামের নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলো। কোভিড-১৯ এর কারণে পরিবারের যেসমস্ত একমাত্র উপার্জনকারী শ্রমিক, দিনমজুররা কাজ হারিয়েছিলেন তাদের ১০০০ টাকা অনুদানের কথা বলা হয়। নবান্ন সভাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন , ” যদি কারও এরকম মনে হয় যে , আমার অসুবিধে হচ্ছে তাহলে তাদের জন্য আমরা একটা নতুন স্কিম অ্যানাউন্স করলাম আজকে। যেহেতু সেন্ট্রাল গভর্নমেণ্ট এব্যাপারে এখনো কিছু করেনি, আমাদের টাকা-পয়সা সীমাবদ্ধতা আছে তা সত্বেও। স্কিমটার নাম হচ্ছে ‘প্রচেষ্টা’। এটা ১৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এপ্লাই করতে পারবেন। যারা খুব কষ্টের মধ্যে থাকবে, যাদের সত্যি কোনো ইনকাম নেই তাদের ১০০০ টাকা করে গভর্নমেণ্ট দেবে। ”

আরও পড়ুন: এবিটিএর উদ্যোগে গোয়ালতোড়, ঘাটালে ত্রাণ বিতরণ

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন দার্জিলিং এর চা বাগানের শ্রমিক থেকে ‘পিছিয়ে পড়া’ পুরুলিয়ার ইটভাটার শ্রমিক এবং মুর্শিদাবাদের রাজমিস্ত্রি থেকে সুন্দরবনের দরিদ্র মৎস্যজীবিরা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সার। গতকাল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ফিনান্স ডিপার্টমেণ্টের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলাশাসক কে একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে , প্রচেষ্টা প্রকল্পের আবেদন কারীরা ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অফিসে জমায়েত করছেন। লকডাউনের আওতায় থাকা সামাজিক দূরত্বের নিয়মাবলী বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে , ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্পের আবেদনকারীরা শারীরিক ভাবে উপস্থিত হয়ে ফর্ম জমা দিতে পারবেন না।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সাথে সাথেই এই প্রকল্পটি ‘পর্বতের মূষিক প্রসব’ এ পরিণত হল। নিভে গেলো সমগ্র বাংলার শ্রমিক-দিনমজুরদের নিত্যদিনের প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপনের প্রদীপটি। তাদের ভরসা এখন কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া পরিবারের মেয়েদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্টে ৫০০ টাকা , বিনামূল্যের গ্যাস সিলিন্ডার এবং রেশন থেকে প্রাপ্য মাথাপিছু ৫ কেজি চাল বা গম।

Related Articles

Back to top button
Close