fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বরাদ্দ ১২ কোটি, পথশ্রী প্রকল্পে ৭৩৯ টি রাস্তা তৈরি নিয়ে বর্ধমানে শাসক বিরোধী তর্জা তুঙ্গে

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান: রাস্তার পুনর্গঠন ও সংস্কারের জন্যে প্রতিদিনই পূর্ব বর্ধমানের গ্রামীন এলাকায় চলছে ঘটাকরে ফিতে কাটা অনুষ্ঠান । নির্দেশ এসেছে সব রাস্তার কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার ।এতকিছুর পরেও ৭৩৯ টি রাস্তার জন্যে জেলার খাতে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ১২ কোটি টাকা । আর এই বিষয়টি সামনে আসার পরেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন ওই টাকায় আদৌকি প্রস্তাবিত সব রাস্তার সংস্কার ও পুনর্গঠন সম্ভব হবে । বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন,রাজ্যের
শাসক দল বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে
নতুন স্টাইলে ধাপ্পা দিচ্ছে ।

মুখ্যমন্ত্রী এই রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার রাস্তার উন্নয়নের জন্যে এক অক্টোবর ‘পথশ্রী’ প্রকল্প চালু করেন। প্রকল্পের উদ্দেশ্য বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তাগুলির পুনর্গঠন ও তার সংস্কার । সেই পথশ্রী প্রকল্পে ৭৩৯ টি রাস্তার নাম পাঠায় পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন দফতর। যারমধ্যে রয়েছে ৩০০ কিমির বেশী দৈর্ঘ্যের জেলা পরিষদের ৮৮টি রাস্তা । ঠিকাদাররা বলছেন প্রকল্পের ওই রাস্তার ১ কিমি সংস্কার করতে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। তবেই ওই রাস্তা চলাচলের উপযুক্ত হবে। সেই অনুয়ায়ী মাত্র ১২ কোটি টাকায় জেলা পরিষদের নির্ধারিত পুরো রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ করা কোন ভাবেই সম্ভব নয় । জানাগিয়েছে এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ঠিক করেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তা সংস্কারের কাজ করা হবে। এই সংক্রান্ত চিঠি ইতিমধ্যেই নবান্নতে পাঠিয়েছেন জেলাশাসক বিজয় ভারতি ।

জেলাশাসক বিজয় ভারতি জানিয়েছেন , “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মত পথশ্রী প্রকল্প আমাদের জেলাতেও শুরু হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তার কাজ করা হবে।ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা প্রকল্পের কাজ শেষ করব। জেলাশাসক আরও জানান, গ্রামের মানুষজন যে সব রাস্তা বেশি ব্যবহার করেন এবং যেসব রাস্তা ধরে মানষজনকে স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র , স্বাস্থ্যকেন্দ্র ,বাজার, হাট, খেতজমি, হিমঘর যাতায়াত করতে হয় সেই সব রাস্তাকেই অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হচ্ছে।”

জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেম জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দী । তিনি বলেন ,“রাস্তার শিলান্যাস ও ফিতে কেটে উদ্বোধনের এখন হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে জেলায় । অথচ অর্থ দরাদ্দের বেলায় ভাঁড়ে ম ভবানি অবস্থা । আশলে বিধানসভা ভোটের আগে গ্রামের মানুষজনকে নতুন স্টাইলে ধাপ্পা দিয়ে তাদের কাছে পাবার চেষ্টা চলছে । তবে এসব করে লাভ কিছু হবে না । গ্রামের মানুষ শাসক দলের ছল চাতুরি সব বোঝেন । বিধানসভা ভোটে গ্রামের মানুষজন ছলচাতুরির জবাব দেবার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে । ” যদিও বিজেপি নেতার এই বক্তব্যের পাল্টা সমালোচনা করেছেন জেলাপরিষদের সহ-সভাধীপতি দেবু টুডু । তিনি বলেন , “তৃণমুল সরকারের হাতধরে জেলার গ্রামেগঞ্জে কি উন্নয়ন হয়েছে তা গ্রামের মানুষজন নিজের ছোখে দেখতে পাচ্ছেন । গ্রামের মানুষজন সেই কারনেই উন্নয়ন কর্ম যজ্ঞে সামিল হন । বিরোধীরা সেই উন্নয়নের সুবিধা ভোগ করলেও মুখে তা স্বীকার করতে চান না । কারণ বিরোধীরা তৃণমূল সরকারের উন্নয়ন দেখে আদতে নিজেরাই কষ্ট পায় । ”

Related Articles

Back to top button
Close