fbpx
অসমকলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মানুষের ত্রাণ চুরি হচ্ছে: তথাগত রায়

রক্তিম দাশ, কলকাতা: বাংলায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল সরকারের সংঘাত অনভিপ্রেত! যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারের এই মন্তব্য করলেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়। তিনি বলেন, আমি মনে করি না রাজ্যপাল ধনকর কোনও অসাংবিধানিক কাজ করছেন। উনি নির্বাচিত সরকারকে এড়িয়ে কিছু করছেন না। রাজ্যপালের রাজ্যের সব কিছু জানার অধিকার আছে। এবং তা জানাতে রাজ্য সরকার বাধ্য।

রাজ্যের যেকোনও বিষয়ে রাজ্যপাল পরামর্শ দিতেই পারেন। উনি এবিষয়ে রাজ্যের অধিকার লঙ্ঘন করেছেন কিনা আমি তা জানি না। ’
তথাগতবাবুর আরও বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, রাজ্যপাল ধনকর রাজ্য সরকারের পরামর্শ মানেননি এমনও নয়। আমি তাঁর বক্তব্যে আপত্তিকর কিছু পাইনি। তিনি কোনও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেননি। উলটে রাজ্য সরকারই তাঁর প্রতি অসাংবাধনিক আচরণ করছে, অভব্য আচরণ করেছে। রাজ্যের মন্ত্রীরা তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন। আসলে মুখ্যমন্ত্রী অন্যের মুখ দিয়ে এসব বলাচ্ছেন।’

আরও পড়ুন:হরিগুরুচাঁদকে কটুক্তিতে ক্ষুব্ধ মতুয়ারা, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দুলালের

বাম আমলে এধরণের সংঘাত হয়েছিল উল্লেখ করে তথাগত রায় বলেন, ‘ সিপিএমও রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্র সহ বিভিন্ন বিষয়ে খবরদারি করত। ওই আমলেও তৎকালীন রাজ্যপালকে যথেষ্ঠ হেনস্থার স্বীকার হতে হয়েছিল বিভিন্ন ইস্যুতে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘাত হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য কিন্তু উপচার্য হয়েছিলেন।’

সম্প্রতি করোনা ও আমফানের ত্রাণ নিয়ে শাসকদলের দুর্নীতির সমলোচনা করে তথাগতবাবু বলেন, ‘এটা নিন্দনীয়। মানুষের ত্রাণ চুরি হয়ে যাচ্ছে সংবাদমাধ্যম থেকে এসব জানতে পারছি। কেউ ত্রাণ দিতে গেলে তাঁকে প্রশাসন আটকাচ্ছে। এসব তো সিপিএম আমলে হতো। এখনও হচ্ছে। আসলে বাম আমলের কার্বন কপি হচ্ছে এই আমলে।’

আরও পড়ুন:আমেরিকায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৩০ লাখ

বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতন নিয়েও বাংলার রাজনীতিকদলগুলো এবং বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চুপ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়। তিনি এদিন বলেন, ‘আজকের এই বাঙালি সংস্কৃতি কমিউনিস্টদের দান। বিদেশে কিছু হলে তাঁরা ক্ষোভে বরাবর ফেটে পড়েন। অথচ বাংলাদেশ নিয়ে সকলে চুপচাপ। এই নিশ্চুপ হয়ে থাকাটা দীর্ঘদিনের মূল্যবোধ। বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের কথা বললে তাঁদের ধর্মনিরপেক্ষতা আঘাত পায়। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী কেউ প্রতিবাদ করলে বাংলার বুকে তাঁকে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেওয়া হয়। বাংলার বেশির ভাগ মানুষই এই বিকৃত মূল্যবোধের শিকার হয়ে পড়েছেন। রাজনৈতিকদলগুলো সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের কারণে এসবের প্রতিবাদ করে না। আসলে নেহেরু সচেতনভাবেই আমাদের দেশে এই অদ্ভূত ধারণাগুলি তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন’।

Related Articles

Back to top button
Close