fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বন্ধ মৎস্য আহরণ! ক্ষতির মুখে মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিকরা

ভীষ্মদেব দাশ, পূর্ব মেদিনীপুর: করোনা মুক্ত ভোরের অপেক্ষায় বিশ্ববাসী। কবে করোনা ভাইরাস বিদায় নেবে সেকথা সকলের অজানা। এই পরিস্থিতিতে সর্বনাশের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। মাছ ধরার মরশুম চলে এলেও লকডাউনের কারণে সমুদ্রে যাওয়ার কোনও প্রস্তুতিই এবার নিতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। প্রতি বছরের মতই ১৫জুন থেকে শুরু হবে সমুদ্রে মাছ ধরার মরশুম। সমুদ্রে যাওয়ার জন্য মৎস্যজীবীরা প্রাথমিক কাজ শুরু করে দেন এপ্রিলের শেষ থেকেই। মৎস্যজীবীরা দাদন দিয়ে চুক্তি পাকা করেন লঞ্চ-ট্রলারের মালিকদের সাথে। নতুন, পুরোনো লঞ্চ-ট্রলার তৈরি ও মেরামতের কাজও চলে।

পাশাপাশি মাছ ধরার জাল সারাই-বাঁধাইয়ের কাজও। কিন্তু করোনার গ্রাসে এবার সমুদ্রে যাওয়ার কোনও প্রস্তুতিই নেই কাঁথির পেটুয়া মৎস্য বন্দর, শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর, শৌলা কিংবা দিঘা মোহনা মৎস্য বন্দরে। ব্যাস্ততার পরিবর্তে মৎস্য বন্দরগুলি কার্যত শুনশান। প্রসঙ্গত পূর্ব মেদিনীপুরে ৩৬১৬ টি অনুমোদিত লঞ্চ-ট্রলার ও ভুটভুটি সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। লক্ষাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘ বছর এই পেশায় থাকলেও মহামারীর কারণে এই প্রথম পেশাগত জীবনে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। দিঘা ফিশারম্যান এন্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, মাছের সঙ্কট, দুর্যোগের ফলে গত মরশুমেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: শিশুদের পুষ্টিকর খাবার বিলি করল ফিনিক্স

লকডাউনের জন্য এবার ট্রলার তৈরি, জাল কেনা, কিছুই করা যায়নি। ব্যবসায় টাকা লগ্নির জন্য ব্যাঙ্ক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ব্যাঙ্ক ঋণও এখন পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা এখন দিশেহারা। লকডাউন উঠে যাওযার পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কিনা দোটানায় রয়েছেন লঞ্চ-ট্রলার মালিকরা। ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন মালিকরা। সমুদ্রে মৎস্য আহরণ বন্ধ, পাশাপাশি বন্ধ হয়েছে বিদেশে মাছ রপ্তানিও। উপকূলবর্তী এলাকার লক্ষাধিক মৎস্যজীবী, ট্রলার, ভুটভুটির মালিকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close