fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টির তাণ্ডবে বাঁধ ভাঙল পাথরপ্রতিমায়, প্লাবিত সুন্দরবনের একাধিক এলাকা

বিশ্বজিত হালদার, কাকদ্বীপ: কোটালের জলোচ্ছ্বাস ও টানা বৃষ্টির জেরে প্লাবিত হল সুন্দরবনের উপকূলবর্তী একাধিক এলাকা। চাষের জমি, পুকুর ডুবে গিয়েছে। ভেঙেছে বেশ কিছু কাঁচা বাড়িও। বাড়িতে জল ঢোকায় বাঁধের পাশ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিছু মানুষকে। বুধবার রাত থেকেই ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয় সারা জেলা জুড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে। অমাবস্যার কোটালের জেরে নদী ও সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধ উপচে নোনা জল ঢুকতে থাকে উপকূলবর্তী এলাকায়। আমফান পরবর্তী সময়ে দ্রুত বাঁধ মেরামত না হওয়ার জেরে পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগ অনেক এলাকায় বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করে। কিন্তু বেহাল বাঁধ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। এতটাই ছিল ফলে তাদের তা করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসন এই বিষয়ে নজর রাখছে। আগামী দুদিন সুন্দরবন জুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে এবং জলোচ্ছ্বাসও হবে। সব মিলিয়ে আগামী কয়েকদিন সুন্দরবনে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। সেচ দফতরের কর্মীরা বেহাল বাঁধ মেরামতির চেষ্টা করছেন।

 

সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমা, নামখানা, সাগর ও রায়দিঘি এলাকার বহু এলাকায় নদী ও সমুদ্রের বাঁধ উপচে জল ঢুকছে। সাগরের বঙ্কিমনগর, সুমতিনগর, বোটখালি, সাউঘেরি, ঘোড়ামারা এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর এলাকার মানুষের দাবি ছিল স্থায়ীভাবে নদী বাঁধ মেরামতের। কিন্তু জমির সমস্যা ছিল। সেই সমস্যা কাটিয়ে এখানে নদী বাঁধ মেরামতের জন্য ১৯কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। নদী বাঁধ মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে কয়েকটি এলাকায়। মৌসুনির পয়লাঘেরিতে নদী বাঁধ মেরামতের জন্য ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। মৌসুনি ও ঘোড়ামারাতে নদী বাঁধ ভেঙেছে। সাগরে ২০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতিশ্রুতি রাখলেন ট্রাম্প… ফের ১০০টি উন্নতমানের ভেন্টিলেটর তুলে দেওয়া হল ভারতের হাতে

পাথরপ্রতিমার জি-প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবর্ধনপুরে বুধবার রাতে প্রায় ১৫০ – ২০০ ফুট নদী বাঁধ ভেঙে যায়। এদিন সকালে সেচ দফতরের আধিকারিকরা ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিতভাবে গ্রামবাসীদের নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সঙ্গে সেই বাঁধ মেরামতের কাজে হাত লাগিয়েছে। এছাড়া গোপালনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের টুকরা গোপালনগরে আমফানের সময়ে বাঁধ ভেঙে ছিল। পরবর্তীতে সেখানে কোর বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। আবার সেই কোর বাঁধ রক্ষা করার জন্য একটা রিং বাঁধ দেওয়া হয়। এদিনের জলোচ্ছ্বাসে কোর বাঁধ ভেঙে জলোচ্ছ্বাস রিং বাঁধে গিয়ে আটকে যায়। এছাড়া দূর্বাচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সুইলিস গেটের ফাটল দিয়ে জল ঢুকে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রামগঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের গিরির মোড় সংলগ্ন নদীর সঙ্গে খালের সংযোগকারী নদী বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঝড় ও বৃষ্টির জেরে রায়দিঘির মণি নদীর জলোচ্ছ্বাসের ফলে এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই জল ঢুকে পড়ে রায়দিঘি বাজারে। জলমগ্ন হয়েছে বাজারের দোকান, ব্রিজ সংলগ্ন ঘরবাড়ি, ধানের গোলা। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, রায়দিঘি বাজারের সঙ্গে মনি নদী সংলগ্ন নিকাশি কালভার্ট ছিল। সেটা ভেঙে গিয়ে এই বিপত্তি হয়েছে। সমস্ত জায়গায় আশ্রয়হীন মানুষজনকে প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা জানান, কোটাল ও বৃষ্টির জেরে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেচদফতরকে দ্রুত ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

Related Articles

Back to top button
Close