fbpx
ব্লগহেডলাইন

শিক্ষার নামে ধর্ম প্রচারে ছাড় দেওয়া বন্ধ হোক

আর কে সিনহা: “শিক্ষার নামে ধর্ম প্রচারের অনুমতি থাকা কী উচিত?”, এই প্রশ্ন বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ধর্ম প্রচারের কারণে আমাদের দেশ এবং গোটা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে, এটা জানা নেই এমন কেউ হয়তো নেই। এটা কী সত্য নয়, ভারতে নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাঁদের ধর্ম প্রচারের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে? কখনও কখনও মনে হয় এই বিষয়ে দেশে প্রকাশ্যে তর্ক হওয়া উচিত, ভারতে ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতা থাকা উচিত নাকি নয়? নিজ ধর্ম পালনের অধিকার থাকা উচিত সকলের। কিন্তু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবুঝ শিশুদের নিজ ধর্ম সম্পর্কে ভালো, অন্য ধর্মের খারাপ দিক বোঝানো অথবা ঘৃণা তৈরি কী উচিত? ধার্মিক উন্মাদরা তো এমনটাই করছে। ধর্ম কোনও দোকান অথবা ব্যবসা নয়, যে প্রচার-প্রসার করা অত্যন্ত জরুরি। ভারতীয় সংবিধানে ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে।

অনুচ্ছেদ ২৫ (১)-এ বলা হয়েছে, “সকল ব্যক্তি সমানভাবে ধর্ম প্রচার করার ক্ষেত্রে স্বাধীন।” কিন্তু অনুচ্ছেদ ২৬ অনুযায়ী, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কার্যকারিতাতেও শান্তি ও নৈতিকতার শর্ত রয়েছে। অনুচ্ছেদ ২৮-এ বলা হয়েছে, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও ধর্মীয় নির্দেশ দেওয়া যাবে না।

আমরা যদি ইতিহাসের দিকে দেখি, ভারতের সংবিধানের প্রণেতারা সমস্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়কে তাঁদের ধর্ম প্রচারের অনুমতি দিয়েছিল। এটার কী কোনও প্রয়োজন ছিল? এটা মানতেই হবে ইসলাম এবং খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসীরা লাগাতার প্রচেষ্টা করছেন, অন্য ধর্মের মানুষজন যাতে যেন-তেন প্রকারেণ যে কোনও লোভে তাঁদের ধর্মের অংশ হয়ে ওঠেন। এটা একেবারে কঠিন সত্য। কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না। এই বিষয়ে দেশে বারবার বিতর্কও হয়েছে, এবং অভিযোগ উঠছে এই সমস্ত ধর্মের ঠিকাদাররা দরিদ্র আদিবাসী, দলিত প্রভৃতি শ্রেণীর মানুষজনকে তাঁদের ধর্মের অংশ হিসাবে পরিণত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। মাদার টেরিজার বিরুদ্ধেও ধর্মান্তকরণের অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে ইসলামের প্রচারকরা কিছু না বলেই ধর্মান্তকরণের সুযোগ খুঁজে চলেছে। তবে মুসলমানদের আঞ্জুমান ইসলাম শিক্ষার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় কাজ করেছে। মুম্বইয়ে তা সক্রিয়। এখন আপনারাই দেখুন আর্য সমাজ, সনাতন ধর্ম এবং শিখদের পক্ষ থেকে দেশে শত শত স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ইত্যাদি চলছে। তবে তাঁরা কখনও কোনও খ্রিস্টান বা মুসলমানকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেননি। একটি ছোট উদাহরণ দিতে চাই। এমডিএইচ নামক মশলা তৈরির প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মহাশয় ধর্মপাল গুলাটিকে গোটা দেশ ভালোভাবেই জানে। তিনি একজন প্রকৃত আর্য সমাজী। গোটা দুনিয়ায় তাঁকে ‘কিং অফ স্পাইস’ আখ্যা দেওয়া হয়। দেশের রাজধানীতে একটি হাসপাতাল এবং বহু স্কুল পরিচালনা করেন তিনি। তিনি কী কখনও কোনও অ-হিন্দুকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন?

শুধুমাত্র ভারত নয়, গোটা বিশ্বে ধর্ম পরিবর্তন একটি জটিল বিষয়। এই বিষয়ে লাগাতার বিতর্ক হওয়া উচিত। কাউকে ভয় দেখিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে অথবা লাভ জিহাদের মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তন করা সঠিক নয়। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ধর্মপ্রচার বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু, এটা দেখা উচিত ধর্মের নামে কেন বিবাদ হচ্ছে। যদি ধর্ম প্রচারের জন্য হয়, তাহলে কাঁদের জন্য হচ্ছে? একটি মতামতও রয়েছে, ভারতের ভূমিতে যে ধর্মগুলি উত্থিত হয়েছে সেই সমস্ত ধর্ম প্রচার করার জন্য ভারতে স্বাধীনতা থাকা উচিত। যেমন হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ। নিজ ভূমিতেই যদি এই সমস্ত ধর্ম অধিকার হারিয়ে ফেলে তাহলে বড় অন্যায় করা হবে। সমস্যার প্রধান কারণ ইসলাম ও খ্রিস্টান। ইসলাম ও খৃষ্টধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মের মধ্যে বিরোধ নেই। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের প্রচার নিষিদ্ধ হওয়া অবশ্য যুক্তিসংগত মনে হবে।

সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রাক্কল পার্সি ধর্ম নিয়েও কথা বলা উচিত হবে। এটাও ভারতীয় ভূমির ধর্ম। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মতোই এসেছে এই ধর্ম। যাইহোক, পার্সিরা ভারতে কখনও তাঁদের ধর্ম প্রচারের চেষ্টা করেনি। ভারতে টাটা, গোদরেজ, ওয়াদিয়ার মতো বড় শিল্পপতি রয়েছেন। এই সমস্ত প্রতিষ্টালনে কয়েক লক্ষ মানুষ কাজ করেন। দেশ নির্মাণের কাজ করছেন তাঁরা। গোটা দেশ তাঁদের প্রসংশা করে। তাঁদের নিয়ে কারও কোনও সমস্যা নেই। এরইমধ্যে, ধর্মের অবধারণার থেকে ভিন্ন ধর্মের খেয়াল। ধর্মীয় প্রচার নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যদি বিতর্ক হয় এবং যদি এটি নিয়ে আইন করা হয় তবে ক্ষতি কী? একবার এই ব্যবস্থা হয়ে গেলে, জানা যাবে কত মানুষ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছে এবং কতজন সেবার নাম ধর্মান্তকরণ করতে ব্যস্ত।

Related Articles

Back to top button
Close