fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

সরানো হল রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমারকে, দায়িত্বে এলেন নারায়ণ স্বরূপ নিগম

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: খাদ্যসচিবের পর এবার অপসারিত রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব। সরানো হল রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমারকে, দায়িত্বে এলেন নারায়ণ স্বরূপ নিগম। একইভাবে পরিবেশ দফতরের প্রিন্সিপাল সচিবের পদে বসলেন বিবেক কুমার নারায়ণ স্বরূপ নিগম ছিলেন পরিবহন দফতরের সচিব। এমনিতে নবান্নর সঙ্গে বেশ হৃদ্যতাই ছিল বিবেক কুমারের। এই অপসারণকে বদলি হিসাবেই দেখছে রাজ্য প্রশাসন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীদের একাধিক অভিযোগ ও দিন দিন হাসপাতালে অব্যবস্থার অভিযোগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষের জেরেই স্বাস্থ্যসচিবকে সরানো হয়েছে। এই প্রবীণ আইএএস গান গাইতে পারেন। আগে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রিন্সিপাল সচিবের দায়িত্বও সামলেছেন। সেই অনেক সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে বিবেক কুমারকে গানও গাইতে হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই পর্যায়ের সখ্যতা থাকার পরেও রাতারাতি কীভাবে পদের রদবদল ঘটে গেল তা বুঝতে কারও বাকি নেই। গত মাসে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সচিবকে রীতিমতো চিঠি দিয়ে রাজ্যের করোনা আক্রান্তের আসল পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন তত্‍কালীন স্বাস্থ্য সচিব বিবেক কুমার। রাজ্য সরকার যে পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আনছিল, তার সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিবের উল্লেখিত পরিসংখ্যানের আকাশ পাতাল তফাত। সেই চিঠি যেকোনওভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যেতেই বিরোধীরা সরকারের নিন্দায় মুখর হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে রাজ্য আসে কেন্দ্রীয় দল। এরপর প্রায় দুদিন আর করোনা সম্পর্কিত বুলেটিনই প্রকাশ করেনি নবান্ন। এত বড় মতান্তরই যে বিবেক কুমারের স্বাস্থ্য সচিবের পদ থেকে অপসারণের অন্যতম কারণ তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ, কেরল সহ ১৪ রাজ্যের জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা কেন্দ্রের

এর আগে রেশন ব্যবস্থায় একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্যের সর্বত্র পর্যাপ্ত রেশন না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ বাড়ছিল। বিরোধীরাও এই বিষয়ে সরব হয়েছিলেন। সেইসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করে সরকার। সরানো হয় খাদ্যসচিবকে। দুর্নীতির অভিযোগে বহু রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে করোনা আবহে শুরু থেকেই অভিযোগে সরব ছিল বিরোধীরা। হাসপাতালগুলিতে অব্যবস্থা, চিকিত্‍সক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পিপিই-মাস্ক না থাকা, একের পর এক হাসপাতালে গাফিলতির জন্য চিকিত্‍সক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণ হওয়া এবং কোয়ারেন্টাইনে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা বারবার উঠে আসছিল।এমন এক জরুরি পরিস্থিতিতে একই সঙ্গে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সচিবকে পদ থেকে সরানোর ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনিক দুর্বলতাই প্রকট হল বলে মনে করছে ওাকিবহাল মহল।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close