fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিনা চিকিৎসায় আমার ছেলেকে খুন করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মীরা…

বেলঘরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের ইছাপুরের মৃত ছাত্রের মায়ের

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: বিনা চিকিৎসায় উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরের নাবালক মৃত্যুর ঘটনায় এবার বেলঘরিয়ার বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে বেলঘরিয়া থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন ইছাপুরের মৃত ওই নাবালক ছাত্রের অভিভাবকরা। এদিন মৃতের মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় বেলঘরিয়া থানায় এসে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “আমার একমাত্র ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে।আমার ছেলের করোনা উপসর্গ ছিল না।

আরও পড়ুন:করোনার চাইতেও বড় ক্ষতিকর ভাইরাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ

আমার ছেলে সাময়িক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। বাড়ি থেকে আমার ছেলে হেঁটে ডাক্তার দেখাতে গাড়িতে উঠেছিল। আমি আমার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে যখন বেলঘরিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে আসি, তারা জানায় আগে আমার ছেলের কোভিড টেস্ট হবে, তারপর ওরা সিদ্ধান্ত নেবে ভর্তি নেওয়া হবে কি হবে না। সেই মত ওরা ওর রক্ত নিয়ে কি পরীক্ষা করল জানি না। মাত্র ৩ মিনিটে হাতে লেখা রিপোর্টে ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাল আমার ছেলে নাকি করোনা পজিটিভ, তাই ওরা ভর্তি নেবে না। আমার প্রশ্ন একটাই তিন মিনিটে কেউ করোনা পজিটিভ রিপোর্ট কি করে দিতে পারে ? আমি বিশ্বাস করি না আমার ছেলের করোনা উপসর্গ ছিল। ওই রিপোর্টের কারণে আমার ছেলেকে সব হাসপাতাল ফিরিয়ে দিচ্ছিল। সবাই বলেছে বেড নেই। একটা বেসরকারি হাসপাতাল তিন মিনিটের কি হাতে লেখা রিপোর্ট দিল, তাতেই কি প্রমাণ হয় আমার ছেলে করোনা পজিটিভ?

আরও পড়ুন:ব্যাঘ্রশুমারিতে রেকর্ড গড়ে গিনেস বুকে নাম উঠল ভারতের

কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যখন ভর্তি নিল, তখন আমার ছেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে বিধ্বস্ত। আমার ছেলের অবস্থা কাহিল হয়ে গেছে। ওকে কোন রকম চিকিৎসা পরিষেবা না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। আমি চাই আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হোক, ওর মৃতদেহ আমাদের দেয় নি কলকাতা মেডিকেল কলেজ। আমরা চাই ওর দেহের ময়নাতদন্ত করা হোক। একটা বেসরকারি হাসপাতালের হাতে লেখা রিপোর্টে কি করে সরকারি হাসপাতাল বলে দিচ্ছে আমার ছেলের করোনা ছিল? আমি সমগ্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি। আমার ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা খুন করেছে। আমি আমার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর ন্যায্য বিচার চাই । আমার ছেলের করোনা ছিল কি না তা পরীক্ষা করে দেখুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যদি ছেলের করোনা না হয়ে থাকে তবে ছেলের মৃতদেহ আমাদের হাতে ফিরিয়ে দিক ।”

Related Articles

Back to top button
Close